কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সরকারি বরাদ্দের ইউরিয়া সার গুদামে আটকে রেখে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে, যিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। বুধবার সকালে রাজীবপুর বাজারে তাঁর বিক্রয়কেন্দ্র ‘শফি এন্টারপ্রাইজ’-এর গুদামের তালা ভেঙে সার নেওয়ার চেষ্টা করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গুদামের সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। ডিলার শফিউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শফিউর রহমানের গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া মজুত ছিল। সকালে বিতরণের স্লিপ দিতে দেরি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়; সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা তালা ভেঙে সার বের করার চেষ্টা করেন।
অপেক্ষমাণ কৃষক মফিজুল হক ও আবদুল হাকিম জানান, সারের আশায় তাঁরা রাত তিনটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অন্য ডিলারদের তুলনায় এই গুদামে সার বেশি থাকলেও তা আটকে রাখা হয়েছিল এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছিল বলে তাঁদের অভিযোগ।
শফিউর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ৫০০ বস্তা সারের বিপরীতে কয়েক শ কৃষক ভিড় করেছিলেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাশের একটি বাড়ি থেকে স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর দাবি, কিছু লোক উসকানি দিয়ে গুদামে হামলা চালিয়েছে এবং হামলাকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কয়েকজন ‘চিহ্নিত ব্যক্তি’ ছিলেন, যাঁদের আবাদি জমি নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সার বিতরণ শেষ হয়েছে এবং এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। রাজীবপুরের আরেক ডিলার আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৩৫০ টাকার সরকারি সার ১ হাজার ৭৩০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। চট্টগ্রাম থেকে বাড়তি দামে সার আনার অজুহাত দেখালেও সরকারি সার আটকে রেখে বেশি দামে বিক্রি আইনবহির্ভূত বলে জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন কৃষি কর্মকর্তা।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, কৃষি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে সার বিতরণ হয়েছে এবং ডিলার শফিউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)