সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°মেঘলাআর্দ্রতা ৫৭%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ধানের বাম্পার ফলনেও হাওরজুড়ে হতাশা, খরচের টাকা উঠছে না কৃষকের

প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও হবিগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। ফসল দেখে কৃষক পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের চোখে এখন শুধু হতাশা আর উৎকণ্ঠা। ধানের দরপতনে উৎপাদিত ফসলের ব্যয় ওঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক পরিবারগুলো। অনেকেই দাদনের টাক

প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও হবিগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। ফসল দেখে কৃষক পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের চোখে এখন শুধু হতাশা আর উৎকণ্ঠা। ধানের দরপতনে উৎপাদিত ফসলের ব্যয় ওঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক পরিবারগুলো। অনেকেই দাদনের টাকা পরিশোধ নিয়ে ভুগছেন দুশ্চিন্তায়।

সরেজমিনে জানা যায়, জেলার অধিকাংশ হাওরেই বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে অনেক হাওরে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে হারভেস্টার নামানো সম্ভব হচ্ছে না। সব সময় শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার পাওয়া গেলেও তাদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এ বছর ধানের দামও গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

'বাজারে চাল কিনতে গেলে ঠিকই দামে কিনতে হয়। আমরা ধান বিক্রির সময় ন্যায্যমূল্য পাই না। ধারদেনা শোধ করার জন্য বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করছি।'

আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের শুক্রিবাড়ি গ্রামের কৃষক সৌরভ মিয়া জানান, তিনি নিজের ও ইজারা নেওয়া জমি মিলিয়ে মোট ৬৫ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান আবাদ করছেন। প্রতি বিঘায় গড়ে ১৯ মণ ফলন হয়েছে। ধান কাটাতে বিঘাপ্রতি ৫ মণ শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে। অবশিষ্ট থাকছে ১৪ মণ ধান। তা আবার বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭১০ টাকা মণ দরে।

আরও পড়ুন- হাওরে জলাবদ্ধতায় ভরা মৌসুমেও সংকটে কৃষকপহেলা বৈশাখের ভোরেই সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার ধুম'বাপুরে, ১০০ মণ ধান পেতাম এখন এক মণও পামু না'

তিনি বলেন, 'বাজারে চাল কিনতে গেলে ঠিকই দামে কিনতে হয়। আমরা ধান বিক্রির সময় ন্যায্যমূল্য পাই না। ধারদেনা শোধ করার জন্য বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করছি।'

শিবপাশা গ্রামের কৃষক আকছির মিয়া বলেন, '১৫ বিঘা জমির ধান কেটেছি। প্রতি মণ ধান ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এতে উৎপাদন খরচই উঠবে না। ঋণ দেব কী দিয়ে, আর পরিবার নিয়ে খাবইবা কী? কৃষকের কোনো লাভ নেই। ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষক বাঁচবে না। ন্যায্যমূল্য না পেলে মানুষ কৃষিকাজে আগ্রহও হারাবে।'

জলসুখা গ্রামের কৃষক আক্কাছ মিয়া বলেন, 'হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটতে বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। সার, বীজ, নিড়িনি দেওয়া, রোপণ করাসহ সব মিলিয়ে প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৭৫ টাকা দরে। এখন ঋণ শোধ করবো কী দিয়ে, আর সংসার খরচই বা চালাবো কোথা থেকে।'

'প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৭৫ টাকা দরে। এখন ঋণ শোধ করবো কী দিয়ে, আর সংসার খরচই বা চালাবো কোথা থেকে।'

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভদৈ গ্রামের লায়েছ মিয়া বলেন, 'প্রতি মণ ধান উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে। উৎপাদন খরচই উঠবে না। এখন কৃষি করে আর কোনো লাভ নেই। এমন অবস্থা থাকলে আগামী বছর বোরো আবাদ করবো কি না তার ঠিক নেই।'

আরও পড়ুন- সুনামগঞ্জে আগাম বন্যার শঙ্কা, আধা-পাকা ধান নিয়েই ঘরে ফিরছেন কৃষকইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট দুইশো বিঘা জমির ধানচেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি: হাওরে বন্যার শঙ্কায় ধান কাটার পরামর্শ পাউবোরশুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি, তেলের খোঁজে পাম্পে পাম্পে ঘুরছে কৃষক

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান জানান, লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পুরোটাই অর্জিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত ধান কাটার কাজ চলছে। হাওরের নিচু জমিতে যেখানে মেশিন যেতে পারছে না, সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছেন। শিগগির জেলার সব হাওরে ধান কাটা শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে। এর মাঝে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬০১ হেক্টর, বানিয়াচংয়ে ৩৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর, নবীগঞ্জে ১৮ হাজার ৯৫৬ হেক্টর, লাখাইয়ে ১১ হাজার ২০৮ হেক্টর, হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর, শায়েস্তাগঞ্জে ২ হাজার ৭১৫ হেক্টর, মাধবপুরে ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চুনারুঘাটে ১২ হাজার ৫৪৫ হেক্টর, বাহুবলে ৮ হাজার ৪১৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। এ বছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির পানি জমে ২৮১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

আফতাবনগরের কাশবনে লাল মুনিয়া, পাখির হাটে বিক্রি নিয়ে সতর্কবার্তা

অধ্যাপক ড. আ ন ম আমিনুর রহমান দেশ রূপান্তরে লিখেছেন, শরতে বালু নদীর তীরের কাশবনে বাসা বাঁধতে আসে 'লাল্টু' বা লাল মুনিয়া; অথচ বন্য পাখি ধরা ও বিক্রি দেশে দণ্ডনীয় অপরাধ।

দেশ রূপান্তর২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

দুই মাস বৃষ্টি নেই, নোয়াখালীতে ফেটে চৌচির আমনখেত, শুকিয়ে যাচ্ছে ধান

মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিতে এক মাস পিছিয়ে যাওয়া আমন এখন খরায় পুড়ছে; সুবর্ণচর, সদর ও কোম্পানীগঞ্জে কয়েক হাজার একরের ধানগাছ ফলন আসার আগেই শুকিয়ে গেছে।

আজকের পত্রিকা২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ইসলাম

ভূগর্ভস্থ পানি আমানত, যথেচ্ছ উত্তোলন ও অপচয় নয়: কোরআন-হাদিসের আলোকে

দেশ রূপান্তরে মুফতি মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভী কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, সেচ, পানীয় ও অজুতে সংযম, পুনর্ভরণ আর জলাশয় রক্ষা মুসলিমের দায়িত্ব।

দেশ রূপান্তর২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)