সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ১.৫ মিমি

কাদাপানিতে মাখামাখি হাট, দরদামে মিলছে না ক্রেতা-বিক্রেতার

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র একদিন। রাজধানীতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাদাপানিতে মাখামাখি হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর মধ্যেই তারা দরদাম করছেন গরুর, যা অনেক ক্ষেত্রেই মিলছে না।

লাইভস্টক

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র একদিন। রাজধানীতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাদাপানিতে মাখামাখি হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর মধ্যেই তারা দরদাম করছেন গরুর, যা অনেক ক্ষেত্রেই মিলছে না।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরের বৃষ্টির পর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ও শনির আখড়া হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে গরু-ছাগলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে যানজট আর অব্যবস্থাপনার দৃশ্য চোখে পড়েছে। ফলে কোরবানির পশু কেনা উৎসবের মধ্যে ছিল অস্বস্তির ছাপও।

আগের দিন সোমবার দুপুরে রাজধানীতে বৃষ্টি নামলে হাটের পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আটকা পড়েন কাদায়- কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও গোড়ালি পর্যন্ত। এতে ক্রেতারা দূর থেকেই দাম জিজ্ঞাসা করে সরে যাচ্ছেন বলে জানান তারা।

হাটের ভেতরে হেঁটে দেখা যায়, কোথাও গরু কাদার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও আবার বিক্রেতারা বাঁশ ও খড় বিছিয়ে অস্থায়ী শুকনো জায়গা তৈরির চেষ্টা করছেন। কয়েকজন ব্যাপারী অভিযোগ করেন, হাট ইজারাদাররা হাজার হাজার টাকায় ইজারা নিলেও বৃষ্টির পানি সরানোর কার্যকর ব্যবস্থা রাখেননি। ফলে ক্রেতারাও ভেতরে ঢুকতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতির কারণে কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, জামালপুর, ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহ থেকে আসা খামারি ও ব্যাপারীরা বিপাকে পড়েছেন।

মেরাজনগরের বাসিন্দা আবির হোসেন জানান, দুই ঘণ্টা ধরে মাঝারি আকারের গরু খুঁজছেন। তার সর্বোচ্চ বাজেট এক লাখ ৬০ হাজার টাকা, অথচ পছন্দের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে আড়াই লাখ টাকা। ফলে একা কোরবানি না দিয়ে এখন ভাগে দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

হাটে আসা আরেক ক্রেতা আয়ুব বলেন, তার পরিবারের বাজেট দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা, কিন্তু পছন্দের গরুগুলোর দাম সাড়ে তিন-চার লাখ চাওয়া হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ও তার পরিবারের সদস্যরা শনির আখড়ায় এসে লাল রঙের সুন্দর একটি গরু পছন্দ করলেও দামে মিলছিল না। তারা দুই লাখ টাকা বললেও বিক্রেতা চাচ্ছিলেন তিন লাখ।

কোনাপাড়া এলাকার হাজি ইব্রাহিম এক লাখ ৮৮ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে অনেকেই আগে গরু কিনতে চাননি। আজ মোটামুটি গরু কিনতে আসছেন। গরুর দাম গতবারের চেয়ে একটু বেশি।

বিক্রেতারা অবশ্য দাবি করছেন, গোখাদ্যের দাম এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন ও শ্রম খরচের বোঝা। ফলে ক্রেতার চাওয়া দামে গরু বিক্রি করতে গেলে প্রতিটিতে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।

রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, 'ক্রেতারা গরুপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কম বলছেন। সেই দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।'

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে মো. ইয়াদাত হোসেন ১৪টি গরু নিয়ে এসেছিলেন। এখনো বিক্রি হয়নি ৯টি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, 'টার্গেট অনুযায়ী গরু বিক্রি হচ্ছে না। গ্রামের তুলনায় এখানে দাম কম। যেসব গরু বিক্রি করেছি সবই এক লাখ ১৪ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। একটু বড়, আড়াই-তিন লাখ টাকার গরুর দরদাম করছে না। অথচ গ্রামে আমাদের সাথের ব্যাপারিরা এর চেয়ে বেশি দামে গরু বিক্রি করে ফেলেছে। তারা বাড়িতে চলে গেছে আর আমরা এখনো হাটে।'

জামালপুরের বকশীগঞ্জ থেকে ১৮টি গরু নিয়ে আসা মুনাজ উদ্দিন সাতটি বিক্রি করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, 'বকশীগঞ্জে গরুর দাম চড়া হলেও ঢাকা এনে দেখছি কমের দিকে। এই লাল রঙের গরুটা কিনেছি এক লাখ ৭০ হাজার টাকায়, এখন দাম বলে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। গাড়ির ভাড়া পড়েছে গরুপ্রতি এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। গরু বিক্রি করবো কীভাবে?'

একই এলাকা থেকে আসা আরেক পাইকার জানান, তিনি ১৭টি গরু নিয়ে এসেছেন এবং এখন পর্যন্ত সাতটি বিক্রি করেন। তার মতে, এবার মানুষের হাতে টাকা কম, তাই দাম কম বলে।

মাঝারি আকৃতির ৩০টি গরু নিয়ে ভোলার চরফ্যাশন থেকে আসা মো. হোসেন জানান, তিনি এসেছেন রোববার (২৪ মে) রাতে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ৯টি গরু। তিনি বলেন, 'বিক্রি শুরু করেছি মূলত সোমবার থেকে। বৃষ্টি ও ক্রেতা কম, তাই গরু বিক্রি হচ্ছে না।'

মাগুরা থেকে চারটি গরু নিয়ে কাজলায় আসা বাহারুল ইসলাম ফোনে তার শ্যালককে বলছিলেন- 'এখানে বারি (বৃষ্টি) পড়িছে খুব। গরু বেচা হলি চলি আসবোনি। বেশি দরদাম করবোনানি।'

এই সূত্রে কথা হলে বাহারুল জাগো নিউজকে বলেন, 'নিজের গোয়ালের পালা গরু। লাভ-লসের হিসাব নেই। কিন্তু বাড়ি থেকে বলছে, বৃষ্টির মধ্যে দরদাম কোনো বিষয় নয়, গরু বিক্রি করে দিতে হবে। গরু নিয়ে রোববার রাতে দুজন এলেও আজ মঙ্গলবার সকালে শালা বাড়িতে চলে গেছে। বাড়ি পৌঁছে ফোন দিলে তার সাথে কথা বলছিলাম।'

তিনি জানান, চার গরুর মধ্যে একটি এক লাখ ২৭ হাজার টাকায় আর একটি এক লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বাড়ি থেকে হাটে আনতে গরুপ্রতি দুই হাজার ৬৮০ টাকা ট্রাক ভাড়া গুনতে হয়েছে। এখন বাকি দুটি গরু বিক্রি করলেই বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

বাজার ব্যবস্থাপনা

ঢাকার বাজারে আটা-ময়দার দাম বাড়ল, মুরগি ও ডিম এখনো চড়া

এক মাসে খোলা আটার কেজিতে ৫ টাকা ও ময়দায় ১০ টাকা বেড়েছে; ব্রয়লার মুরগি ১৯০–২০০ টাকা কেজি আর ডিম ডজন ১৫০ টাকায় আটকে আছে দেড় মাস ধরে।

প্রথম আলো১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

দুগ্ধ চেকঅফের অর্থ আর ইএসজি কর্মসূচিতে ব্যয় করা যাবে না, ঘোষণা ইউএসডিএর

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ দুগ্ধ চেকঅফ তহবিল থেকে পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) উদ্যোগে অর্থায়ন বন্ধ করেছে এবং অন্য সব পণ্যের চেকঅফেও একই নিয়ম প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে।

usda১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

খাদ্য সংকটে হাইতির ১৩ হাজার পরিবারে পৌঁছাচ্ছে বীজ ও ছোট গবাদিপশু

আঞ্চলিক মানবিক তহবিলের অর্থায়নে এফএওর জরুরি খাদ্য উৎপাদন কর্মসূচি হাইতির তিনটি সবচেয়ে সংকটাপন্ন বিভাগে ২০৫ টনের বেশি বীজ ও ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ছোট প্রাণী বিতরণ করছে।

এফএও নিউজরুম১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()