চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বেশির ভাগ ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা চলছে বারান্দার মেঝেতে। তাঁদের অনেকের মশারি নেই, স্যালাইন স্ট্যান্ডও কম; কাউকে ওয়ার্ডের জানালায় স্যালাইন ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ফ্যান নেই বলে স্বজনেরা হাতপাখায় বাতাস করছেন। দৈনিক আজাদীর জাহেদুল কবির এ চিত্র তুলে ধরেছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রকোপ বাড়ায় জুলাইয়ে ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডের মহিলা ব্লককে ডেঙ্গু ওয়ার্ড করা হয়, কিন্তু সেখানে শয্যা মাত্র ৩২টি। মঙ্গলবার দুপুরে ভর্তি ৮০ ডেঙ্গু রোগীর ৪৮ জনই ছিলেন বারান্দার মেঝেতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীকে সব সময় মশারির ভেতর রাখতে হয়, কারণ আক্রান্ত মানুষকে কামড়ানো মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তাঁরও ডেঙ্গু হতে পারে।
ফটিকছড়ি থেকে আসা রোগী নুর মোহাম্মদ বলেন, শয্যা খালি না থাকায় বারান্দায় খুব কষ্টে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পটিয়ার আমির হোসেন বলেন, বাবাকে ভর্তি করার পর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, কোনো ওয়ার্ডে জায়গা নেই, সব ওয়ার্ডেই ধারণক্ষমতার বেশি রোগী; নগরের সিআরবি এলাকার রেলওয়ে হাসপাতালকে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত করা হলে রোগীরা ভালো সেবা পাবেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, বাজেটও নেই; তবু মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চমেকের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাহেদ বলেন, ডেঙ্গু হলে আতঙ্কের কিছু নেই, তবে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগী এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের বাড়তি সতর্কতা দরকার; প্লাটিলেট নিয়ে আতঙ্কেরও কারণ নেই, বাড়তে শুরু করলে দ্রুতই বাড়ে। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টিতে জমা পানিতে এডিস মশা বাড়ছে, তাই কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবে চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১ জন, মারা গেছেন ২১ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৭ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বছর জেলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন, মৃত্যু ২৭; ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৩২৩ জন, মৃত্যু ৪৫; ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৮৭ জন, মৃত্যু ১০৭।
ছবি: Shahinur70 / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দৈনিক আজাদী





মন্তব্য
(০)