লোকসান, চিনিকলের কাঁচামাল সংকট আর উৎপাদন খরচের তুলনায় কম মুনাফায় অনেক কৃষক আখ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সময়ে নতুন আশা জাগিয়েছে ‘ফিলিপাইনস ব্ল্যাক সুগারকেইন’ বা কালো আখ—‘ব্ল্যাক রুবি’ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) জাতটিকে ‘বিএসআরআই আখ ৪৯’ হিসেবে অনুমোদন দিয়ে অবমুক্ত করেছে; গাজীপুরে এর চাষে ব্যাপক সাফল্য মিলছে বলে বাসসের বিশেষ প্রতিবেদন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সাকাশ্বর মধ্যপাড়ায় বসুন্ধরা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (বেসিল) গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১০ একরের গবেষণা খামারে অন্য শস্যের পাশাপাশি ২০ শতকে পরীক্ষামূলকভাবে এই আখ চাষ শুরু করে। মাঠ গবেষণায় দেখা গেছে, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিচর্যায় কম খরচে দ্বিগুণ ফলন সম্ভব। প্রকল্পের মাঠ গবেষক ফয়সাল আহমেদ বাসসকে জানান, প্রচলিত দুই-তিন ফুট দূরত্বের বদলে নতুন রোপণ প্রযুক্তিতে ব্যাপক সফলতা মিলেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তথ্যে গাজীপুরে মোট ১,৬০৩ হেক্টরে আখ চাষ হচ্ছে—কাপাসিয়ায় ১,২২০, শ্রীপুরে ১৮৯, সদরে ১০০, কালীগঞ্জে ৬০ ও কালিয়াকৈরে ৩৪ হেক্টর। জাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৫৪২ হেক্টরে ঈশ্বরদী-১৬; চিবিয়ে খাওয়ার জনপ্রিয় বিএসআরআই আখ ৪১ (অমৃত) ৩৮৪, আখ ৪২ (রংবিলাস) ৩২৯ ও আখ ৪৭ ১৫০ হেক্টরে; স্থানীয় টেনাই ৮০, দেশি জাত ৩৮, আখ ৪৬ ২৭, চিমাইল ২২, আখ ৩৭ ২০ ও ঈশ্বরদী-৩৬ ১১ হেক্টরে।
গাঢ় বেগুনি-কালচে রং, অতি রসালো কাণ্ড ও চিবিয়ে খাওয়ার সুবিধায় বিএসআরআই আখ ৪৯ কৃষক ও ভোক্তা—দুই পক্ষেই আগ্রহ তৈরি করেছে। গাজীপুর অঞ্চলে দীর্ঘদিন গুড় ও চিবিয়ে খাওয়ার আখের চাষ হয়ে আসছে; নতুন জাত সেই বাজারে বাড়তি মূল্যের সুযোগ আনছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাসসের গাজীপুর বিশেষ প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস




মন্তব্য
(০)