সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস ১১ কিমি/ঘ

শত্রুতাবশত ফসল নষ্ট করার শাস্তি কী?

বিশ্বে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নৈতিকতার সংকট, লোভ-লালসা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে নিরপরাধ গাছপালা, ফসল ও পরিবেশের ওপর মানুষের নিষ্ঠুরতা দিন দিন বাড়ছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তন কৃষিখাতকে হুমকির মুখে ফেলছে। অন্য

পরিবেশ

বিশ্বে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নৈতিকতার সংকট, লোভ-লালসা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে নিরপরাধ গাছপালা, ফসল ও পরিবেশের ওপর মানুষের নিষ্ঠুরতা দিন দিন বাড়ছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তন কৃষিখাতকে হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে মানুষের স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ড কৃষিজমি ও পরিবেশের জন্য আরও বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।

লোভ-লালসা: ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের কারণে কৃষিজমি দখল, অবৈধ নির্মাণ এবং বন উজাড় করা হচ্ছে। জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে কৃষিজমির ক্ষতি করছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা: কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার জন্য ফসল ধ্বংস করা হতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে তাদের কৃষিজমি, ফলের বাগান বা ফসলি জমি নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয় বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

সামাজিক অবক্ষয়: আইনের শিথিলতা, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে অনেকেই গাছপালা ও ফসলের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালাচ্ছেন।

ব্যক্তিগত শত্রুতা ও প্রতিশোধপরায়ণতা: ব্যক্তিগত শত্রুতা বা প্রতিশোধ নিতে অনেক সময় ফসলি জমি নষ্ট করা হয়। বাগানের গাছ কেটে ফেলা হয়। এমনকি বিষ প্রয়োগ করেও ফসল ধ্বংস করা হয়। এটি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নয়, পুরো কৃষি অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।

ভুল নীতি ও অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত: কখনো কখনো সরকার বা সংস্থার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়। যেমন- অবৈধভাবে কৃষিজমি দখল, কৃষকদের ন্যায্য মূল্য না দেওয়া বা ভুল সময়ে আমদানি-রপ্তানি নীতি গ্রহণ করা।

কৃষকদের প্রতিবাদ: অনেক সময় কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নিজেরাই ফসল ধ্বংস করতে বাধ্য হন। এটি একটি কঠিন বাস্তবতা। যেখানে কৃষকের কষ্টের ফল মূল্যহীন হয়ে যায়।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত অবহেলা: মানুষের পরিবেশদূষণ ও বন উজাড়ের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি ফসল ধ্বংস করে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

আধুনিক কৃষি ও প্রযুক্তির ভুল ব্যবহার: অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহার, জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) ফসলের প্রভাব এবং ভুল প্রযুক্তির কারণে অনেক সময় কৃষিজমির উর্বরতা কমে যায়। যা ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যার ফল ও প্রভাবের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। বৃক্ষ নিধনের ফলে জলবায়ুর ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যা ভূমিধস, খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হলে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ধরনের অপরাধের বিচার না হলে এটি সমাজে আরও বিশৃঙ্খলার জন্ম দেবে। অন্যের ফসল ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা একটি অপরাধ এবং এর জন্য বিভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা শাস্তির বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860)-তে ফসল নষ্ট করার বিষয়ে কয়েকটি ধারা রয়েছে—ধারা ৪২৭ (সাধারণ ক্ষতি)–যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের সম্পত্তি বা ফসল নষ্ট করে এবং ক্ষতির পরিমাণ ৫০ টাকা বা তার বেশি হয়, তবে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ধারা ৪৩০ (সেচ বা কৃষি ব্যবস্থার ক্ষতি)–যদি কেউ কৃষিকাজে ব্যবহৃত পানির উৎস বা কৃষি ব্যবস্থার ক্ষতি করে, তবে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ধারা ৪৩১ (গোচারণ বা রাস্তার মাধ্যমে ক্ষতি করা)–যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের জমিতে গবাদিপশু ছেড়ে দিয়ে ফসল নষ্ট করে, তবে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে।

বিশেষ পরিস্থিতিতে ফসল ধ্বংস করলে—যদি কেউ প্রতিহিংসার কারণে বা শত্রুতা করে ফসল পুড়িয়ে দেয় বা সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলে, তবে এটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ইদানিং দেশে লোভ-লালসা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক অবক্ষয়, ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিরপরাধ ফল, ফসলাদি, বৃক্ষরাজির ওপর মানুষের নির্দয় আচরণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে! যা একটি দেশের জন্য ভয়ানক পরিণতির নিদর্শন প্রকাশ করে! এই মানবসৃষ্ট দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সরকারকে জরুরি আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার এখনই সময়।

মানুষের লোভ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে ফসল ও বৃক্ষরাজির ওপর নিষ্ঠুরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এই ধ্বংসযজ্ঞ রোধ করতে সরকারকে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে এবং জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও কৃষি-সমৃদ্ধ দেশ নিশ্চিত করা যায়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()