প্রত্যন্ত এলাকার কিশোরীদের মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে দেশে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা। মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, গ্রামের বিভিন্ন মাদ্রাসায় অনেক কিশোরী মাসিকের সময় প্যাডের বদলে কাপড় ব্যবহার করে, অথচ সেই কাপড় ঠিকমতো পরিষ্কার, শুকানো ও সংরক্ষণ নিয়েও সচেতনতা দরকার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে পাওয়ার অব শি ট্রাস্টের ‘সুরক্ষিত স্বাস্থ্য, উচ্ছল তারুণ্য’ শীর্ষক আয়োজনে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কিশোরীদের জন্য বিদ্যালয়ে একটি প্যাড ব্যাংক দেওয়া হয়। ডা. গুলশান আরা বলেন, শুধু প্যাড দিলেই হবে না, প্যাড ব্যাংকের নিয়মিত তদারকি ও পরবর্তী কাজও নিশ্চিত করতে হবে।
ডা. শারমিন আব্বাসী বলেন, পিসিওএস কেবল ডিম্বাশয়ের সমস্যা নয়, এটি হরমোন ও বিপাকের ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত জটিলতা। অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত রক্তপাত বা তীব্র ব্যথা, হঠাৎ ওজন বাড়া, মুখে অবাঞ্ছিত লোম, ব্রণ ও অতিরিক্ত চুল পড়ার মতো লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন তিনি; সঙ্গে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়ার কথা বলেন।
ডা. হাসান শাহরিয়ার কল্লোল স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ও স্ক্রিনিং নিয়ে আলোচনা করে বলেন, স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। সাইকোলজিস্ট তানিয়া সুভাষিতা বলেন, ভয়, সংকোচ আর সামাজিক চাপে অনেক কিশোরী সাহায্য চাইতে পারে না, তাই পরিবার ও সমাজকে আরও সহায়ক হতে হবে।
পাওয়ার অব শি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সাবিনা স্যাবি বলেন, নারীর স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া বিলাসিতা নয়, এটি তার অধিকার; ছোটবেলা থেকে সঠিক জ্ঞান পেলে কিশোরী নিজের শরীরের পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে বুঝতে শেখে। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খান। আলোচনা পর্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পিসিওএস, মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য, স্তন ক্যানসার এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসকদের প্রশ্ন করেন।
ছবি: Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)