খরা, রোগ, পোকা বা পুষ্টির ঘাটতিতে পড়লে গাছ চোখে পড়ার মতো লক্ষণ দেখানোর অনেক আগেই ভেতরে ভেতরে সাড়া দিতে শুরু করে। সেই রাসায়নিক ও শারীরিক সংকেত ধরতে পারে এমন সেন্সর তৈরি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার (ইউজিএ) গবেষকেরা, যাতে কৃষক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেশি সময় পান। খবরটি দিয়েছে ফার্মস ডটকম।
কাজটির নেতৃত্বে আছেন জর্জিয়া রিসার্চ অ্যালায়েন্সের নির্ভুল কৃষি বিষয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক লিয়াং ডং। তিনি ইউজিএর কৃষি ও পরিবেশবিজ্ঞান কলেজ এবং প্রকৌশল কলেজে যৌথভাবে নিযুক্ত, পাশাপাশি ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটিভ প্রিসিশন এগ্রিকালচারের গবেষণা বিভাগের সহযোগী পরিচালক।
ডং সেন্সরগুলোকে তুলনা করেন পরিধেয় স্বাস্থ্য যন্ত্রের সঙ্গে। স্মার্টওয়াচ যেমন মানুষের হৃৎস্পন্দন মাপে, তেমনি এই সেন্সর মাপে গাছের রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিশিজ, উদ্ভিদ হরমোন, উদ্বায়ী যৌগ, প্রস্বেদনের হার ও সালোকসংশ্লেষণ। এসব সংকেত একসঙ্গে পড়লে বাইরে লক্ষণ ফোটার আগেই গাছের ভেতরের অবস্থা বোঝা যায়; সেন্সর মাটি ও পরিবেশের অবস্থাও তাৎক্ষণিকভাবে জানায়।
একটি লক্ষ্য পানির ভালো ব্যবস্থাপনা। জর্জিয়ায় খরা প্রায়ই গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে আসে; আগাম সতর্কতা পেলে কৃষক আরও নিখুঁতভাবে সেচের সময় ঠিক করতে পারবেন। অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা ফসলের ক্ষতি করে, সেটিও পরীক্ষার আরেকটি ক্ষেত্র। কোথায় সেন্সর সবচেয়ে কাজে লাগবে, তা বুঝতে গবেষকেরা কৃষক, ফসলবিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেছেন।
ডং বলেন, একজন প্রকৌশলী খুব সংবেদনশীল সেন্সর বানাতে পারেন, কিন্তু কোন সংকেত আসলে গুরুত্বপূর্ণ তা বলবেন উদ্ভিদ বা প্রাণিবিজ্ঞানীরা; আর সেই তথ্যকে কাজের সিদ্ধান্তে রূপ দিতে লাগবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটা সায়েন্স। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো এমন নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা, যা বিপুল তথ্যকে কৃষকের জন্য সহজ পরামর্শে বদলে দেবে; ফসলের বাইরে পোলট্রি, গবাদিপশু ও বনায়নেও এর ব্যবহার হতে পারে।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farms.com



মন্তব্য
(০)