বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লেগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের তিনটি গভীর নলকূপ। আওয়ালগাড়ী-উলিপুর মাঠের এই তিন স্কিমের প্রায় ৫০০ বিঘা আমনখেত সেচের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বুধবার মাঠে দেখা গেছে, অনেক জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে, কোথাও ধানের গোছা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, আমনের আবাদ অনেকটাই বৃষ্টিনির্ভর, কিন্তু এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ লাগছে, আর এই মাঠের সেচের প্রধান উৎস ওই তিন নলকূপ। চার বিঘায় আমন করা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সেচ দিতে না পারায় মাটি ফেটে চৌচির, ধান শুকিয়ে যাচ্ছে; শেষ সময়ে সেচ না হলে পুরো বিনিয়োগ নষ্ট হবে। সেকেন্দার আলীর আশঙ্কা, কয়েক দিন এভাবে চললে ফলন মারাত্মক কমে যাবে।
নলকূপমালিক আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে বোরো মৌসুমের শেষ দিকে শর্টসার্কিট থেকে একটি খুঁটিতে আগুন লাগে। ওই লাইন থেকেই তাঁর দুটি আর পাশের আরেকটি স্কিমের নলকূপে বিদ্যুৎ যেত। জুনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি; পল্লী বিদ্যুতে গেলে বরেন্দ্র অফিসে, আর বরেন্দ্রে গেলে পল্লী বিদ্যুতে যেতে বলা হয়, এভাবেই পাঁচ মাস কেটে গেছে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আক্কেলপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মনসুর আলী সরদার বলেন, তিনি দুই দিন আগে বিষয়টি জেনে পল্লী বিদ্যুৎকে সংযোগ পুনঃস্থাপনের অনুরোধ করেছেন, আর সংযোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুর রহমান সরকারের দাবি, বোরো মৌসুমের শেষে কৃষকেরা একটি দায়সারা অভিযোগ দিয়ে চলে যান, পরে আর যোগাযোগ না করায় সমাধান হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি তিনি সেদিনই জেনেছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং মাঠ পরিদর্শন করা হবে; দ্রুত সমাধানের আশা করছেন তিনি। প্রতিবেদনটি সমকালের আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতার।
সূত্র: সমকাল



মন্তব্য
(০)