কোরবানির পশুর বাজারে ব্যাপক আলোচিত হওয়ার পর 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামে পরিচিতি পাওয়া অ্যালবিনো মহিষটি এখন বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ। ঈদের আগের দিনই প্রাণীটিকে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং কোরবানি না করে সংরক্ষণ করার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এক বিবৃতিতে বলেন, অ্যালবিনো মহিষটি বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা হওয়ায় সংরক্ষণের জন্য জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু 'বিরল প্রজাতি' কথাটি নিয়েই আপত্তি বিজ্ঞানীদের। প্রাণিসম্পদ গবেষকরা বলছেন, অ্যালবিনো আসলে মহিষের কোনো জাত নয় — এটি প্রাণীর একটি জেনেটিক বৈশিষ্ট্য মাত্র।
জিনগত পরিবর্তনের ফলে প্রাণীর দেহে মেলানিনের অভাব হলে এমনটি হয়, আর এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যালবিনিজম, যা যেকোনো জাতের মহিষেই বিরলভাবে দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের প্রধান ড. মো. মুনির হোসেন বলছেন, "অ্যালবিনিজম সত্যিকার অর্থে এক ধরনের জেনেটিক ডিজঅর্ডার বা ক্যারেক্টার, এটা বিরল।"
দর্শনার্থীদের আগ্রহ অবশ্য কমেনি। ঈদের পরদিন মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় হাজারো দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে এবং প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার সময় অনেককেই "ডোনাল্ড ট্রাম্প কোন পাশে?" জিজ্ঞেস করতে শোনা গেছে।
চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থী আসাদুজ্জামান কানন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ভালোই লাগলো, চিড়িয়াখানায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখলাম, চুল এবং গায়ের রঙের সাথে মিল আছে।" প্রজননবিদ্যার দিক থেকে খামারির জন্য শিক্ষাটি সহজ — গায়ের রং দিয়ে জাত চেনা যায় না, জাত চেনা যায় বংশধারা ও উৎপাদন রেকর্ড দিয়ে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)