লবণাক্ত মাটিতেও ফলন দিতে পারে এমন গমের জাত তৈরি করছে সুইডেনের স্টার্টআপ ওলসারো (OlsAro)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সিডএএক্স (SeedAX) প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে ৫০ লাখ ইউরো (৫৫ লাখ ডলার) বীজ তহবিল সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছে এজিফান্ডনিউজ। ২০২৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার লক্ষ্য তাদের, আর প্রধান বাজারগুলোর একটি বাংলাদেশ।
তহবিলে যৌথ নেতৃত্ব দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিফন্ডেন ও নর্ডিক ফুডটেক ভিসি; সঙ্গে ছিল ফিউচার ফুড ফান্ড, পিআইএনসি, এজিফান্ডার ও জিইউ ভেঞ্চারস। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট তহবিল দাঁড়াল ৭৫ লাখ ইউরো (৮৩ লাখ ডলার)। এজিফান্ডনিউজ জানিয়েছে, তাদের মূল প্রতিষ্ঠান এজিফান্ডার ওলসারোর একজন বিনিয়োগকারী। নতুন অর্থ ব্যয় হবে বাণিজ্যিক কাজে, খরাসহিষ্ণুতা ও নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা নিয়ে নতুন গবেষণায় এবং ধানসহ অন্য দানাশস্যে কাজ সম্প্রসারণে।
প্রধান নির্বাহী এলেন ফাক্সো (Elén Faxö) জানান, বাংলাদেশে লবণাক্ত পরিবেশে তাদের গম একটি মাঝারি লবণসহিষ্ণু জাতের চেয়ে ৪১% পর্যন্ত বেশি ফলন দিয়েছে। তাঁর কথায়, "বাংলাদেশ আমাদের প্রধান বাজারগুলোর একটি; ২০২৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনতে আমরা লাল তীর সিডের সঙ্গে কাজ করছি।" তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত, অথচ দেশে উৎপাদিত গমের চাহিদা বাড়ছে। কেনিয়া ও পাকিস্তানে উন্নত পর্যায়ের মাঠ পরীক্ষা চলছে; মিসর, ইতালি, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় লবণ ও তাপ সহিষ্ণুতার পরীক্ষা হচ্ছে। ভারতে ডিসিএম শ্রীরাম উত্তর প্রদেশ ও বিহারে এর লাইন পরীক্ষা করেছে।
জাতগুলো এমনভাবে তৈরি, যাতে প্রতি মিটারে ৪ থেকে ৮ ডেসিসিমেন্স, এমনকি ১০ ডেসিসিমেন্স পর্যন্ত লবণাক্ততায়ও সাধারণ গমের চেয়ে ভালো ফলন দেয়। মাঝারি থেকে তীব্র লবণাক্ত এই মাটিতেই সাধারণ গমের ফলন অনেকটা কমে যায়। ওলসারো দুইভাবে কাজ করে: জিনগত পরিবর্তন (জিএম) ছাড়া একটি পদ্ধতিতে বীজকে ইএমএস দিয়ে শোধন করে বিপুল জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি করা হয়, তারপর সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের লাইন বাছাই হয়; আর যেখানে নিয়ম অনুমতি দেয়, সেখানে জিন সম্পাদনা। নিজেদের জিনোম, মাঠ ও ট্রান্সক্রিপ্টোমিক তথ্যে প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত জিনগত ভিন্নতা খুঁজে বের করে।
ফাক্সো বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-দশমাংশ ফসলি জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত; বন্যা, ঘূর্ণিঝড় আর লোনা পানিতে সেচ এ সমস্যা বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ত জমির বড় অংশ পতিত থাকে; এমন মাটির জন্য তৈরি গম সেখানকার কৃষকের সামনে নতুন সুযোগ হতে পারে। প্রতিবেদনটি করেছেন এলেইন ওয়াটসন (Elaine Watson)।
ছবি: Willem van Aken, CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)