আফ্রিকা ফসল-পরবর্তী ক্ষতি অর্ধেক করার অঙ্গীকার পূরণ করতে পারবে না, যদি আগে ক্ষতিটা মাপা না হয়। এজিআরএর প্রকাশিত এক মতামত লেখায় এ যুক্তি দিয়েছেন আসান এনগোম্বে (Assan Ng'ombe), কিন্ডি তেসফায়ে (Kindie Tesfaye), জ্যাকুলিন চেপকোয়েচ (Jacqueline Chepkoech) ও এরিক কাটাকা মুকাবি (Eric Kataka Mukabi)। মতামত লেখকদের নিজস্ব।
এফএওর তথ্য উদ্ধৃত করে তাঁরা লিখেছেন, সাব-সাহারান আফ্রিকা ফসল তোলা থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত আনুমানিক ২৩ শতাংশ খাদ্য হারায়; বিশ্বে গড় ১৩.৩ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে প্রায় ১০ শতাংশ। এফএওর মতে, ২০১৫ সালের পর বিশ্বে এই ক্ষতি কমানোয় "দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই"। লেখকেরা মনে করিয়ে দেন, জাতিসংঘের হিসাবে ২০২৬ সালে প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ আফ্রিকান ক্ষুধায় ভুগছে, যা যেকোনো মহাদেশের চেয়ে বেশি।
২০১৪ সালের মালাবো ঘোষণায় আফ্রিকার নেতারা ২০২৫ সালের মধ্যে ফসল-পরবর্তী ক্ষতি অর্ধেক করার অঙ্গীকার করেছিলেন। লেখকদের ভাষ্যে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫৪টি দেশের মাত্র পাঁচটি ক্ষতির যথেষ্ট তথ্য দিয়েছিল, আর লক্ষ্য পূরণ না করেই সময়সীমা পেরিয়ে যায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারির কাম্পালা ঘোষণা ২০৩৫ সালের মধ্যে ক্ষতি অর্ধেক করার লক্ষ্য নতুন করে ঠিক করেছে, কিন্তু মহাদেশীয় কোনো ভিত্তিবছর স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়নি। তাঁদের কথায়, "ভিত্তিরেখা ছাড়া লক্ষ্য আসলে লক্ষ্যই নয়।" আফ্রিকা বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের শস্য হারায়, বহুল উদ্ধৃত এই হিসাবটি ২০০৭ সালের বাজারদর ধরে করা বিশ্বব্যাংকের ২০১১ সালের এক গবেষণার।
লেখকদের মতে, প্রযুক্তির অভাব নেই। নেদারল্যান্ডসের ভাগেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা উদ্ধৃত করে তাঁরা বলেন, ২০০ দিন রাখার পর সাধারণ বোনা পলিপ্রোপিলিনের বস্তায় ভুট্টার ওজন প্রায় ৩৬ শতাংশ কমেছে, আর বায়ুরোধী (হারমেটিক) বস্তায় কমেছে মাত্র ১.৫ শতাংশ। তবু ব্যবহার কম: মালাউইতে হারমেটিক বস্তার সঙ্গে পরিচিত ৬২৭ কৃষকের ওপর এক গবেষণায় মাত্র ৭ শতাংশ নিয়মিত তা ব্যবহার চালিয়ে গেছেন। উগান্ডা ও মালাউইতে ফসল তোলার পর থেকে অভাবের মৌসুম পর্যন্ত ভুট্টার দাম অনেক বাড়ে বলে বস্তাগুলো লাভজনক ছিল, কিন্তু জাম্বিয়ায় মৌসুমি দামের পার্থক্য কম হওয়ায় ততটা নয়। লেখকদের ভাষায়, "বস্তা বদলায়নি, ভুট্টা বদলায়নি, জীববিজ্ঞানও বদলায়নি। বদলেছে বাজার।"
তাঁরা উল্লেখ করেছেন রি-গেইন (RE-GAIN) কর্মসূচির কথা: গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের সহায়তায় বুরকিনা ফাসো, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, মালাউই, তানজানিয়া, উগান্ডা ও জাম্বিয়ায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ। এর জরিপে দেখা গেছে, হারমেটিক বস্তা ও শুকানোর ত্রিপল মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে, কিন্তু ধাতব ও প্লাস্টিকের সাইলো বেশির ভাগ ক্ষুদ্র কৃষকের নাগালের বাইরে, আর গড়ে একজন কৃষককে সরবরাহকারীর কাছে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা হাঁটতে হয়। কর্মসূচির এলাকায় খাদ্য অপচয় থেকে বছরে আনুমানিক ১,৬৭,০০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য গ্যাস নির্গত হয়।
লেখকদের প্রস্তাব তিনটি: প্রতিটি দেশ ভিত্তিরেখা ঠিক করে প্রকাশ করবে এবং প্রতিবছর অগ্রগতি জানাবে; সংরক্ষণ প্রযুক্তি কৃষকের কাছাকাছি, সাধ্যের দামে ও পরিশোধযোগ্য ঋণে বিক্রি হতে হবে; আর গুদাম রসিদ, একত্রীকরণ ও বাজার তথ্যের মাধ্যমে শস্য ধরে রাখাকে লাভজনক করতে হবে। তাঁদের কথায়, "যেখানে শস্য সংরক্ষণে বেশি আয় হয় না, সেখানে কৃষক সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবেন না।"
ছবি: icipe / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এজিআরএ





মন্তব্য
(০)