ভারতে চিনির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পুজোর মৌসুমের ঠিক আগে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু অগাস্ট মাসেই ভারতে চিনির দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
২৭শে অগাস্টের বাজারদর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে যে জেলাগুলোয় চিনির দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকায় পৌঁছেছে তার মধ্যে রয়েছে কলকাতা, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান — যেগুলো মিষ্টি উৎপাদনের জন্যই বিশেষ প্রসিদ্ধ।
দোকানিদের হিসাব ইতিমধ্যেই উল্টে গেছে। 'জলভরা সন্দেশ'-এর আবিষ্কারক বলে পরিচিত 'সূর্য কুমার মোদক' মিষ্টির দোকানের বর্তমান কর্ণধার শৈবাল মোদক বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "গ্যাসের দাম বাড়ার জন্য এই কয়েকদিন আগেই দাম বাড়াতে বাধ্য হলাম। আবার চিনির দাম বেড়েছে, ফলে মিষ্টিপ্রতি পাঁচ শতাংশ লাভ কম করতে হচ্ছে। বছরে কতবার দাম বাড়াব?"
একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বর্ধমানের শক্তিগড়ের 'ল্যাংচা' বিক্রেতারা ইতিমধ্যেই দাম বাড়িয়েছেন, আর শান্তিপুরের বিক্রেতারা প্রতি কেজি 'নিখুঁতি' মিষ্টিতে প্রায় ৫০ টাকা দাম বাড়িয়েছেন। সেপ্টেম্বর থেকেই পুজোর মৌসুম শুরু — জন্মাষ্টমী, বিশ্বকর্মা পূজা ও গণেশ চতুর্থী দিয়ে শুরু করে অক্টোবরে দুর্গাপূজা — যখন বহু দোকানির মূল আয় হয়।
দাম বাড়ার জন্য সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ইথানলকে দায়ী করছেন। আখ থেকেই তৈরি হয় ইথানল, যা বর্তমানে ভারতে জ্বালানির সঙ্গে মেশানো হচ্ছে। অভিযোগ হলো, ইথানলের কারণে চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভোক্তাদের ক্ষোভও সেই নীতির দিকেই। হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বরের এক বাসিন্দা, যিনি ৩০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে কলকাতার সল্ট লেকে অফিসে যান, বলছেন পেট্রোলে ইথানল মেশানো শুরু হলেও তেলের পাইকারি দাম কমেনি, উল্টে গাড়ির মাইলেজ কমে গেছে — আর এখন চিনির দামও বাড়ল।
রাজ্য সরকার হস্তক্ষেপের কথা বলেছে। গত ২৪শে অগাস্ট রাজ্য সচিবালয় নবান্ন ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে চিনির দামে লাগাম টানতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তবে তার তিন দিন পরেও বাজারদরে খুব একটা ফারাক আসেনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পর এটি ব্যবসায়ীদের ওপর দ্বিতীয় ধাক্কা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)