সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৭৮%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

কাঠঠোকরার মাথা রক্ষার রহস্য ও বাংলাদেশের কাঠঠোকরা প্রজাতি

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাগো নিউজ ২৪-এর এক ফিচারে বলা হয়, খুলি পেঁচিয়ে থাকা লম্বা জিহ্বা কাঠঠোকরার মাথায় সিট বেল্টের মতো কাজ করে; গবেষণা এর আংশিক সমর্থন দেয়, আর আইইউসিএন বাংলাদেশের মূল্যায়নে দেশের কোনো কাঠঠোকরা সংকটাপন্ন নয়, তবে বনের বড় প্রজাতিগুলো চাপে।

কাঠঠোকরার মাথা রক্ষার রহস্য ও বাংলাদেশের কাঠঠোকরা প্রজাতি
পরিবেশ

গ্রামবাংলার অতি পরিচিত পাখি কাঠঠোকরা নিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রকৃতিবিষয়ক ফিচার প্রকাশ করে জাগো নিউজ ২৪। সানজানা রহমান যুথীর লেখা ফিচারটি ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর পত্রিকাটির কৃষি ও প্রকৃতি বিভাগে ছাপা হয়। তাতে বলা হয়, বারবার কাঠে আঘাত করেও কাঠঠোকরার মস্তিষ্কের কেন ক্ষতি হয় না, পাখিটি কেন গাছ ঠোকরায়, কীভাবে বাসার গর্ত বানায়, বাংলাদেশে কোন কোন প্রজাতি দেখা যায়, আর গ্রাম ও শহর থেকে গাছ কমে যাওয়ায় কেন লেখক পাখিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

লেখকের মূল বক্তব্য ছিল, কাঠঠোকরার অস্বাভাবিক লম্বা জিহ্বা মাথার খুলির পেছন দিয়ে ঘুরে আসে এবং মাথার জন্য সিট বেল্টের মতো কাজ করে। আগের প্রায় দেড় দশকে প্রকাশিত বায়োমেকানিক্স গবেষণা এই ধারণাকে আংশিকভাবে সমর্থন করে; একই সঙ্গে গবেষণাগুলো খুলি ও ঠোঁটের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য এবং কয়েকটি অমীমাংসিত প্রশ্নের দিকেও ইঙ্গিত করে। ফিচারের বক্তব্যের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগে প্রকাশিত পক্ষীবিদ্যার তথ্যসূত্র ও পিয়ার-রিভিউড গবেষণা পাখিটি সম্পর্কে কী বলে, এই প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হলো।

হাতুড়ির মতো ঠোকরানোর জন্য গড়া এক পাখি


কাঠঠোকরা পিসিফর্মিস (Piciformes) বর্গের পিসিডি (Picidae) গোত্রের পাখি। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া এদের বর্ণনা দিয়েছে খুব নমনীয় ঘাড়, বাটালির মতো আগাওয়ালা মজবুত ঠোঁট এবং মুখের বাইরে অনেক দূর পর্যন্ত বের করা যায় এমন লম্বা জিহ্বার লম্বাটে গড়নের পাখি হিসেবে। এদের বেশির ভাগই বৃক্ষবাসী; পোকা খোঁজার সময় বা বাসার গর্ত খোঁড়ার সময় এরা লম্বা নখর দিয়ে বাকল আঁকড়ে ধরে আর লম্বা, শক্ত লেজের পালকে ভর দিয়ে শরীর স্থির রাখে। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে বিশ্বে এই গোত্রের প্রজাতি প্রায় ২০৪টি; ২০২৫ সালে ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা ২০১৪ সালের একটি প্রামাণ্য গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রজাতির সংখ্যা ২১৪ বলেছে, যারা অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের সব অঞ্চলের বনে ছড়িয়ে আছে।

ফিচারে বলা হয়, কাঠঠোকরা মিনিটে একশ বারের বেশি ঠোকরাতে পারে এবং দিনে হাজার হাজারবার গাছে আঘাত করে। গবেষণাগারের কাজ এর একটা হিসাব দিয়েছে। বেইজিংয়ের বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয় ও হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঝেন ওয়াং ও তাঁর সহকর্মীরা ২০১১ সালে পিএলওএস ওয়ান (PLoS ONE) সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় সেকেন্ডে ২ হাজার ফ্রেম ধারণক্ষম দুটি হাই-স্পিড ক্যামেরায় গ্রেট স্পটেড উডপেকার প্রজাতির কাঠঠোকরার ঠোকরানো ধারণ করেন এবং একটি সেন্সর দিয়ে প্রতিটি ঠোকরের বল মাপেন। তাঁদের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কাঠঠোকরা সেকেন্ডে ৬ থেকে ৭ মিটার গতিতে গাছের গুঁড়িতে আঘাত করে এবং তখন প্রায় ১ হাজার জি (g) মাত্রার মন্দন ঘটে; এরা টানা ১০ থেকে ২০টি ঠোকরের এক একটি পর্বে ঠোকরায়, প্রতিটি ঠোকরে সময় লাগে প্রায় ৫০ মিলিসেকেন্ড, আর গড়ে দিনে প্রায় ১২ হাজারবার ঠোকরায়। তাঁদের পরীক্ষায় মাপা ঠোকরের বল ছিল প্রায় ৮.১ নিউটন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ও রিভারসাইড ক্যাম্পাসের জে-ইয়ং জাং ও তাঁর সহকর্মীরা ২০১৬ সালে অ্যাক্টা বায়োম্যাটেরিয়ালিয়া সাময়িকীতে আগের গবেষণাগুলোর সারসংক্ষেপ টেনে লিখেছেন, ঠোকরানোর সময় কাঠঠোকরার মাথার গতি সেকেন্ডে ৭ মিটার পর্যন্ত ওঠে, মন্দন ১ হাজার ২০০ জি পর্যন্ত পৌঁছায় এবং এরা সেকেন্ডে ২০ বার পর্যন্ত ঠোকরায়; অথচ এতে মস্তিষ্কে আঘাতজনিত ক্ষতি বা কনকাশন হয় না।

কাঠঠোকরা শুধু খাবারের জন্যই ঠোকরায় না। বাংলাপিডিয়া জানায়, বেশির ভাগ প্রজাতির গলার আওয়াজ জোরালো, এবং এরা ঠোঁট দিয়ে ঢাকের মতো শব্দ তোলে, বিশেষ করে বাসা বানানোর মৌসুমে এবং যখন প্রতিধ্বনি তোলে এমন কোনো তল খুঁজে পায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরেডিথ মাইলস ও তাঁর সহকর্মীরা ২০১৮ সালে প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি সাময়িকীতে এই ড্রামিংকে এলাকা দখলের প্রদর্শনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা পাখি শক্ত কোনো তলে দ্রুত ঠোঁট ঠুকে তৈরি করে। প্রজাতিভেদে ড্রামিংয়ে আঘাতের সংখ্যা ও গতি আলাদা হয়; গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের আকার কোনো প্রজাতি কত দ্রুত ড্রামিং করতে পারবে তা সীমিত করে, তবে ড্রামিং কতক্ষণ চলবে তা সীমিত করে না।

খুলি পেঁচিয়ে থাকা জিহ্বা


ফিচারের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ ছিল জিহ্বার বর্ণনা: এত লম্বা যে তা মস্তিষ্কের পেছন দিকে পেঁচানো থাকে, মাথার পেছন ঘুরে আবার সামনে চলে আসে। শারীরস্থানবিদেরা এই কাঠামোকে বলেন হায়োয়েড অ্যাপারেটাস, অর্থাৎ জিহ্বার হাড় এবং এর সঙ্গে যুক্ত তরুণাস্থি, পেশি ও অন্যান্য কলার সমষ্টি। সব পাখিতেই এর মূল কাজ জিহ্বাকে জায়গামতো ধরে রাখা এবং বাইরে প্রসারিত হতে দেওয়া।

জাংয়ের দল ব্যাখ্যা করেছে, বেশির ভাগ পাখির হায়োয়েড অ্যাপারেটাসে পাঁচটি আলাদা হাড় থাকে এবং তা খুলির গোড়ায় গিয়ে শেষ হয়। কাঠঠোকরার ক্ষেত্রে এটি অনেক লম্বা; ঠোঁটের দিক থেকে শুরু হয়ে মাথার পেছন দিয়ে ঘুরে মাথার ওপর দিয়ে এসে দুই চোখের মাঝখানের খাঁজে শেষ হয়। তাঁদের তুলনা করা নমুনায় অ্যাপারেটাসের লম্বা পেছনের বাহু, অর্থাৎ এপিব্রাঙ্কিয়াল হাড়, কাঠঠোকরার হায়োয়েড হাড়ের মোট দৈর্ঘ্যের ৬১ শতাংশ, যেখানে গৃহপালিত মুরগিতে তা ৩৭ শতাংশ। বেশির ভাগ পাখিতে থাকা ইউরোহায়াল নামের একটি হাড় কাঠঠোকরায় নেই। এক্স-রে মাইক্রো-কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি ও ন্যানোইনডেন্টেশন পদ্ধতিতে তাঁরা দেখেছেন, এই অ্যাপারেটাসে চারটি আলাদা হাড়ের অংশ তিনটি সন্ধিতে জোড়া লাগানো; প্রতিটি হাড়ের ভেতরে শক্ত একটি মজ্জা আর বাইরে তুলনামূলক নমনীয় একটি খোলস রয়েছে; আর পেছনের অংশটি অত্যন্ত নমনীয়, যা আঘাত শুষে নিতে সাহায্য করে বলে তাঁদের ধারণা।

ওয়াংয়ের ২০১১ সালের গবেষণায় দেখা যায়, গ্রেট স্পটেড উডপেকারের ঝোলার মতো হায়োয়েড মাথার একেবারে ওপর দিয়ে নাসাগহ্বর পর্যন্ত চলে গেছে এবং প্রায় ৮০ মিলিমিটার লম্বা; একই আকারের পাখি ইউরেশীয় হুদহুদ, যে কাঠ নয় বরং মাটি খুঁচিয়ে খাবার খোঁজে, তার জিহ্বার কাঠামোর চেয়ে এটি লম্বা। তাঁদের তৈরি মাথার কম্পিউটার মডেলে দেখা যায়, প্রতিটি আঘাতের শেষ দিকে হায়োয়েড চাপ বহন করে; গবেষকেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, লম্বা হায়োয়েড হাড় বিশেষ করে আঘাতের পরে কাঠঠোকরার মাথার জন্য সেফটি বেল্টের ভূমিকা পালন করে। জাংয়ের গবেষণাপত্রে ওদা ও তাঁর সহকর্মীদের একটি মডেলিং গবেষণার উল্লেখ আছে, যাতে দেখা গেছে, হায়োয়েড হাড় ঠোকরানোর সময় মস্তিষ্কে চাপ ও টানজনিত পীড়ন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।

বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, জিহ্বার আগা কাঁটাযুক্ত, ফলে পাখিটি নিজের খোঁড়া গর্ত থেকে শুঁয়াপোকা ও কীটের লার্ভা টেনে বের করতে পারে। ফিচারে বলা হয়েছিল, জিহ্বা কখনো কখনো ঠোঁটের প্রায় দ্বিগুণ লম্বা হয়; বাংলাদেশের প্রজাতিগুলোর জন্য এই তথ্য কোনো প্রামাণ্য সূত্রে যাচাই করা যায়নি বলে তা এখানে রাখা হয়নি।

১৮৯৬ সালের পপুলার সায়েন্স মান্থলি পত্রিকার একটি চিত্র, যাতে একটি ওরিওল পাখি এবং একটি কাঠঠোকরা ও একটি স্যাপসাকারের জিহ্বা দেখানো হয়েছে। ছবি: অজ্ঞাত শিল্পী / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
১৮৯৬ সালের পপুলার সায়েন্স মান্থলি পত্রিকার একটি চিত্র, যাতে একটি ওরিওল পাখি এবং একটি কাঠঠোকরা ও একটি স্যাপসাকারের জিহ্বা দেখানো হয়েছে। ছবি: অজ্ঞাত শিল্পী / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

মাথা রক্ষার আরও কৌশল, এবং যা নিয়ে বিজ্ঞানীদের বিতর্ক


আঘাত সইতে পারার পেছনে গবেষকেরা যেসব বৈশিষ্ট্যকে দায়ী করেছেন, জিহ্বা তার মধ্যে একটি মাত্র। ওয়াংয়ের দল দেখেছে, কাঠঠোকরার মস্তিষ্ক তুলনামূলক ঘন হাড়ের খুলির ভেতরে আঁটসাঁট হয়ে থাকে, খুলির গড়ন মসৃণ ও প্রায় উপবৃত্তাকার; খুলির স্পঞ্জি হাড় হুদহুদের মতো দণ্ডাকার নয়, বরং পাতের মতো, এবং তা বেশি জমা থাকে কপাল ও মাথার পেছনে। তাঁরা আরও দেখেছেন, ঠোঁটের ওপর ও নিচের অংশের দৈর্ঘ্য সমান নয়: ওপরের ঠোঁটের বাইরের শৃঙ্গময় স্তর নিচের ঠোঁটের চেয়ে ১.৬ মিলিমিটার লম্বা, অথচ ওপরের ঠোঁটের ভেতরের হাড়ের অংশ নিচেরটির চেয়ে প্রায় ১.২ মিলিমিটার খাটো। তাঁদের মডেলে সমান দৈর্ঘ্যের ঠোঁটের তুলনায় অসমান দৈর্ঘ্যের ঠোঁটে মস্তিষ্কের ওপর পীড়ন কম হয়েছে।

আগের গবেষণা পর্যালোচনা করে জাংয়ের দল আরও কিছু অভিযোজনের কথা বলেছে: উপরিতলের তুলনায় ছোট ও হালকা মস্তিষ্ক, প্রতিটি আঘাতের খুব অল্প স্থায়িত্ব, মস্তিষ্কের চারপাশে অল্প পরিমাণ তরল, ঘূর্ণনজনিত বল থেকে সুরক্ষা দেওয়া শক্তিশালী ঘাড়ের পেশি এবং ওপরের ঠোঁটের ভেতরের স্পঞ্জের মতো স্তর। শৈলেশ গণপুলে ও তাঁর সহকর্মীরা ২০২০ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন বায়োইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি কম্পিউটেশনাল গবেষণায় প্রধান ব্যাখ্যাগুলোকে চার ভাগে সাজিয়েছেন: মস্তিষ্কের ছোট আকার, লম্বা ঠোঁট, হায়োয়েড হাড় এবং গম্বুজাকৃতির খুলি।

কাঠঠোকরা পুরোপুরি অক্ষত থাকে, এ কথা সব বিজ্ঞানী মানেন না। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের জর্জ ফারাহ ও তাঁর সহকর্মীরা পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত গবেষণায় সংরক্ষিত ১০টি কাঠঠোকরা এবং তুলনার জন্য ঠোকরায় না এমন প্রজাতি রেড-উইংড ব্ল্যাকবার্ডের ৫টি পাখির মস্তিষ্ক পরীক্ষা করেন। ১০টি কাঠঠোকরার মধ্যে ৮টির মস্তিষ্কে সিলভার রঞ্জকে ধরা পড়া জমাট পদার্থ পাওয়া যায়; আর যে ৩টি কাঠঠোকরার মস্তিষ্কে টাউ প্রোটিন পরীক্ষা করা হয়, তার ২টিতে টাউ জমা পাওয়া যায়। মানুষের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের বারবার মাথায় আঘাতের সঙ্গে এই প্রোটিন জমার সম্পর্ক দেখা গেছে। তুলনার পাখিগুলোতে এমন কিছু পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা বলেছেন, এতে ইঙ্গিত মেলে যে ঠোকরানোর ফলে কাঠঠোকরার মস্তিষ্কে টাউ জমতে পারে, তবে সম্পর্কটি বুঝতে আরও গবেষণা দরকার।

এই আগ্রহ শুধু বৈজ্ঞানিক নয়, ব্যবহারিকও। জাংয়ের গবেষণাপত্রে উল্লেখ আছে, কাঠঠোকরার মাথার অনুকরণে ইলেকট্রনিক যন্ত্রের জন্য বানানো একটি শক-শোষক ব্যবস্থা ৬০ হাজার জি মাত্রার আঘাতে মাত্র ১ শতাংশ ক্ষেত্রে বিকল হয়েছে, যেখানে শক্ত রেজিনের ব্যবস্থায় বিকল হয়েছে ২৬ শতাংশ। ফারাহর গবেষণায় বলা হয়েছে, কাঠঠোকরার মস্তিষ্ক সুরক্ষিত, এই ধারণা থেকেই ফুটবল হেলমেটের মতো খেলাধুলার সুরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে কাঠঠোকরাকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

গাছের ভেতর থেকে খাবার সংগ্রহ


ফিচারে ব্যাখ্যা করা হয়, কাঠঠোকরা মূলত খাবার খুঁজতেই কাঠ ঠোকরায়, গাছের ভেতরের পোকা খেয়ে বাঁচে, এবং সেই পোকা সরিয়ে গাছকে দীর্ঘদিন বাঁচতে সাহায্য করে বলে লোকমুখে একে গাছের ডাক্তার বলা হয়। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায়, কাঠঠোকরা বেশির ভাগ সময় গাছের গুঁড়ি ও ডালে উঠে কাঠের ভেতরের ছিদ্রকারী পোকা ও গর্তবাসী শুঁয়াপোকা খুঁড়ে বের করে কাটায়। এ কাজের জন্য আছে মোটা বাটালির মতো ঠোঁট, নাসারন্ধ্রের ওপর একগুচ্ছ পালক, যা নাকে কাঠের গুঁড়া ঢুকতে দেয় না, এবং গর্ত থেকে শুঁয়াপোকা টেনে তোলার মতো আগায় কাঁটাযুক্ত লম্বা জিহ্বা।

বাংলাদেশের কাঠঠোকরারা কী খায়, তা লেখা আছে আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের লাল তালিকায়। বাংলা কাঠঠোকরা গাছে ঠুকরে এবং মাটিতে খুঁচিয়ে খাবার খোঁজে; খায় পিঁপড়া, উইপোকা, গুবরে পোকার পিউপা, শুঁয়াপোকা, ফলের শাঁস ও ফুলের মধু। বড় কাঠঠোকরা গাছের বাকলে, বিশেষ করে মরা কাঠে খাবার খোঁজে; প্রধানত খায় পিঁপড়া, উইপোকা, অন্যান্য পোকা ও মধু। গ্রেট স্লেটি উডপেকার খায় কাঠ ছিদ্রকারী গুবরে পোকার পিউপা ও লার্ভা। অর্থাৎ পাখিটির খাদ্য কেবল কাঠের ভেতরের পোকায় সীমাবদ্ধ নয়; কয়েকটি প্রজাতি ফল ও মধুও খায়।

অন্য দেশের গবেষণায় দেখা যায়, কাঠ ছিদ্রকারী বালাইয়ের ওপর কাঠঠোকরার প্রভাব কতটা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গবেষকেরা ২০১৩ সালে পিএলওএস ওয়ানে এমারাল্ড অ্যাশ বোরার নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। এটি একটি আগ্রাসী গুবরে পোকা, যা উত্তর আমেরিকায় লাখ লাখ অ্যাশগাছ মেরে ফেলেছে। জাল বা খাঁচা দিয়ে যেসব গাছে কাঠঠোকরা ঢুকতে দেওয়া হয়নি, সেগুলোতে পোকার লার্ভা শিকার হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল; আর যেখানে আক্রমণ পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত, সেখানে পোকার মৃত্যুর বড় কারণ ছিল কাঠঠোকরার শিকার। তবে গবেষকেরা সিদ্ধান্ত টেনেছেন, কেবল এই শিকার দিয়ে হয়তো পোকাটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, সব কাঠঠোকরা গাছে খাবার খোঁজে না: ইউরোপের সবুজ কাঠঠোকরা ও আমেরিকার ফ্লিকার মাটিতে পোকা খায়, আর দক্ষিণ আফ্রিকার ভূতলবাসী কাঠঠোকরা বন ছেড়ে খোলা প্রান্তরে থাকে।

বাসার গর্ত, এবং পরে যারা সেখানে আশ্রয় নেয়


ফিচার অনুযায়ী, ছোট ছোট ঠোকর মানে কাঠঠোকরা খাবার খুঁজছে, আর বড় গর্ত মানে সে থাকার ঘর বানাচ্ছে; এরা প্রতি মৌসুমে নতুন বাসা তৈরি করে, পুরোনো গর্তগুলোতে অন্য পাখি থাকে। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায়, কাঠঠোকরার বাসা গাছের গুঁড়িতে খোঁড়া একটি গর্ত; তাতে কোনো বাড়তি উপকরণ ছাড়াই সাধারণত দুটি সাদাটে ডিম পাড়ে, যদিও কোনো কোনো প্রজাতি ৮ থেকে ১০টি ডিমও পাড়ে। পুরুষ ও স্ত্রী দুজনেই বাসার দায়িত্ব ভাগ করে নেয়, আর সদ্য ফোটা ছানার শরীরে পালক থাকে না। শীতে বাংলাদেশে আসা পরিযায়ী মেঠো কাঠঠোকরা বা ইউরেশীয় রাইনেক এই গোত্রের একমাত্র সদস্য, যে নিজে গর্ত খোঁড়ে না; প্রাকৃতিক খোঁড়ল বা কাঠঠোকরা ও বসন্তবৌরির পুরোনো গর্তকে বাসা হিসেবে ব্যবহার করে।

এই কারণেই বিজ্ঞানীরা কাঠঠোকরাকে বাস্তুতন্ত্রের প্রকৌশলী বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেইথ হার্ডিন ও তাঁর সহকর্মীরা ২০২১ সালে ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন সাময়িকীতে লিখেছেন, কাঠঠোকরা প্রতিবছর আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ মিলিয়ে একাধিক গর্ত তৈরি করে, আর পরিত্যক্ত হওয়ার পর সেগুলো ব্যবহার করে দ্বিতীয় পর্যায়ের গর্তবাসী প্রাণীরা, অর্থাৎ যাদের বাসার জন্য গর্ত দরকার কিন্তু নিজে গর্ত খুঁড়তে পারে না। দক্ষিণ টেক্সাসে পাঁচ বছরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গবেষণার আওতাভুক্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের সব গর্তবাসী পাখির ক্ষেত্রেই গাছ পচে তৈরি হওয়া খোঁড়লের চেয়ে পরিত্যক্ত কাঠঠোকরার গর্তে বাসা বাঁধলে সফলতার সম্ভাবনা বেশি ছিল।

বাংলাদেশেও একই চিত্র নথিভুক্ত। আইইউসিএন বাংলাদেশের লাল তালিকায় বলা হয়েছে, এশীয় দাগি পেঁচা গাছের প্রাকৃতিক খোঁড়লে বা কাঠঠোকরা অথবা বসন্তবৌরির গর্ত দখল করে বাসা বাঁধে; কণ্ঠি নিমপেঁচা গাছের প্রাকৃতিক খোঁড়ল এবং কাঠঠোকরা ও বসন্তবৌরির ফেলে যাওয়া গর্তে বাসা করে; আর সবুজ টিয়া প্রাকৃতিক খোঁড়ল, বসন্তবৌরি বা কাঠঠোকরার পুরোনো বাসা এবং পুরোনো দালানের ফাটল ব্যবহার করে। নেপালের ২০২৫ সালের গবেষণাটি যোগ করেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় কাঠঠোকরার গর্তে আশ্রয় নেয় নাটহ্যাচ, টিট ও ছোট পেঁচার মতো পাখি, কাঠবিড়ালি ও বাদুড়ের মতো স্তন্যপায়ী এবং নানা পোকামাকড়।

বাংলাদেশের কাঠঠোকরা


ফিচারে বলা হয়, বাংলাদেশে বেশ কয়েক প্রজাতির কাঠঠোকরা দেখা যায়, এবং এর মধ্যে পাঁচটির নাম দেওয়া হয়। বাংলাপিডিয়া দেশে ২২ প্রজাতির কাঠঠোকরার তালিকা দিয়েছে, যার ২১টি স্থায়ী বাসিন্দা এবং ১টি পরিযায়ী, মেঠো কাঠঠোকরা। বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের সঙ্গে মিলে তৈরি আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের লাল তালিকায় পিসিফর্মিস বর্গে ২০ প্রজাতির কাঠঠোকরা ও ৫ প্রজাতির বসন্তবৌরি গণনা করা হয়েছে। ফিচারে উল্লেখ করা পাঁচটি প্রজাতি, আইইউসিএন বাংলাদেশের লাল তালিকায় ব্যবহৃত স্থানীয় নামসহ:

  • বাংলা কাঠঠোকরা (ব্ল্যাক-রাম্পড ফ্লেমব্যাক, Dinopium benghalense): খুবই সাধারণ এবং সারা দেশে বিস্তৃত; বাগান, হালকা বন, আমবাগান, রাস্তার ধারের গাছ, গ্রাম ও খামারে, এমনকি বসতবাড়ির গাছেও দেখা যায়; ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই এদের প্রজননকাল। মূল্যায়ন: ন্যূনতম উদ্বেগ (লিস্ট কনসার্ন)।
  • বড় কাঠঠোকরা (গ্রেটার ফ্লেমব্যাক, Chrysocolaptes guttacristatus): সাধারণ ও বিস্তৃত; দেশের দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বনে পাওয়া যায়, প্রায়ই ফিঙে ও পেঙ্গার মতো পতঙ্গভুক পাখির মিশ্র দলে; মার্চ থেকে মে এদের প্রজননকাল। মূল্যায়ন: ন্যূনতম উদ্বেগ।
  • মেটেটুপি বাটকুড়ালি (গ্রে-ক্যাপড পিগমি উডপেকার, Dendrocopos canicapillus): ছোট আকারের সাধারণ স্থায়ী পাখি, দেশজুড়ে উপযুক্ত আবাসে দেখা যায়, ম্যানগ্রোভ থেকে চিরসবুজ, পত্রঝরা ও গৌণ বনে; সরু ডাল আঁকড়ে খাবার খোঁজে। মূল্যায়ন: ন্যূনতম উদ্বেগ, যদিও মূল্যায়নে বলা হয়েছে, কাঠ আহরণ ও কৃষির দ্রুত বিস্তারে এর বনাঞ্চলের আবাস কমছে। বাংলাপিডিয়ায় এর নাম ধূসর-মাথা বামন কাঠঠোকরা।
  • হিমালয়ী কাঠঠোকরা (হিমালয়ান ফ্লেমব্যাক, Dinopium shorii): ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বনে নথিভুক্ত, সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য দেখা মাত্র দুবার। মূল্যায়ন: তথ্য অপ্রতুল (ডেটা ডেফিসিয়েন্ট)।
  • হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি (ইয়েলো-ক্রাউনড উডপেকার, Leiopicus mahrattensis): অত্যন্ত বিরল স্থায়ী পাখি; পুরোনো প্রকাশিত নথির পর দীর্ঘদিন কোনো সাম্প্রতিক রেকর্ড ছিল না, ২০০২ সালের মার্চে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ধারে আকাশমণি গাছে একটির ছবি তোলা হয়। মূল্যায়ন: তথ্য অপ্রতুল।

বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, দেশের কাঠঠোকরারা চড়ুই থেকে কাকের আকার পর্যন্ত নানা আকারের হয়; শরীরের রং সাধারণত প্রকট কালো ও সাদা বা জলপাই, মাথায় প্রায়ই লাল রং থাকে, আর এদের উড়াল ভারী ও ঢেউখেলানো। তালিকার অন্য প্রজাতির মধ্যে আছে লালচে কাঠঠোকরা, পাকড়া কাঠঠোকরা, সবুজ কাঠঠোকরা, বড় হলদেকুড়ালি ও ছোট হলদেকুড়ালি (গ্রেটার ও লেসার ইয়েলোন্যাপ), বে উডপেকার, পাহাড়ি বন ও সুন্দরবনের কমন ফ্লেমব্যাক, এবং দুটি খুদে প্রজাতি, ক্ষুদে কাঠঠোকরা ও লাল-ক্ষুদে কাঠঠোকরা।

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে তোলা বড় কাঠঠোকরা বা গ্রেটার ফ্লেমব্যাকের (Chrysocolaptes guttacristatus) ছবি। ছবি: তারেক উদ্দিন আহমেদ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
বাংলাদেশের চট্টগ্রামে তোলা বড় কাঠঠোকরা বা গ্রেটার ফ্লেমব্যাকের (Chrysocolaptes guttacristatus) ছবি। ছবি: তারেক উদ্দিন আহমেদ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
ভারতের আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে একটি মেটেটুপি বাটকুড়ালি বা গ্রে-ক্যাপড পিগমি উডপেকার (Dendrocopos canicapillus)। ছবি: ড. রাজু কাসাম্বে / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারতের আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে একটি মেটেটুপি বাটকুড়ালি বা গ্রে-ক্যাপড পিগমি উডপেকার (Dendrocopos canicapillus)। ছবি: ড. রাজু কাসাম্বে / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কাঠঠোকরা কি হারিয়ে যাচ্ছে?


ফিচারটি শেষ হয় একটি সতর্কবার্তা দিয়ে: শহরের কোলাহলে কাঠঠোকরার ঠোকরানোর শব্দ তেমন শোনা না গেলেও গ্রামে পাখিটি বেশ পরিচিত; কিন্তু শহরের মতো গ্রামেও গাছ কমে যাওয়ায় লেখকের মতে পাখিটির সংখ্যা কমে বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে। কাঠঠোকরাসহ নানা প্রজাতির পাখি রক্ষায় তিনি বনায়নের আহ্বান জানান।

জাতীয় মূল্যায়ন অবশ্য মিশ্র চিত্র দেয়। আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের লাল তালিকায় ৫৬৬ প্রজাতির পাখি মূল্যায়ন করা হয়, যার ৪২৪টি ন্যূনতম উদ্বেগ শ্রেণিতে পড়ে। কাঠঠোকরা ও বসন্তবৌরি মিলিয়ে পিসিফর্মিস বর্গের সারণিতে কোনো সংকটাপন্ন প্রজাতি নেই; প্রায়-সংকটাপন্ন ২টি, ন্যূনতম উদ্বেগ ২০টি এবং তথ্য অপ্রতুল ৩টি। বাংলা কাঠঠোকরার মতো সাধারণ প্রজাতিগুলোকে নিরাপদ ধরা হয়েছে, কারণ এরা নানা ধরনের খাবারে টিকে থাকে এবং বসতবাড়ির গাছসহ বহু রকম আবাসে বাঁচতে পারে।

তবে বনের ওপর নির্ভরশীল প্রজাতিগুলোর ক্ষেত্রে লেখকের বর্ণিত চাপ বাস্তব। দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের পাহাড়ি বনের বিরল স্থায়ী পাখি গ্রেট স্লেটি উডপেকার (Mulleripicus pulverulentus), লাল তালিকায় যার স্থানীয় নাম বড় মেটেকুটালি, বাংলাদেশে প্রায়-সংকটাপন্ন হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে। খাবার ও প্রজননের জন্য এটি বড় গাছের ওপর নির্ভর করে; ফলে বাণিজ্যিক বাগানের জন্য গাছ কাটা, বনভূমিকে কৃষিজমিতে রূপান্তর এবং নগরায়ণে এটি ঝুঁকিতে পড়ে। লাল তালিকায় একে বাংলাদেশের সেই চারটি স্থায়ী পাখির একটি বলা হয়েছে, যারা বৈশ্বিকভাবে সংকটাপন্ন (ভালনারেবল)। পশ্চিম নেপালের ২০২৫ সালের গবেষণায় একে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যে ১৪টি দেশে এটি পাওয়া যায়, সেখানকার সবচেয়ে বড় কাঠঠোকরা প্রজাতি বলা হয়েছে; গবেষণাটি জানায়, বৈশ্বিক আইইউসিএন লাল তালিকায় এটি সংকটাপন্ন এবং নেপালের জাতীয় তালিকায় বিপন্ন, এবং বড় ও পরিণত গাছ হারানো, আবাসের অবনতি ও বিচ্ছিন্নতাকে এর সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে।

আইইউসিএন বাংলাদেশের মূল্যায়নে পাখির আবাস কীভাবে বদলেছে, তারও বর্ণনা আছে। দেশের শালবনের বড় অংশে ঘন চাঁদোয়াহীন কচি গাছ, নিচের ঝোপঝাড় কেটে ফেলা বা মানুষ ও গবাদিপশুর পায়ে মাড়ানো, আর ঝরা পাতাও কুড়িয়ে নেওয়া হয়; ফলে পাখির আবাস হিসেবে এসব বনের মূল্য অনেক কমে গেছে, যদিও এই ক্ষয়িষ্ণু বনেও এখনো কয়েক প্রজাতির কাঠঠোকরা টিকে আছে। ফলের বাগান, বাঁশঝাড়, সবজির বাগান ও পুকুরসহ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বসতবাড়ি দীর্ঘদিন পাখির ভালো আবাস ছিল, এবং অনেক গ্রামে এখনো যেসব পাখি দেখা যায় কাঠঠোকরা তার একটি; তবে মূল্যায়নে বলা হয়েছে, অনেক গ্রাম ছোট ছোট শহরে রূপ নিচ্ছে।

ভারতের উত্তরাখণ্ডে একটি গ্রেট স্লেটি উডপেকার (Mulleripicus pulverulentus)। ছবি: রমন কুমার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারতের উত্তরাখণ্ডে একটি গ্রেট স্লেটি উডপেকার (Mulleripicus pulverulentus)। ছবি: রমন কুমার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আইন যা বলে


২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্যান্য বন্য পাখির মতো কাঠঠোকরাও বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীনে লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া কেউ কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করতে পারবেন না; আর আইনে শিকারের সংজ্ঞায় বন্যপ্রাণী হত্যা, ধরা বা বিষ প্রয়োগ, তার চেষ্টা, আহত করা এবং বন্য পাখির বাসা বা ডিম সংগ্রহ বা নষ্ট করাও অন্তর্ভুক্ত। ৩৯ ধারা অনুযায়ী ৬ ধারা লঙ্ঘনের শাস্তি সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

ছবি: এ আর ইব্রাহিম / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (সানজানা রহমান যুথীর ফিচার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫), বাংলাপিডিয়া, আইইউসিএন বাংলাদেশ: রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ, খণ্ড ৩: পাখি (২০১৫), পিএলওএস ওয়ান (ওয়াং ও অন্যান্য ২০১১; জেনিংস ও অন্যান্য ২০১৩; ফারাহ ও অন্যান্য ২০১৮), অ্যাক্টা বায়োম্যাটেরিয়ালিয়া (জাং ও অন্যান্য ২০১৬), প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি (মাইলস ও অন্যান্য ২০১৮), ফ্রন্টিয়ার্স ইন বায়োইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (গণপুলে ও অন্যান্য ২০২০), ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন (হার্ডিন ও অন্যান্য ২০২১; গ্রেট স্লেটি উডপেকার গবেষণা, ২০২৫), বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বরফের রাজ্য গরম হচ্ছে দ্রুত, হিমবাহ হ্রদের বন্যায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ভারতে

কপ৩১-এর আগে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন বলছে, ১.৫ ডিগ্রির সীমা সাময়িক পেরোলেও বরফের ক্ষতি স্থায়ী হবে; জাতিসংঘের নেতৃত্বে আরেক গবেষণা বলছে, ১৮৩৫ সাল থেকে হিমবাহ হ্রদের বন্যায় ভারতে মারা গেছেন ৬ হাজার ১১৯ জন।

ডাউন টু আর্থ২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

কপ৩১-এ ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ

তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ৩১-এর ১১-১২ নভেম্বরের ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিটে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; বাংলাদেশ সেখানে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন ও বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহি দাবি করবে।

বাসস২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সিংড়ার লাড়কিবাড়ী বিলে বিষ, সামাজিক মাছ চাষে চার লাখ টাকার ক্ষতি

নাটোরের সিংড়ায় চার দশক ধরে সামাজিকভাবে মাছ চাষ হওয়া লাড়কিবাড়ী বিলে রাতে কীটনাশক দেওয়ায় প্রায় চার লাখ টাকার মাছ মরেছে; বিলের দখল নিয়ে বিরোধকে দায়ী করছেন চাষিরা।

সমকাল২ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)