সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.১ মিমি

মানুষের সঙ্গে ‘সংঘাতে’ হেরে যাচ্ছে রাঙ্গামাটির হাতি

মানুষের সঙ্গে ক্রমাগত সংঘাতের মুখে পড়ে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এশীয় মহাবিপন্ন প্রজাতি বন্যহাতি। আবাসস্থল ধ্বংস, তীব্র খাদ্য সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাতির জীবন এখন সংকটাপন্ন। জেলার কাপ্তাই, লংগদু ও বরকল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতির চলাচলের প্রাচীন করিডোরগুলো ব

পরিবেশ

মানুষের সঙ্গে ক্রমাগত সংঘাতের মুখে পড়ে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এশীয় মহাবিপন্ন প্রজাতি বন্যহাতি। আবাসস্থল ধ্বংস, তীব্র খাদ্য সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাতির জীবন এখন সংকটাপন্ন। জেলার কাপ্তাই, লংগদু ও বরকল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতির চলাচলের প্রাচীন করিডোরগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতির দল। ফলে পাহাড়জুড়ে মানুষ ও হাতির সংঘাত নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বন উজাড় ও বিদ্যুতায়িত ফাঁদের কারণে গত দেড় দশকে রাঙ্গামাটির পাহাড়ে অন্তত ১৩টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে কেবল গত ১০ বছরেই প্রাণ গেছে ৮-১০টি হাতির।

অন্যদিকে, একই সময়ে হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৬ জন। বর্তমানে পুরো রাঙ্গামাটিতে মাত্র ৪০-৫০টি হাতি অবশিষ্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের হিসাবমতে, কাপ্তাই অঞ্চলে ৩৬টির মতো হাতি কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের তথ্য বলছে, লংগদু ও বরকল এলাকায় ১২-১৫টি হাতি সক্রিয় রয়েছে, যার বড় অংশটি অবস্থান করছে লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায়।

হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে লংগদু উপজেলায় বনবিভাগের সহযোগিতায় ২০২২ সালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) নামের একটি সংগঠন। যাদের কাজ হাতি লোকালয়ে এলে এলাবাসীকে সচেতন করা, হাতির কোনো ক্ষতি না করে তাদের বনে ফিরে যেতে সহায়তা করা এবং হাতি অসুস্থ হলে বনবিভাগকে জানানো।

ইআরটির সদস্য মাইনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‌'আমাদের সংগঠনে ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। আমাদের প্রধান কাজ হাতিকে রক্ষা করার জন্য মানুষকে সচেতন করা। আমরা দিনরাত মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজ করে চলেছি।'

পাহাড়ে মানুষের কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ, পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন ও অনিয়ন্ত্রিত বসতি স্থাপনের কারণে হাতির বংশপরম্পরায় ব্যবহৃত চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হচ্ছে। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল উজাড় ও সেগুন বা ইউক্যালিপটাসের মতো কৃত্রিম বনায়নের কারণে হাতির খাবারের প্রধান উৎস নিঃশেষ হয়ে আসছে।

শীত ও শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সন্ধানে বুনো হাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ করছে। খাবারের খোঁজে হাতির দল ফসলি জমি ও লোকালয়ে হানা দিলে সাধারণ মানুষ নিজেদের ফসল ও জীবন বাঁচাতে হাতির ওপর আক্রমণ চালায়, যা উভয় পক্ষের জন্যই করুণ পরিণতি ডেকে আনছে।

পরিবেশবাদীদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এশীয় হাতি সংরক্ষণ করা জরুরি। দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাঙ্গামাটির পাহাড় থেকে এই প্রাণীটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুপ্রিয় চাকমা বলেন, হাতির প্রাকৃতিক আবাসে যেভাবে বন উজাড় করে বাগান, সড়ক ও বসতবাড়ি তৈরি হচ্ছে, তাতে দ্রুতই হাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। হাতির খাদ্য ও চলাচলের পথ সুরক্ষায় গুরুত্ব না দিলে এই প্রাণীকে বাঁচানো অসম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কাপ্তাই এলাকায় হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে সোলার ফেন্সিং (বিদ্যুতায়িত বেড়া) স্থাপনের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি হাতির খাদ্যাভাব মেটাতে তাদের পছন্দের গাছ লাগানো হচ্ছে। লোকালয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে কেউ হাতির ওপর আক্রমণ না করেন।

আবু দারদা খান আরমান/এসআর/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

পদ্মার পানি নামছে, দৌলতপুরে শুরু হয়েছে খাওয়ার পানির সংকট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তিন দিনে পদ্মার পানি ১৫ সেন্টিমিটার কমলেও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি, আর হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

বাঁশের ওপর টিকে থাকা পান্ডা কেন কেবল চীনেই মেলে

একটি পূর্ণবয়স্ক জায়ান্ট পান্ডাকে দিনে ১২ থেকে ৩৮ কেজি পর্যন্ত বাঁশ খেতে হয়, আর বাঁশবন ধ্বংস হলেই তার অস্তিত্ব সরাসরি হুমকিতে পড়ে।

বিবিসি বাংলা১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()