বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, প্রত্যেকে একটি করে গাছ লাগালে বছরে কমপক্ষে ১০ কোটি গাছ লাগানো হয়। পাশাপাশি সরকারও গড়ে প্রতি বছর আট কোটি গাছ লাগিয়ে থাকে। পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, সবাই বেশি করে গাছ লাগিয়ে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য একটা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
রোববার (২৩ জুলাই) বন অধিদপ্তরে আয়োজিত বৃক্ষমেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এ বছর শেরেবাংলা নগরের মাঠে ৫ জুন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষমেলায় সর্বমোট ২৯ লাখ ২ হাজার ৬১৪টি চারা বিক্রি হয়েছে, যার মোট বিক্রয়মূল্য ছিল ১৪ কোটি ৮১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এ বছর জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট বিক্রিত চারার সংখ্যা এবং বিক্রয়মূল্য পূর্বেকার যে কোনো বছরের তুলনায় বেশি। মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় ১০৪টি স্টলে ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারি, ৮টি স্টলে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ৮টি স্টলে অংশ নেয়।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবুজ আচ্ছাদন বিনির্মাণে প্রতিবছর আয়োজন করা হচ্ছে বৃক্ষমেলা। রোপণ করা হচ্ছে কোটি কোটি বৃক্ষ। এ বছরও রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষমেলা ছাড়াও দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে ও ৫৬টি জেলা শহরে এবং ২টি উপজেলা সদরে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মন্ত্রী এসময় আগামী বছর সব উপজেলায় বৃক্ষমেলা আয়োজনের জন্য বন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের বনভূমির পরিমাণ মোট ভূমির ১৬ শতাংশে এবং দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন আহমেদসহ অনেকে।
স্বাগত বক্তব্য দেন বন অধিদপ্তরের উপ-প্রধান বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান।
আইএইচআর/এমআইএইচএস/জিকেএস





মন্তব্য
(০)