সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস ১২ কিমি/ঘ

রমজান এলে দাম বাড়ে, চাষির কপাল পোড়ে

আবু রায়হান

পরিবেশ

আবু রায়হান

রমজান মাস আসতেই বাজারের পাল্লা যেন উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যে পণ্যের দাম গত সপ্তাহেও নাগালে ছিল, আজ তা ছুঁয়ে দেখতেই কষ্ট। অথচ চাষিরা ন্যায্য মূল্য পায় না কখনোই। আলু, চাল, ডাল, তেল, ছোলা—সবকিছুর গায়েই নতুন দাম সাঁটা। সংযমের মাস আসার আগেই সাধারণ মানুষের সংসারে শুরু হয় হিসাবের চাপ।

অর্থনীতির ভাষায় চাহিদা বাড়লে কৃষিপণ্যের দাম বাড়ে, এটি স্বাভাবিক নিয়ম। রমজানে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কিছুটা বাড়ে, বিশেষ করে ইফতার ও সেহরিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই চাহিদা কি এতটাই অস্বাভাবিক যে প্রতি বছর শাক-সবজির বাজার অস্থির হয়ে উঠতে হবে? বাস্তবতা বলছে, চাহিদার চেয়ে সংকট বেশি তৈরি হয় ব্যবস্থাপনায়, নজরদারিতে এবং নৈতিকতার অভাবে।

রমজান আসছে—খবরটি নতুন নয়। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়েই এ মাস আসে। তবু ব্যবসায়ীরা আগেভাগে পণ্য মজুত করেন না, আমদানি ও সরবরাহ পরিকল্পনায় ঘাটতি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে পণ্য মজুত ও অতিরিক্ত মুনাফা করার সুযোগ হিসেবে দেখেন। সংযমের মাস তখন মুনাফার মাসে রূপ নেয়।

একই সময়ে জমিতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পান না চাষিরা। তারা জমিতে থেকে আলু কেজিতে ১২ টাকা বিক্রি করলেও বাজারে এসে তা হয়ে যায় ২৫ টাকা। পটলের কেজি হয়ে যায় ৪০০ টাকা। করলার কেজি ২০০ টাকা। ২০ টাকার শিম হয়ে যায় ৬০ টাকা। খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে, কৃষক নামমাত্র মূল্যে এসব বিক্রি করে দিয়েছেন রমজান এসেছে বলে।

সরকার প্রতি বছরই সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেয়, টিসিবির ট্রাকসেল, ওএমএস, ভ্রাম্যমাণ বাজার। কিন্তু এসব উদ্যোগ চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত। বড় একটি জনগোষ্ঠী এই সুবিধার বাইরে থেকে যায়। ফলে খোলা বাজারের ওপর চাপ বাড়ে, আর সেই সুযোগ নেয় মুনাফালোভীরা।

এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের ভূমিকা একেবারে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। রমজান এলেই আমরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কেনাকাটা করি। 'পরে দাম বাড়বে' এই আশঙ্কায় একসঙ্গে অনেক পণ্য কিনে ফেলি। এতে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়, সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ পড়ে। বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, যা দাম বৃদ্ধিকে আরও উসকে দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তদারকির দুর্বলতা। বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হলেও তা অনেক সময় লোক দেখানো পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে। শাস্তির নজির কম থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বারবার একই কাজ করার সাহস পায়। তাতে কপাল পোড়ে কৃষকের। এদিকে নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি না থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণ কাগজেই সীমাবদ্ধ।

রমজান আমাদের শেখায় সংযম, সহানুভূতি ও ন্যায়বোধ। অথচ এ মাসেই যদি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে, তবে সেই শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ কোথায়? বাজার নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; কৃষক, ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও প্রশাসন—সব পক্ষের সম্মিলিত দায় আছে।

রমজান এলেই যেন বাজার অস্থির না হয়, সে জন্য প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি, কঠোর নজরদারি এবং সর্বোপরি নৈতিকতার চর্চা। না হলে সংযমের মাস বারবারই পরিণত হবে মূল্যবৃদ্ধির মাসে। যার বোঝা বইতে হবে সাধারণ মানুষকেই। কৃষকের উৎপাদিত ফসল কৃষককেই বেশি দামে কিনতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()