জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) রোমের সদর দপ্তরে ১২ অক্টোবর শুরু হয়েছে 'আদিবাসী জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও জ্ঞানব্যবস্থা বিষয়ক গ্লোবাল-হাব'-এর চতুর্থ বার্ষিক বৈঠক। বিশ্বের সাতটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঞ্চলের আদিবাসী ও অ-আদিবাসী বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিনিধিরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বৈঠক বসেছে দুটি সামি যাযাবর তাঁবুতে, যার নাম লাভু (Lavvu)। এফএও প্রাঙ্গণের মাঝখানে এগুলো দিয়ে একটি আদিবাসী এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য দিবস ও বিশ্ব খাদ্য ফোরামের সপ্তাহজুড়ে চলা এ আয়োজনে জ্ঞানধারক, নেতা, বিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আদিবাসী জ্ঞানের ভূমিকা জোরদারের পথ খুঁজবেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে এফএও মহাপরিচালক কু ডংইউ (QU Dongyu) বলেন, সব মানুষই ইতিহাস ও পূর্বপুরুষের সূত্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। অংশগ্রহণকারীদের তিনি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার বিনয়ী মাধ্যম বলে বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় একটি আধ্যাত্মিক আচার দিয়ে, এরপর হাউডেনোসনি জাতির প্রধান ডেসকাহেহ আগুন জ্বালান।
ইকুয়েডরের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিয়া হোসে পিন্তো নিজ দেশের আদিবাসী জ্ঞান ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বলিভিয়ার টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ ও পানিমন্ত্রী অস্কার মারিও হুস্তিনিয়ানো এবং নেপালের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী গীতা চৌধুরীও অংশ নেন। গুয়াতেমালা, আয়ারল্যান্ড, পানামা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) পিটারনেল বুগার্ডও উপস্থিত ছিলেন।
২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করা গ্লোবাল-হাব এখন ৪০টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের ২৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ নিয়ে একটি চিন্তন প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালে প্রকাশিত এর 'হোয়াইট/উইফালা পেপার' নীতি-আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে। এবারের বৈঠকে গ্রামীণ রূপান্তরে আদিবাসীদের বাদ পড়া নিয়ে 'হোয়াইট/তে ওরাঙ্গা পেপার' আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
সপ্তাহের প্রতিটি দিনের আলাদা বিষয় রয়েছে: বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন, ঝুঁকি ও সমৃদ্ধি, প্রাণকেন্দ্রিক পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ এবং চলাচল ও পুষ্টি। এফএও-র খাদ্য ও কৃষি জাদুঘরে আদিবাসীদের জন্য তৈরি 'হোপ রুম'-এর এক বছর পূর্তিও উদযাপন করা হবে। প্রতি রাতে পাঁচজন আদিবাসী রাঁধুনি নৈশভোজ রাঁধবেন।
সূত্র: এফএও নিউজরুম




মন্তব্য
(০)