সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°মেঘলাআর্দ্রতা ৭৭%বাতাস কিমি/ঘ

নেত্রকোনায় ২৬ কোটি টাকার চাল কুমড়া বিক্রি হবে

নেত্রকোনা জেলায় এবার চাল কুমড়ার বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলার পতিত জমিতে এসব কুমড়ার উৎপাদন হয়েছে। খরচের তুলনায় কয়েকগুণ লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।

শাকসবজি

নেত্রকোনা জেলায় এবার চাল কুমড়ার বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলার পতিত জমিতে এসব কুমড়ার উৎপাদন হয়েছে। খরচের তুলনায় কয়েকগুণ লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, নেত্রকোনায় নানাবিধ কারণে শত শত হেক্টর জমি অনাবাদি বা পতিত থাকতো। 'এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা যাবে না'—প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা, কৃষি বিভাগের নানা রকম প্রচার প্রচারণা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী, যান্ত্রিকীকরণ, প্রণোদনা, কৃষি খাতে বিপ্লব এবং সময়ের চাহিদা পূরণে কৃষকেরা অনাবাদী পতিত জমি চাষাবাদে ক্রমশ উৎসাহিত হয়ে উঠছেন।

গত কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় নেত্রকোনার ২ হাজার ৯৫৫ হেক্টর অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ২৬৫ হেক্টর জমিতে চাল কুমড়ার আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর চাল কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় চাষিরাও খুশি। কীটনাশকমুক্ত এ চাল কুমড়া স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশা করছে, জেলায় এ বছর আনুমানিক সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন চাল কুমড়া উৎপাদিত হবে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২৬ কোটি টাকা। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার হীরাকান্দা, হাতিমঞ্জি, রহিমপুর, চান্দুয়াইল, বাদাম তৈল, পালপাড়া, ধোপাপাড়া, চণ্ডিগড়, বেলতলী কোণাপাড়া, বারহাট্টা উপজেলার ধলপুর, সিংধাসহ ৩০টি গ্রামে এবার রবি শস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান চাষের চেয়ে শাক-সবজির চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় অনেকেই তাদের জমিতে চাল কুমড়া, লাউ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ডাটাসহ বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি চাষ করেছেন।

আরও পড়ুন

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতি হেক্টর জমিতে ২৫-২৬ মেট্রিক টন চাল কুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষকেরা জানায়, প্রতি ১০ শতক বা ১ কাঠা জমিতে ৫০-৬০ মণ চাল কুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে। স্থানীয় পাইকারদের কাছে প্রতিটি চাল কুমড়া গড়ে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ১ কাঠা জমি থেকে কৃষকের আয় হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা।

কলমাকান্দা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী নরল্লাপাড়া গ্রামের শফিকুল আলম জুঁই বলেন, 'এসব সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় শত শত একর জমি অনাবাদি, পতিত অবস্থায় থাকতো। এলাকার মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অভাব দেখা দিতো। হতদরিদ্র নিম্ন আয়ের মানুষ স্বাভাবিক জীবন ধারণের জন্য কাজের সন্ধানে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যেতো। অনেকেই কাজ না পেয়ে সীমান্তে চোরাকারবারসহ নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকতো।'

তিনি বলেন, 'বর্তমানে অনাবাদি, পতিত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আসায় ধানসহ নানা ধরনের শাক-সবজি আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকেরা বাড়ির আঙিনায় বা আবাদি, অনাবাদি জমিতে লাউ, শসা, বেগুন, ঝিঙ্গা, কপি, টমেটো, চাল কুমড়াসহ নানা ধরনের রবি শস্য আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। গতবার দেড় একর জমিতে চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া ও ফুলকপি আবাদ করে ৯ লাখ টাকা আয় করেছিলাম। এবার আড়াই একর জমিতে চাল কুমড়া, টমেটো, বেগুন ও বাদাম চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার চাল কুমড়া, টমেটো, বেগুন বিক্রি করেছি। আশা করছি, এ বছর ২০ লাখ টাকা আয় হবে।'

রংছাতি ইউনিয়নের কালিহালা গ্রামের কৃষক সায়েদুর রহমান বলেন, 'আমি ৫ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে কুমড়া চাষ করেছি। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি করেছি।'

আরও পড়ুন

বারহাট্টা উপজেলার ধলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, 'আমার অনেক জমি পতিত থাকতো। এ বছর ৩০ কাঠা জমিতে চাল কুমড়া করেছি। ভালো ফলন হয়েছে। স্থানীয় পাইকাররা জমি থেকেই মণপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় কিনে নিচ্ছেন।'

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, 'পতিত জমিতে ভালো শাক-সবজি উৎপাদিত হওয়ায় কৃষকেরা দিন দিন শাক-সবজি আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলশ্রুতিতে নেত্রকোনায় ২ হাজার ৯৫৫ হেক্টর অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।'

এইচ এম কামাল/এসইউ/এমএস

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

মনিরামপুরে নারকেলের ছোবড়া থেকে কোকোপিট: মাটিবিহীন চারা উৎপাদনের উপকরণ বানিয়ে আত্মকর্মসংস্থান আনসার সদস্যের

যশোরের মনিরামপুরের কুলটিয়া ইউনিয়নের আনসার-ভিডিপি সদস্য মো. রবিউল ইসলাম ছোবড়া থেকে আঁশ ছাড়ানোর পর বাকি পিথ প্রক্রিয়াজাত করে কোকোপিট তৈরি করছেন—প্রো-ট্রেতে টমেটো, মরিচ, বেগুন, ক্যাপসিকাম ও কপির চারার গ্রোয়িং মিডিয়াম; জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রতিদিনের সংবাদ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

নবীনগরে মালচিংয়ে পার্পল কিং বেগুন: দিনে ৪০–৪৫ কেজি, কেজি ৮০–১২০ টাকা—সেলুন ছেড়ে কৃষিতে মাঈন উদ্দিনের সাফল্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদ্যাকুট গ্রামের মাঈন উদ্দিন বি-স্ট্রং প্রকল্প ও উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন করে আগাছা কম, আর্দ্রতা ভালো, ফলন বেশি পেয়েছেন; আরও দুই মাস হারভেস্ট চলবে, মৌসুম শেষে ৩ লাখ টাকার বেশি লাভের আশা, আগামীতে ৪ বিঘায় সম্প্রসারণ।

বাসস১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন বেগুনের কাণ্ডে কলম করে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা: শতাধিক নার্সারিতে বছরে ১.২ কোটি টাকার কেনাবেচা

সদর উপজেলার নাটাই উত্তর, রামরাইল ও মাছিহাতা ইউনিয়নে ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ গ্রাফটিং ও বীজ থেকে চারা উৎপাদনে জীবিকা নির্বাহ করছেন; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার হিসাবে প্রায় ৫ লাখ গ্রাফটিং চারা, মূল্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা—জুন-অক্টোবরের বৃষ্টিতে সাধারণ টমেটো না হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা কমানোর পথ।

বাসস১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()