ভারতের অ্যাবসলিউটের (Absolute) কৃষি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনেরা (INERA) বায়ারের সঙ্গে কৌশলগত বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে গেছে। লক্ষ্য, ফসলের পুষ্টি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো এবং মাটি ও গাছের স্বাস্থ্য ভালো রাখার একটি জৈব ফসল-পুষ্টি পণ্য আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছানো, জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম। বায়ার তার বিক্রয় নেটওয়ার্কে পণ্যটি বাজারজাত ও বিতরণ করবে; বাণিজ্যিক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
পণ্যের নাম, দাম, বিক্রির লক্ষ্য বা প্রথম ধাপে কত বড় পরিসরে বাজারে আসবে, তা দুই কোম্পানি জানায়নি।
ইনেরার পণ্য তৈরির ভিত্তি হলো বিশ্বের নানা চরম পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করা ৩৫ হাজারের বেশি অণুজীব স্ট্রেনের ভান্ডার। অ্যাবসলিউটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম নেচার+ (Nature+) এসব জৈব তথ্য বিশ্লেষণ করে কোনটি কী কাজ করবে তা অনুমান করে এবং গবেষণাগার ও মাঠ পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য পণ্য নকশা করে। ফসল-পুষ্টির বাইরে প্রতিষ্ঠানটি আরএনএ ইন্টারফারেন্সভিত্তিক জৈব বালাই দমন, পেপটাইডভিত্তিক উপকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আবিষ্কৃত জৈব আগাছানাশক নিয়েও কাজ করছে।
ইনেরার দাবি, ১০০ একরের বেশি নিজস্ব পরীক্ষা-জমিতে তারা ৫০ হাজারের বেশি মাঠ পরীক্ষা ও কৃষক প্রদর্শনী করেছে। ভারতের ১৯টি রাজ্যে তাদের পণ্যের লাইসেন্স আছে, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও উপস্থিতি বাড়ছে।
অ্যাবসলিউটের প্রতিষ্ঠাতা আগম খারে (Agam Khare) বলেন, এই অংশীদারত্বে বিজ্ঞাননির্ভর জৈব সমাধান আরও বেশি কৃষকের কাছে যাবে এবং প্রতি একর থেকে বেশি মূল্য পেতে সাহায্য করবে। ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় বায়ারের ক্রপ সায়েন্স বিভাগের প্রধান সাইমন ভিবুশ (Simon Wiebusch) বলেন, এতে ইনেরার জৈব দক্ষতার সঙ্গে কৃষকের চাহিদা নিয়ে বায়ারের জ্ঞান ও বড় পরিসরে পণ্য পৌঁছানোর সক্ষমতা মিলবে।
অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম মনে করিয়ে দিয়েছে, আসল পরীক্ষা হবে খামারে পণ্যটি ধারাবাহিক ফল দেয় কি না: জৈব উপকরণের কার্যকারিতা ফসল, মাটি, জলবায়ু ও প্রয়োগপদ্ধতিভেদে বদলায়, আর কৃষক তা নেবেন প্রমাণ, ব্যবহারের সহজতা, দাম ও দৃশ্যমান লাভ দেখে। চুক্তিটি বিকল্প সারের জন্য ভারতের পিএম-প্রণাম প্রকল্প এবং বায়োই৩ জৈবপ্রযুক্তি নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ছবি: kiran kumar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম





মন্তব্য
(০)