সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.১ মিমি

খড় পোড়ানো বন্ধ করে মেকংয়ের সমবায় হেক্টরে পাচ্ছে ৭০ ডলার

কান থোর তিয়েন থুয়ান সমবায় এখন মাসে ১২ থেকে ১৫ টন জৈব সার বানায় এবং যে খড় আগে পোড়ানো হতো তাতেই মাশরুম ফলায়; খড় পোড়ানো বা কাঁচা বিক্রির তুলনায় হেক্টরে বাড়তি আয় ৫০ থেকে ৭০ ডলার।

ফসল

কান থো শহরের তিয়েন থুয়ান কৃষি ও সেবা সমবায়ে বছরের পর বছর ধরে প্রতিটি ধান কাটার শেষটা বোঝা যেত ধোঁয়া দেখে। আলগা খড়ের ক্রেতা ছিল না, এ দিয়ে আর কী করা যায় তার তথ্যও ছিল না, আর পুড়িয়ে ফেলা ছিল দ্রুততম পথ। কৃষকেরা আবার ভয় পেতেন, খড় জমি থেকে সরিয়ে নিলে মাটির ক্ষতি হবে। ফলে খড় থেকে গেল সরিয়ে ফেলার আপদ হিসেবে, বিক্রির ফসল হিসেবে নয়।

সমবায়ের পরিচালক নগুয়েন কাও খাই লক্ষ করেছিলেন, এই চর্চার দাম কী। ধানের এলাকায় উপকারী পোকা কমে গিয়েছিল, হারিয়ে গিয়েছিল খেতের কাঁকড়া; রাসায়নিকনির্ভর চাষ কৃষকের স্বাস্থ্য নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছিল। কিন্তু বহু বছরের অভ্যাস বদলাতে নির্দেশ যথেষ্ট নয়, দরকার এমন প্রমাণ যা কৃষক নিজের জমিতে দেখতে পান।

সেই প্রমাণ এসেছে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) ও তার রাইসইকো প্রকল্পের মধ্য দিয়ে — মেকং-কোরিয়া সহযোগিতা তহবিল ও মেকং ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় চলা খড়ভিত্তিক চক্রাকার অর্থনীতির কাজ। ইরি এনেছে খেতের বাইরের প্রযুক্তি — খড় সংগ্রহ, মাশরুম চাষ ও যান্ত্রিক কম্পোস্টিং — এবং খেতের ভেতরের প্রযুক্তি, অর্থাৎ যন্ত্রে খড় মেশানোর সঙ্গে দ্রুত পচানোর অণুজীব। ২০২৪ সালের জুনে ইরি ও কান থোর কৃষি কর্তৃপক্ষ সমবায়ে চক্রাকার কৃষির মডেলটি চালু করে এবং একটি স্বয়ংচালিত জৈব সার টার্নার হস্তান্তর করে।

পরিবর্তনটা মাপা যায় জায়গার হিসাবে। রাইসইকোর আগে সমবায়ে খড় প্রক্রিয়াকরণের কোনো যন্ত্র ছিল না, উৎপাদনের জায়গা ছিল প্রায় ২৪০ বর্গমিটার। এখন কম্পোস্টিংয়ের জন্য প্রায় ১ হাজার বর্গমিটার, মজুতের জন্য ৫৪০ বর্গমিটার এবং মাশরুম উৎপাদনের জন্য আরও ৪ হাজার বর্গমিটার। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ মাসে ১২ থেকে ১৫ টন জৈব সার উৎপাদন হচ্ছিল; ৬০০ থেকে ৭০০ রোল খড় দিয়ে একটি মাশরুম চক্রে ৪০ থেকে ৪২ দিনে মেলে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০ কেজি। ইরির হিসাব, খড় পুড়িয়ে ফেলা বা প্রায় ২৫ ডলারে আলগা বিক্রির তুলনায় চক্রাকার চর্চায় হেক্টরে বাড়তি আয় ৫০ থেকে ৭০ ডলার।

কাজটি ছড়িয়েছে বাইরেও। মাশরুমের জন্য খড় সংগ্রহ ও সামলানোয় গ্রামে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নারীদের জন্য। যে খড় আগে খেতেই পুড়ত, তা এখন যায় স্থানীয় একটি শৃঙ্খলের ভেতর দিয়ে — সংগ্রহ, পরিবহন, মজুত, চাষ, কম্পোস্ট। এতে পরিবারগুলোর বাড়তি আয় হয়, আর সমবায় পায় বাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম।

খাই ইরির প্রদর্শনীভিত্তিক পদ্ধতিটি নিজেই কাজে লাগিয়েছেন। কৌশল দেখাতে জমি ভাড়া নিয়েছেন, অগ্রণী কৃষকদের স্থানীয় উদাহরণ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন এবং পরিবারগুলোকে উৎসাহ দিয়েছেন পরীক্ষামূলক প্লট আর প্রচলিত জমির ফল মিলিয়ে দেখতে। ব্যর্থতার ভয় কাটাতে মাঠ পরীক্ষার জন্য জামানতের টাকাও দিতে চেয়েছিলেন; অংশ নেওয়া কোনো কৃষকেরই তা নিতে হয়নি। বছরে ২০ বারের বেশি তাঁর ডাক পড়ে নানা সভায়। তাঁর নিজের হিসাবে, আশপাশের মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কৃষক যন্ত্রে সরাসরি বপনে কম বীজ ব্যবহারের মতো চর্চাগুলো নিয়েছেন — কর্তৃপক্ষ কম নিঃসরণের লক্ষ্য ঘোষণা করতে পারে, কিন্তু কৃষকের দরকার কাছেই একটি চালু উদাহরণ।

খড়ের ব্যবসা বড় করা এখনও কঠিন, কারণ সংগ্রহ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ — সবেতেই দামি যন্ত্র লাগে। রাইসইকো শেষ হওয়ার পর থিয়েন তাম ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টের সহায়তায় এসেছে খড়ের বেলার, ড্রোন, পচানোর যন্ত্র ও পেলেট তৈরির যন্ত্র। তবু খাই মনে করেন, সমবায়কে যন্ত্র কিনে বড় এলাকায় সেবা দিতে হলে দরকার পাঁচ থেকে সাত বছরের অর্থায়ন। একটি বিদ্যুৎ কোম্পানি খড় থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও যোগাযোগ করেছে। রাইসইকোর কাজ ২০২৩ সালে মেকং বদ্বীপের জন্য জারি করা ভিয়েতনামের টেকসই, চক্রাকার ও কম নিঃসরণের খড় ব্যবস্থাপনার জাতীয় কারিগরি নির্দেশিকায় ভূমিকা রেখেছে; ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় প্রকল্পটি পৌঁছেছে ৫ হাজার ৮৪ জন কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে।

সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)

CGIARদা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

মাত্রাছাড়া সার-কীটনাশকে নষ্ট হচ্ছে মাটির স্বাস্থ্য, কৃষককে সতর্ক করার আহ্বান

রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

মণপ্রতি ৭০০ টাকাতেও ক্রেতা নেই, গোলাভরা ধান নিয়ে বিপাকে হাওরের কৃষক

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের প্রায় চার লাখ কৃষক ধানের দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন; গত বছরের তুলনায় মণপ্রতি দর নেমেছে কয়েকশ টাকা।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()