সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৫%বাতাস কিমি/ঘ

শেষ হচ্ছে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাতে সাগরে নামবেন জেলেরা

পটুয়াখালীর উপকূলীয় সমুদ্রে মাছ আহরণে আরোপিত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ ১১ জুন মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। দীর্ঘ দুই মাস পর আবারও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন কলাপাড়া উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মৎস্যজীবী।

মৎস্য

পটুয়াখালীর উপকূলীয় সমুদ্রে মাছ আহরণে আরোপিত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ ১১ জুন মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। দীর্ঘ দুই মাস পর আবারও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন কলাপাড়া উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মৎস্যজীবী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দর এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। তবে একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে জেলেদের মনে কিছুটা উদ্বেগও কাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাছ বিক্রির জন্য ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে অবতরণ কেন্দ্রের ফ্লোর। গুছিয়ে ও মেরামত করে রাখা হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা, প্রস্তুত করা হচ্ছে ককসেটসহ মাছ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মাছের আড়তগুলো ধোয়ামোছা করার পাশাপাশি বরফ কলগুলোতে শুরু হয়েছে নতুন উদ্যমে বরফ উৎপাদনের কাজ।

এদিকে জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন জাল, দড়ি ও মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ প্রস্তুত করতে। মাঝিরা ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শেষ মুহূর্তের মেরামত কাজ সম্পন্ন করছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পেরোলেই গভীর সমুদ্রে যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে অধিকাংশ ট্রলারের।

কলাপাড়ায় মোট ১৮ হাজার ৩০৯ জন নিবন্ধিত জেলেসহ অর্ধলক্ষাধিক মৎস্যজীবী রয়েছেন। ১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার সময় সাগরে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় অধিকাংশ জেলে চরম অর্থকষ্টে পড়েন।

জেলে রহমান বিশ্বাস বলেন, সরকারি সহায়তা হিসেবে পাওয়া চাল এক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর পরিবার চালাতে অনেককে ধার-দেনা ও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। অনেক নিবন্ধিত জেলের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা বণ্টনে নানা অনিয়মের কারণে তারা প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণের দাবি জানান।

সমুদ্রগামী 'মা-বাবার দোয়া' ট্রলারের মাঝি আ. কুদ্দুস বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবার সমুদ্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যাত্রা করব। নিষেধাজ্ঞার সুফলে এবার প্রচুর মাছ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

'মায়ের দোয়া' ট্রলারের মালিক কামাল বেপারী বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ট্রলার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। তাই নতুন মৌসুমে ভালো মাছ ধরা পড়লে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

জেলেদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আগামীকাল থেকে সাগরে ব্যাপক পরিমাণ ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়বে। এতে জেলে, ট্রলার মালিক, আড়তদার, বরফকল মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

কলাপাড়া মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দরসহ উপজেলার বিভিন্ন আড়তে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরে সেই পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত হয়েছে বলে আমরা আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলেরা ভালো মাছ পাবেন। এতে উৎপাদন ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে এবং জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখতে পারবেন।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/কেএইচকে/এমএস

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

ভারতীয় ইলিশ ‘দেশি’ বলে বিক্রি, যশোরে আড়তদারকে জরিমানা

যশোর বড়বাজারে ভারতীয় ইলিশ দেশি বলে বিক্রির অভিযোগে এক আড়তদারকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সমকাল১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

কুয়াকাটায় ২ কেজি ১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হলো ৭ হাজার ২০০ টাকায়

কুয়াকাটার আড়তে নিলামে ওঠা একটি ইলিশ কেজিপ্রতি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে; বড় ইলিশ কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে সতর্ক করছেন গবেষকরা।

সমকাল১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

বরিশালে ইলিশের সরবরাহ দ্বিগুণ, মণে কমেছে ২০ হাজার টাকা

দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর বরিশালের বাজারে ইলিশের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে ইলিশের সরবরাহও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার টাকা।

জাগো নিউজ ২৪১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬৪ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()