সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩০°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৬৫%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

না মেপে আফ্রিকার ফসল-পরবর্তী ক্ষতি অর্ধেক করা যাবে না: এজিআরএর লেখকদের মত

এজিআরএর এক মতামত লেখায় চার লেখক বলেছেন, সাব-সাহারান আফ্রিকা ফসল তোলা থেকে বাজার পর্যন্ত প্রায় ২৩ শতাংশ খাদ্য হারায়, ২০৩৫ সালের মধ্যে ক্ষতি অর্ধেক করার লক্ষ্যের কোনো ভিত্তিরেখা নেই, আর সংরক্ষণ প্রযুক্তি ছড়ায় তখনই, যখন বাজারে তা লাভজনক হয়।

না মেপে আফ্রিকার ফসল-পরবর্তী ক্ষতি অর্ধেক করা যাবে না: এজিআরএর লেখকদের মত
মতামত

আফ্রিকা ফসল-পরবর্তী ক্ষতি অর্ধেক করার অঙ্গীকার পূরণ করতে পারবে না, যদি আগে ক্ষতিটা মাপা না হয়। এজিআরএর প্রকাশিত এক মতামত লেখায় এ যুক্তি দিয়েছেন আসান এনগোম্বে (Assan Ng'ombe), কিন্ডি তেসফায়ে (Kindie Tesfaye), জ্যাকুলিন চেপকোয়েচ (Jacqueline Chepkoech) ও এরিক কাটাকা মুকাবি (Eric Kataka Mukabi)। মতামত লেখকদের নিজস্ব।

এফএওর তথ্য উদ্ধৃত করে তাঁরা লিখেছেন, সাব-সাহারান আফ্রিকা ফসল তোলা থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত আনুমানিক ২৩ শতাংশ খাদ্য হারায়; বিশ্বে গড় ১৩.৩ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে প্রায় ১০ শতাংশ। এফএওর মতে, ২০১৫ সালের পর বিশ্বে এই ক্ষতি কমানোয় "দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই"। লেখকেরা মনে করিয়ে দেন, জাতিসংঘের হিসাবে ২০২৬ সালে প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ আফ্রিকান ক্ষুধায় ভুগছে, যা যেকোনো মহাদেশের চেয়ে বেশি।

২০১৪ সালের মালাবো ঘোষণায় আফ্রিকার নেতারা ২০২৫ সালের মধ্যে ফসল-পরবর্তী ক্ষতি অর্ধেক করার অঙ্গীকার করেছিলেন। লেখকদের ভাষ্যে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫৪টি দেশের মাত্র পাঁচটি ক্ষতির যথেষ্ট তথ্য দিয়েছিল, আর লক্ষ্য পূরণ না করেই সময়সীমা পেরিয়ে যায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারির কাম্পালা ঘোষণা ২০৩৫ সালের মধ্যে ক্ষতি অর্ধেক করার লক্ষ্য নতুন করে ঠিক করেছে, কিন্তু মহাদেশীয় কোনো ভিত্তিবছর স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়নি। তাঁদের কথায়, "ভিত্তিরেখা ছাড়া লক্ষ্য আসলে লক্ষ্যই নয়।" আফ্রিকা বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের শস্য হারায়, বহুল উদ্ধৃত এই হিসাবটি ২০০৭ সালের বাজারদর ধরে করা বিশ্বব্যাংকের ২০১১ সালের এক গবেষণার।

লেখকদের মতে, প্রযুক্তির অভাব নেই। নেদারল্যান্ডসের ভাগেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উদ্ধৃত করে তাঁরা বলেন, ২০০ দিন রাখার পর সাধারণ বোনা পলিপ্রোপিলিনের বস্তায় ভুট্টার ওজন প্রায় ৩৬ শতাংশ কমেছে, আর বায়ুরোধী (হারমেটিক) বস্তায় কমেছে মাত্র ১.৫ শতাংশ। তবু ব্যবহার কম: মালাউইতে হারমেটিক বস্তার সঙ্গে পরিচিত ৬২৭ কৃষকের ওপর এক গবেষণায় মাত্র ৭ শতাংশ নিয়মিত তা ব্যবহার চালিয়ে গেছেন। উগান্ডা ও মালাউইতে ফসল তোলার পর থেকে অভাবের মৌসুম পর্যন্ত ভুট্টার দাম অনেক বাড়ে বলে বস্তাগুলো লাভজনক ছিল, কিন্তু জাম্বিয়ায় মৌসুমি দামের পার্থক্য কম হওয়ায় ততটা নয়। লেখকদের ভাষায়, "বস্তা বদলায়নি, ভুট্টা বদলায়নি, জীববিজ্ঞানও বদলায়নি। বদলেছে বাজার।"

তাঁরা উল্লেখ করেছেন রি-গেইন (RE-GAIN) কর্মসূচির কথা: গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের সহায়তায় বুরকিনা ফাসো, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, মালাউই, তানজানিয়া, উগান্ডা ও জাম্বিয়ায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ। এর জরিপে দেখা গেছে, হারমেটিক বস্তা ও শুকানোর ত্রিপল মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে, কিন্তু ধাতব ও প্লাস্টিকের সাইলো বেশির ভাগ ক্ষুদ্র কৃষকের নাগালের বাইরে, আর গড়ে একজন কৃষককে সরবরাহকারীর কাছে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা হাঁটতে হয়। কর্মসূচির এলাকায় খাদ্য অপচয় থেকে বছরে আনুমানিক ১,৬৭,০০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য গ্যাস নির্গত হয়।

লেখকদের প্রস্তাব তিনটি: প্রতিটি দেশ ভিত্তিরেখা ঠিক করে প্রকাশ করবে এবং প্রতিবছর অগ্রগতি জানাবে; সংরক্ষণ প্রযুক্তি কৃষকের কাছাকাছি, সাধ্যের দামে ও পরিশোধযোগ্য ঋণে বিক্রি হতে হবে; আর গুদাম রসিদ, একত্রীকরণ ও বাজার তথ্যের মাধ্যমে শস্য ধরে রাখাকে লাভজনক করতে হবে। তাঁদের কথায়, "যেখানে শস্য সংরক্ষণে বেশি আয় হয় না, সেখানে কৃষক সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবেন না।"

ছবি: icipe / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সূত্র: এজিআরএ

এজিআরএসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

খাদ্য সংস্কৃতি বদলাচ্ছে, মান আর নিরাপত্তা কি টিকছে: এক শেফের প্রশ্ন

সমকালে প্রকাশিত কলামে শেফ জাহেদ আহমেদ লিখেছেন, প্রক্রিয়াজাত খাবার সমস্যা নয়; সমস্যা হয় যখন মান ও উপকরণের চেয়ে কম খরচে বেশি লাভই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

সমকাল৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ, সঙ্গে বেড়েছে অপচয় আর ক্ষুধা: উম্মে সালমার কলাম

দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত কলামে উম্মে সালমা লিখেছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ ক্ষয় বা অপচয় হয়, অথচ দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারেন না।

দ্য ডেইলি স্টার৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ইসলাম

দ্বৈত নাগরিকের হজ: বাংলাদেশ কোটায় যাওয়া বৈধ, পাসপোর্টে লুকোচুরি নয়

যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার নাজির আহমদ লিখেছেন, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকেরা বাংলাদেশের কোটায় হজে যেতে পারেন, তবে ফেরার পথে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে পাসপোর্ট বদলানো নৈতিক ও আইনগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

বার্তা২৪৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)