সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে বৃক্ষাচ্ছাদনের পরিমাণ ২৫ শতাংশ এবং বনাচ্ছাদনের পরিমাণ ১৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে বিকেল ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের ভূ-উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে বৃক্ষাচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭ শতাংশ এবং বনাচ্ছাদনের পরিমাণ দেশের ভূমির আয়তনের ১৪.১ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকারক প্রভাব ও বায়ুমণ্ডলের নিঃসরণকৃত ও বিদ্যমান কার্বন হ্রাসকরণ, উপকূলীয় সবুজবেষ্টনী সৃজন, সামুদ্রিক ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জনসাধারণের জানমাল রক্ষা এবং বনায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ব্লক, এনরিচমেন্ট, ম্যানগ্রোভ, বসতবাড়ি বনায়নসহ বিভিন্ন ধরনের বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বনায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক হাজার ৮০০ হেক্টর ব্লক, ৭০০ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান ও ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সাল নাগাদ দেশব্যাপী বৃক্ষাচ্ছাদনের পরিমাণ ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ২২০ হেক্টর সমতল ভূমি ও শালবন পুনরুদ্ধার, এক লাখ ৩০ হাজার ৫৮০ হেক্টর পাহাড়ি বন পুনরুদ্ধার, ৫০০ হেক্টর আগর বন, ১৫ হাজার কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান, ৫০ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান এবং দুই হাজার ৭০০ হেক্টর এনরিচমেন্টসহ অন্যান্য বাগান সৃজন করা হবে।
শাহাব উদ্দিন বলেন, ২০০৯-২০১০ থেকে ২০২২-২৩ আর্থিক সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প এবং রাজস্ব বাজেটের আওতায় মোট এক লাখ ২৭ হাজার ৫৪৮ হেক্টর ব্লক, ৮৯ হাজার ৮৫৩ হেক্টর ম্যানগ্রোভ এবং ৩০ হাজার ২৫২ সিডলিং কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান সৃজন এবং বিক্রয় বিতরণের ১১ কোটি ২১ লাখ চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২০ সালে সারাদেশে জনসাধারণের মাঝে বিনামূল্যে এক কোটি বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।
সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশের শিশুদের তীব্র উষ্ঞতা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য সরাসরি কোনো কার্যক্রম এখনো গ্রহণ করা হয়নি। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পরিবেশ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ন্যাশনাল অ্যাডাপশন প্ল্যান (এনএপি) ২০২৩-২০৫০ এ হিট ওয়েভ, হিট স্ট্রিস বা হিটস্ট্রোক মোকাবেলায় গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইএইচআর/বিএ/জিকেএস





মন্তব্য
(০)