সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩৪°ভারী বৃষ্টিআর্দ্রতা ৫৭%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ১.৫ মিমি

ভেজালমুক্ত খেজুর গুড়ের উদ্যোক্তা তরুণ নার্স সিজান

তরুণ উদ্যোক্তা ও নার্স শাহরিয়ার সিজান মাগুরায় নিজবাড়িতে ভেজালমুক্ত খেজুর গুড় তৈরি করেন। রাজশাহীর অভিজ্ঞ গাছি দিয়ে রস সংগ্রহ ও খাঁটি খেজুরের গুড় প্রস্তুত করে সাড়া ফেলেছেন তিনি। সিজান মাগুরার ছয়চার গ্রামের খায়রুজ্জামান সবুজের ছেলে।

ফল

তরুণ উদ্যোক্তা ও নার্স শাহরিয়ার সিজান মাগুরায় নিজবাড়িতে ভেজালমুক্ত খেজুর গুড় তৈরি করেন। রাজশাহীর অভিজ্ঞ গাছি দিয়ে রস সংগ্রহ ও খাঁটি খেজুরের গুড় প্রস্তুত করে সাড়া ফেলেছেন তিনি। সিজান মাগুরার ছয়চার গ্রামের খায়রুজ্জামান সবুজের ছেলে।

জানা যায়, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করার সময় প্রতিদিন চোখে পড়তো ডায়রিয়া ও লুজ মোশনে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। বারবার একই সমস্যা দেখে বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন সিজান। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিশুর অসুস্থতার বড় একটি কারণ হলো বাজারের রাসায়নিক মিশ্রিত ভেজাল গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা ও খাবার।

নিজের গ্রামের নাম শুনলেই মনে পড়ে খাঁটি খেজুর গুড়ের কথা। সেই মাগুরাতেই সমাধান খুঁজে পান সিজান। ২০২৪ সালে নিজের অর্থ বিনিয়োগ করে মাগুরায় একটি খেজুর বাগান কেনেন তিনি। আনেন রাজশাহীর অভিজ্ঞ গাছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে রস সংগ্রহ ও খাঁটি খেজুরের গুড় প্রস্তুত করতে শুরু করেন।

খাঁটি খেজুর গুড় উৎপাদনের উদ্যোগ সহজ ছিল না। অনেকেই তাচ্ছিল্য করেছেন, দায়িত্বহীন মন্তব্যও করেছেন। তাতে সিজান পিছু হটেননি। দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। প্রথম মৌসুমেই তার তৈরি গুড় মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে সিজান বলেন, ‌'সবচেয়ে বড় সাফল্য খাঁটি গুড়ের ক্রেতা দেশের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। যারা প্রতিনিয়ত রোগীদের চিকিৎসা দেন। খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে সবচেয়ে সচেতনরা নিশ্চিন্তে নিচ্ছেন আমার পণ্য। এটি আমার গুড় ও পাটালির গুণমানের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।'

আরও পড়ুনঘাস থেকে গুড় তৈরি করে স্বাবলম্বী খাদিজা বেগম ফিলিপাইনের আখ চাষে সফল কালীগঞ্জের মাসুদ

মাগুরা ছাড়িয়ে আশপাশের জেলায়ও সাড়া পড়েছে। শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয়, মাগুরা ও আশপাশের কয়েকটি জেলার খ্যাতনামা মিষ্টির দোকানেও যাচ্ছে সিজানের তৈরি খাঁটি গুড়। ফলে একটি ছোট উদ্যোগ আজ স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শুরুতে ছোট বাগান কেনার পেছনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩ লাখ টাকা। মাত্র ৩ মাসে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। এ বছর সিজান আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করেছেন। তার আশা, চলতি মৌসুমে ৪-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হবে। প্রতি কেজি ভেজালমুক্ত খেজুর গুড়ের পাটালি ৫৫০ টাকা, দানাগুড় ৪৫০ টাকা ও জোলাগুড় ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে তার সঙ্গে কাজ করছেন দাঁতের চিকিৎসক শেখ সালাউদ্দিন, দুজন রেজিস্টার্ড নার্স এবং বন্ধু রিজু বিশ্বাস। দলবদ্ধভাবে তারা কাজ করে যাচ্ছেন খাঁটি গুড় মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে। শীতের তীব্রতা বাড়লে ঢাকায় স্টল দেওয়ার পরিকল্পনা আছে সিজানের। যাতে রাজধানীর মানুষও সহজেই পান খাঁটি, নিরাপদ, ভেজালমুক্ত খেজুর গুড়।

সিজান জাগো নিউজকে বলেন, 'আমি যে ভেজালমুক্ত খাবার খাওয়াতে পারছি, বিষয়টি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। শিশুর সুস্থতার কথা ভাবলেই মনে হয় আমার প্রচেষ্টা সার্থক। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, যারা গুড় পাটালি কিনতে আসবেন; তারা খেতে পারবেন সকালের টাটকা সতেজ খেজুর রস।'

দাঁতের চিকিৎসক শেখ সালাউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, 'বর্তমানে ভেজালের ভিড়ে আসল জিনিস খুঁজে পাওয়াই দুর্লভ। মাগুরায় এই প্রথম পাওয়া যাচ্ছে অর্গানিক গুড় ও পাটালি। দারুণ আইডিয়াটা সিজানের মাথায় প্রথম আসে। বর্তমানে গাছি, গুড় ও পাটালি উৎপাদন খুবই কষ্টসাধ্য। তার ভেতর দিয়েও সিজান এগিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে রস সংগ্রহ ও খাঁটি খেজুরের গুড় প্রস্তুত করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন।'

মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এসইউ

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

গৃহবন্দি সময় কাটে ফেসবুক-ইউটিউবে, ড্রাগন চাষে সফল ইব্রাহীম

করোনাকালে গৃহবন্দি ছিলেন মাগুরার মো. ইব্রাহীম। কাজের ব্যস্ততা ছিল না। অবসর কাটাতে ফেসবুক ও ইউটিউবে ঘুরে বেড়াতেন। একদিন ড্রাগন ফল চাষের একটি ভিডিও তার নজরে আসে। এরপর একের পর এক ভিডিও দেখতে থাকেন। ধীরে ধীরে ড্রাগন চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। একসময় অনলাইনে দেখা সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন চাষ

জাগো নিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

জ্যাম-জেলি নয়, এবার পেয়ারা দিয়ে বানান টক-মিষ্টি তরকারি

আমাদের দেশে পেয়ারা সাধারণত পাকা ফল হিসেবেই বেশি খাওয়া হয়। পাকা পেয়ারা কেটে খাওয়া, জ্যাম, জেলি কিংবা বিভিন্ন মিষ্টি পদে ব্যবহার-এসবই বেশ পরিচিত। কিন্তু পেয়ারা যে শুধু ফল হিসেবে খাওয়ার জন্য নয়, তা জানলে অনেকেই অবাক হতে পারেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাঁচা বা আধাপাকা পেয়ারা দিয়ে নানা ধরনের রান্না করার চল

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()