বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে ‘রঞ্জিত পাইজাম’ নামের বীজধান লাগিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রায় অর্ধশত কৃষক। চারা রোপণের মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই ধানে শিষ বেরিয়ে যাওয়ায় গাছ আর বাড়েনি, অনেক গাছ লালচে হয়ে গেছে এবং গোছাও স্বাভাবিকভাবে বাড়েনি; কৃষকদের আশঙ্কা, বিঘায় এক মণ ধানও মিলবে না।
চলতি মৌসুমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কানি (৫৪ থেকে ৬০ একর) জমিতে এই ধান লাগানো হয়েছে। বীজ কেনা হয়েছিল বাইশারী বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বান্ডুর দোকান থেকে। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জমিতে গাছ এখনো ছোট, অথচ বেশ কিছু গাছে শিষ চলে এসেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, উন্নত জাত মনে করে বীজ কিনে দোকানদারের দেওয়া নিয়মে রোপণ করেছেন, সার-কীটনাশক সবই দিয়েছেন, তবু ১০-১৫ দিনে শিষ বেরিয়ে গাছ আর বড় হয়নি। কৃষক অলি আহমদ জানান, কানিপ্রতি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, ধারদেনা করে চাষ করেছেন; ধান না হলে বড় লোকসান।
বীজ বিক্রেতা আব্দুল করিম বান্ডুর ভাষ্য, তিনি ‘রঞ্জিত পাইজাম’ ধানের প্যাকেট বিক্রি করেছেন, বেশির ভাগ কৃষকের ধান ভালো হয়েছে, কয়েকজনের সমস্যা হয়েছে এবং কোম্পানির প্রতিনিধি জমি দেখে পরামর্শ দিয়েছেন। সোনালী সিড কোম্পানির প্রতিনিধি মো. শোয়াইব কৃষকদের চাষপদ্ধতিকে দায়ী করে বলেন, যাঁরা কোম্পানির পরামর্শ মেনেছেন তাঁদের গাছ ভালো আছে; কোম্পানি সার, কীটনাশক ও পরামর্শ দিচ্ছে, কিন্তু কৃষকেরা তা মানছেন না।
বাইশারী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখতে হবে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনামুল হক বলেন, ‘রঞ্জিত পাইজাম’ নামে বীজের কথা তিনি আগে শোনেননি; বিষয়টি জানার পর উপসহকারী কর্মকর্তাদের নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন এবং বীজ কোম্পানির প্রতিনিধিকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে।
কৃষকেরা বীজের মান ও অস্বাভাবিক দ্রুত শিষ বের হওয়ার কারণ নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা এবং ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। অচেনা নামের বীজ ও তার উৎস নিয়ে কৃষি বিভাগের অজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি জনপদে বীজ বাজারের তদারকি কতটা দুর্বল। প্রতিবেদনটি জনকণ্ঠের বান্দরবান প্রতিনিধির।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ





মন্তব্য
(০)