কোনো না কোনো দুর্যোগে প্রতিবছরই কৃষকের ক্ষতি হয়। অনেক কষ্ট করে সেসব ক্ষতি আবার কাটিয়েও ওঠে, কৃষক আবার ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু এবারের বন্যার ক্ষতি ভিন্নরকম। বন্যার এমন জোরালো রূপ সম্পর্কে অনেকটাই অজানা ছিল সিলেট ও সুনামগঞ্জের কৃষকদের। এত বেশি পানির চাপ এর আগে কখনো দেখেনি তারা।
এবার বোরো মওসুমের শুরুতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণাসহ হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আগেই সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবার ওই এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়। বন্যার ভয়াবহতা এমন যে, গোলা ভরা ধান এবং গোয়ালে গরু রেখেই অনেককে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে হয়েছে।
কমবেশি প্রতিবছরই ক্ষতির মুখে পড়ছে আমাদের কৃষক। কারণ প্রতিনিয়তই পাল্টে যাচ্ছে আমাদের পরিবেশ প্রকৃতি। পাল্টে যাচ্ছে জলবায়ু। সে কারণেই কোন হিসাবই মিলছে না কৃষকের। মিলছে না তাদের অনুমান বা পূর্বাভাস। এ দিকটিতেই আমাদের বেশি প্রস্তুতি গ্রহণের প্রয়োজন। প্রয়োজন জলবায়ূ পরিবর্তনের সবগুলো ঝুঁকি মাথায় রেখে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বের করা। সেক্ষেত্রে শত বছরের ডেল্টা পরিকল্পনা পরিকল্পনা আমাদেরকে আশা আলো দেখাতে পারে। বন্যার অভিঘাত ও সংকট থেকে দুর্গত কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীকে দিতে পারে মুক্তির পথ।





মন্তব্য
(০)