২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সব খামার মিলিয়ে মোট নগদ ব্যয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ গেছে শ্রমিকের পেছনে। তবে খামারে কী উৎপাদিত হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে এই বোঝা কোথাও হালকা, কোথাও অনেক ভারী—বলছে ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস।
সবচেয়ে ভারী বোঝা উদ্যানফসলের খামারে। ফল ও গাছবাদাম, শাকসবজি ও তরমুজজাতীয় ফসল কিংবা গ্রিনহাউস ও নার্সারি চালানো খামারে নগদ ব্যয়ের প্রতি ডলারের প্রায় ৪০ সেন্টই যায় শ্রমে—জাতীয় গড়ের প্রায় তিন গুণ।
অন্য প্রান্তে বড় মাঠফসল। ভুট্টার খামারে নগদ ব্যয়ের ৪ শতাংশ এবং সয়াবিন, গবাদিপশু, সাধারণ দানাদার শস্য, গম বা শূকরে বিশেষায়িত খামারে ৬ শতাংশ ব্যয় হয় শ্রমে।
পার্থক্যটা যন্ত্রের। ইআরএসের অর্থনীতিবিদ দীপক সুবেদী ও অনিল কে. গিরি বলছেন, মাঠফসলের খামারে শ্রমব্যয়ের হার কম কারণ সেখানকার উৎপাদনব্যবস্থা অনেক বেশি যন্ত্রনির্ভর, আর অটোস্টিয়ার দিকনির্দেশনা এবং পোকা-প্রতিরোধী ও আগাছানাশক-সহনশীল বীজের মতো শ্রমসাশ্রয়ী উদ্ভাবন সেখানে বেশি ব্যবহৃত হয়। ফল, সবজি ও নার্সারির ফসল তোলা এখনো মূলত হাতের কাজ।
প্রাণিসম্পদ আছে মাঝামাঝি। প্রাণিসম্পদ শ্রেণিগুলোর মধ্যে পোলট্রি খামারে শ্রমব্যয়ের হার সবচেয়ে বেশি, ২১ শতাংশ; এরপর ‘অন্যান্য সব প্রাণিসম্পদ’ শ্রেণিতে ১৯ শতাংশ এবং দুগ্ধখামারে ১২ শতাংশ।
যেখানেই খামারের মজুরি বাড়ছে, সেখানেই এই চিত্রের গুরুত্ব আছে। যে খামারে ব্যয়ের দুই-পঞ্চমাংশই শ্রম, শ্রমিক-সংকট বা মজুরি বৃদ্ধিতে সেই উৎপাদক যতটা ঝুঁকিতে পড়েন, বীজ-সার-জ্বালানিই যাঁদের মূল খরচ সেই দানাদার শস্যের খামার ততটা নয়—আর যন্ত্রায়ণের তাগিদও সেখানেই বেশি।
চার্টটি ইআরএসের ‘আমেরিকাজ ডাইভার্স ফ্যামিলি ফার্মস: ২০২১ এডিশন’ প্রতিবেদনের তথ্য হালনাগাদ করেছে।
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস





মন্তব্য
(০)