সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৬%বাতাস কিমি/ঘ

শীতে আলুর মড়ক রোগ হলে চাষিদের করণীয়

ডিপ্লোমা কৃষিবিদ জিয়াউল হক

শাকসবজি

ডিপ্লোমা কৃষিবিদ জিয়াউল হক

আলুর লেইট ব্লাইট বা মড়ক রোগ অন্যতম একটি ক্ষতিকারক রোগ। প্রথমে পাতা, ডগা ও কাণ্ডে কিছু অংশ ঘিরে ফেলে। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকলে ২-৩ দিনের মধ্যে জমির অধিকাংশ ফসল আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ভোরের দিকে আক্রান্ত পাতার নিচে সাদা পাউডারের মতো ছত্রাক চোখে পড়ে। আক্রান্ত ক্ষেতে পোড়া-পোড়া গন্ধ পাওয়া যায় এবং মনে হয় যেন জমির ফসল পুড়ে গেছে। মড়ক রোগের আক্রমণে ক্ষতির পরিমাণ আলুর জাত, গাছের বয়স, রোগ আক্রমণের সময়, আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ রোগের আক্রমণে আলুর ফলন সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হতে পারে।

সম্প্রতি আলুর লেইট ব্লাইট বা মড়ক রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং থেকে জারি করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, শীতকালীন এই মৌসুমে আলুর লেইট ব্লাইট বা মড়ক রোগ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। এমতাবস্থায় ফসল রক্ষার্থে কৃষকদের আগাম করণীয় পালন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়কালে আলুর মড়ক রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। যে কোনো সময় নিম্ন তাপমাত্রা (রাতে ১০-১৬ ডিগ্রি এবং দিনে ১৬-২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং কুয়াশাচ্ছন্ন অর্দ্র আবহাওয়ায় (আর্দ্রতা ৯০% এর বেশি) এ রোগ বিস্তার ঘটে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার সাথে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলে এ রোগ ২-৩ দিনের মধ্যে মহামারি আকার ধারণ করে। বাতাস, বৃষ্টিপাত ও সেচের পানির সাহায্যে এ রোগের জীবাণু আক্রান্ত গাছ থেকে সুস্থ গাছে দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

মড়ক রোগের লক্ষণ আলুর লেইট ব্লাইট বা মড়ক রোগের আক্রমণ প্রথমে গাছের গোড়ার দিকে পাতায় ছোপ-ছোপ ভেজা হালকা সবুজ গোলাকার বা বিভিন্ন আকারের দাগ দেখা যায়, যা দ্রুত কালো রং ধারণ করে এবং পাতা পচে যায়। সকালবেলা মাঠে গেলে আক্রান্ত পাতার নিচে সাদা পাউডারের মতো জীবাণু দেখা যায়। ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় আক্রান্ত গাছ দ্রুত পচে যায়। এ অবস্থায় ২-৩ দিনের মধ্যেই ক্ষেতের সব গাছ মরে যেতে পারে। রোগে আক্রান্ত আলুর গাছে বাদামি থেকে কালচে দাগ পড়ে এবং খাবার অযোগ্য হয়ে যায়।

আরও পড়ুন১৮ কাঠায় ২৬ সবজি, মেহেরপুরে কৃষক আবুল কালামের অনন্য সাফল্য হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

মড়ক রোগ দমনে করণীয় এ রোগ হওয়ার পূর্বেই কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে বলা হয়, রোগের অনুকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধের জন্য ৭ দিন পর পর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করে গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে।

যদি এরই মধ্যে ফসল রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, তবে জমিতে সেচ বন্ধ করা এবং ৪-৫ দিন পর পর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় স্প্রে করতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এ ছাড়া নিজের বা পাশের ক্ষেতে রোগ দেখা মাত্রই ৭ দিন অন্তর অন্তর (ম্যানকোজেব ৬০% + ডাইমেথোমর্ফ ৯%) ২ গ্রাম অথবা (ম্যানকোজেব ৫০% + ফেনামিডন ১০%) ২ গ্রাম অথবা (প্রোপিনেব ৭০% + ইপ্রোভেলিকার্ব) ২ গ্রাম, (কার্বেনডাজিম ৫০%) যে কোনো একটি গ্রুপের অনুমোদিত ছত্রাকনাশক পর্যায়ক্রমে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করে গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। রোগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশি হলে ৩-৪ দিন অন্তর ছত্রাকনাশকের মিশ্রণ স্প্রে করতে হবে।

ছত্রাকনাশক স্প্রে করার সময় হাত মোজা, সানগ্লাস, মাস্ক ও অ্যাপ্রোন ব্যবহার করতে হবে। সব সময় বাতাসের অনুকূলে স্প্রে করতে হবে। ছত্রাকনাশকের বোতল, প্যাকেট অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় জিনিস মাটিতে পুতে ফেলতে হবে। জমিতে স্প্রে করার পর সরঞ্জাম ও শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। সাবান দিয়ে শরীর, হাত, পা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

লেখক: ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ও উদ্যোক্তা, চাষী সেবা।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

বাজারে বিষমুক্ত করলার দাম নেই, আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

জমির আইলের চারপাশে নীল রঙের জালের বেড়া। ভেতরে বাঁশ ও জালের মাচা। মাচার ওপরে সবুজ লতা। নিচে থোকায় থোকায় ঝুলছে তরতাজা করলা। কিন্তু এই করলায় নেই কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক বিষ।

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া
মৎস্য

পদ্মার নাকি গুজরাটের ইলিশ, চিনবেন যেভাবে

বাঙালির পাতে ইলিশের কদরই আলাদা। গরম ভাতের সঙ্গে সরিষা ইলিশ, কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাজা কিংবা ঝোল-যে পদই হোক, ইলিশের নাম শুনলেই জিভে পানি আসে। কিন্তু বাজার থেকে চড়া দামে ইলিশ কিনে এনে রান্নার পর যদি সেই চেনা ঘ্রাণ আর স্বাদ না মেলে, তখন আফসোসের শেষ থাকে না।

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

রবিশস্য হিসেবে চিয়া বীজ চাষ করবেন যেভাবে

ক্ষুদ্র দানাকৃতির চিয়া বীজ পুষ্টি ও শক্তির উৎস। চিয়া বীজের বিশেষত্ব হলো এর পুষ্টিমান। চিয়া বীজের পুষ্টিগুণ দানাদার শস্য বা তেলবীজগুলোর মধ্যে সেরা। চিয়া বর্ষজীবী, ঔষধি তৈলবীজ তিল বা তিষির মতো। এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা প্রতিপন্ন, দন্তর। ফুল স্পাইকে সজ্জিত, নীল, বেগুনি বা সাদা রঙের হতে পারে। দুট

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()