সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৬%বাতাস কিমি/ঘ

বালুতে চাপা পড়েছে কৃষকের স্বপ্ন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মোকাবিল সীমান্তের ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ডুবে যায় ভাটির নিম্নাঞ্চল। আকস্মিক বন্যায় ডুবে যায় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও পাকা সড়ক। এরমধ্যে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামটি গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষের জন্য সবার কাছে পরিচিত। আশপাশের এলাকাতেও এই ধরনের টমেটো চাষাবাদ হয়

শাকসবজি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মোকাবিল সীমান্তের ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ডুবে যায় ভাটির নিম্নাঞ্চল। আকস্মিক বন্যায় ডুবে যায় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও পাকা সড়ক। এরমধ্যে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামটি গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষের জন্য সবার কাছে পরিচিত। আশপাশের এলাকাতেও এই ধরনের টমেটো চাষাবাদ হয়। কিন্তু কৃষকের সেই স্বপ্নের জমিতে এখন শুধু বানের জলে ভেসে আসা বালির স্তূপ। এই ফসলি জমি কবে চাষাবাদের উপযোগী হবে সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত তিনটি ইউনিয়ন পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। বন্যার পানির সঙ্গে আসা বালির স্তূপে ভরে গেছে ফসলের জমি।

কথা হয় ইসলামপুর গ্রামের টমেটোচাষি কুমেল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, দুই লাখ টাকা খরচ করে চারা লাগিয়েছিলাম। বন্যার পানিতে সব ডুবে মরে গেছে। নিঃস্ব হয়ে গেলাম। বন্যা সব নিয়ে গেলো। তার মতো একই অবস্থা দুই ইউনিয়নের কয়েকশো চাষির।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৩৫ হাজার ১২৭ হেক্টর আউশ, ৮২ হাজার ৪৬৫ হেক্টর রোপা আমন, ৫ হাজার ১০৯ হেক্টর বিজতলা ও ৫৫০ হেক্টর জমিতে শাক সবজি আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৭২ হেক্টর আউশ জমি, ২৫ হাজার ৩৫৭ হেক্টর রোপা আমন, ১৫৬ হেক্টর বিজতলা ও ২৬৮ হেক্টর জমির শাকসবজি। শাকসবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে লাগানো টমেটোর চারা।

ইসলামপুর ইউনিয়নের আট গ্রামের শতাধিক চাষি গ্রাফটিং পদ্ধতিতে লাগানো টমেটোর চারা বিক্রি করে সংসার চালান। আবার চাষও করেন। উৎপাদিত টমেটো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হয়। কিন্তু সম্প্রতি বন্যায় উপজেলার ১০ গ্রামের ৩৫৪ চাষির প্রায় ৩২ লাখ টমেটোর চারা মাঠে নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক চাষির ক্ষতির পরিমাণ ছয় কোটি টাকা বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় কৃষি গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, বনগাঁও গ্রামের ঘরে ঘরে তৈরি হয় গ্রাফটিং টমেটোর চারা। নার্সারি করে চারা উৎপাদন ও টমেটো চাষ গ্রামের মানুষের আয়ের বড় উৎস। বনগাঁওয়ের মতো উপজেলার অনেক গ্রামে বেগুনের চারার সঙ্গে টমেটোর গ্রাফটিং চাষ হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। টমেটো চাষে অনেকের ভাগ্য বদলে গেছে। এ বছর ব্যাপকহারে চারা উৎপাদন ও ফলন হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যায় তাদের সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। শত শত চাষি নিঃস্ব হয়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে মাঠে ফেরার আর্থিক অবস্থা নেই কারো। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে করা টমেটো চাষ হারিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা।

বনগাঁও গ্রামের কৃষক রাশিদ মিয়া ও খালিক মিয়া জানান, ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জমিতে ধারদেনা করে টমেটো চাষ করেছেন তারা। বন্যা সব শেষ করে দিয়েছে। এখন নিঃস্ব অবস্থায় আছেন তারা।

ইসলামপুরের কৃষক মোখলেছ মিয়া বলেন, গত ১৫-২০ বছরের মধ্যে এ ধরনের বন্যা দেখিনি। এবারের বন্যায় জমির সব ফসল ভেসে গেছে। অনেকের ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। আমাদের এলাকার মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এই বন্যায় আমাদের বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। আমার ৪০ হাজার চারা নষ্ট হয়েছে। এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হবে না।

একই এলাকার চাষি রোশন মিয়া বলেন, আমার ১৫০ শতাংশ জমিতে টমেটো আর নার্সারির ৪০ হাজার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কোনো টাকাও নেই যে, তা দিয়ে আবার চাষাবাদ করবো।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আকস্মিক বন্যার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। জেলার প্রায় ১১ হাজার হেক্টর আবাদি জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাষিদের বীজ প্রদানের জন্য তালিকা হচ্ছে। বীজ দিয়ে আবার আবাদ করলে হয়তো ক্ষতি কিছুটা কমবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রণোদনা ও কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাবো আমরা।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

বাজারে বিষমুক্ত করলার দাম নেই, আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

জমির আইলের চারপাশে নীল রঙের জালের বেড়া। ভেতরে বাঁশ ও জালের মাচা। মাচার ওপরে সবুজ লতা। নিচে থোকায় থোকায় ঝুলছে তরতাজা করলা। কিন্তু এই করলায় নেই কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক বিষ।

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৫ মিনিটের পড়া
মৎস্য

পদ্মার নাকি গুজরাটের ইলিশ, চিনবেন যেভাবে

বাঙালির পাতে ইলিশের কদরই আলাদা। গরম ভাতের সঙ্গে সরিষা ইলিশ, কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাজা কিংবা ঝোল-যে পদই হোক, ইলিশের নাম শুনলেই জিভে পানি আসে। কিন্তু বাজার থেকে চড়া দামে ইলিশ কিনে এনে রান্নার পর যদি সেই চেনা ঘ্রাণ আর স্বাদ না মেলে, তখন আফসোসের শেষ থাকে না।

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

রবিশস্য হিসেবে চিয়া বীজ চাষ করবেন যেভাবে

ক্ষুদ্র দানাকৃতির চিয়া বীজ পুষ্টি ও শক্তির উৎস। চিয়া বীজের বিশেষত্ব হলো এর পুষ্টিমান। চিয়া বীজের পুষ্টিগুণ দানাদার শস্য বা তেলবীজগুলোর মধ্যে সেরা। চিয়া বর্ষজীবী, ঔষধি তৈলবীজ তিল বা তিষির মতো। এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা প্রতিপন্ন, দন্তর। ফুল স্পাইকে সজ্জিত, নীল, বেগুনি বা সাদা রঙের হতে পারে। দুট

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()