সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় পটকা মাছ খেয়ে একই পরিবারের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে আজহারুল ইসলাম (৩৭) নামের এক মুদিদোকানি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর আট বছরের ছেলে, ১১ বছরের মেয়ে ও ৬০ বছর বয়সী মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোমবার উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার দুপুরে বড়দল বাজার থেকে পটকা মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে যান আজহারুল, যাঁর ওই বাজারে মুদিদোকান ছিল। মাছ খাওয়ার পরপরই তিনি ও তাঁর ছেলে রামিম বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন; পরে মেয়ে স্বর্ণালী ও মা রাশিদাও অসুস্থ হন। আজহারুলের স্ত্রী ওই মাছ খাননি।
গুরুতর অবস্থায় আজহারুলকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে; চাচাতো ভাই ও চাচারা দাফনের আয়োজন করছেন।
বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য রেহেনা খাতুন জানান, মাছ খাওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজন নিষেধ করলেও আজহারুল বলেছিলেন, ‘এতে কিছু হবে না।’ তাঁর বাবা অনেক আগে মারা গেছেন, মা বিধবা, দুই সন্তান ছোট—পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অজয় কুমার সাহা বলেন, পটকা মাছে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিষ থাকে, যা মানুষের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তিনি পটকা মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দেন।
উপকূলীয় জেলাগুলোর বাজারে পটকা মাছ বিক্রি ও তা খেয়ে বিষক্রিয়ার ঘটনা নতুন নয়; এই মৃত্যু আবারও দেখাল, বাজার পর্যায়ে সতর্কতা ও খাদ্যনিরাপত্তার প্রচার কতটা জরুরি।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)