বেগুনি মেটে আলু বা উবের (ube) বিশ্বের প্রধান উৎপাদক ফিলিপাইন বিশ্বজুড়ে চাহিদা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তাজা উবে রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে, জানিয়েছে ফুডনেভিগেটর। দেশটির কৃষি বিভাগ বলছে, উৎপাদন বাড়িয়ে ফসলটিকে বড় রপ্তানি পণ্যে পরিণত করতে যে রোপণ উপকরণ লাগবে, তার ঘাটতি সামলাতেই এই নিষেধাজ্ঞা।
উবের নতুন গাছ হয় পুরোনো কন্দ থেকেই, তাই বিদেশে পাঠানো প্রতিটি কন্দ মানে হারানো বীজ। কৃষিমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো তিউ লরেল জুনিয়র বলেন, নিজেদেরই রোপণ উপকরণের তীব্র ঘাটতি; আর এমন দেশে তা পাঠাতে চান না, যারা ফিলিপাইনের জাত দিয়ে তাদের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করবে।
উৎপাদন অল্প এবং কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবার ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে ফিলিপাইনের উবে উৎপাদন ২০২৫ সালে সাড়ে ১২ হাজার টনের নিচে, যা ২০২১ সালে ছিল ১৪ হাজার ১৫০ টন; দুর্বল অবকাঠামোয় সংগ্রহোত্তর ক্ষতি ও খণ্ডিত খামারকে কারণ বলা হয়েছে, তবে বাড়ানোর বড় সুযোগও দেখা হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি মার্কেট রিসার্চের হিসাবে ২০২৪ সালে বিশ্বে উবের বাজার ছিল ৪৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের, ২০৩৫ সালে তা ৯৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে; ফিলিপাইনের উবে মূলত যায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও মধ্যপ্রাচ্যে।
উবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফিলিপাইন উবের প্রতিষ্ঠাতা আলোনজো নিয়েভেস (Alonzo Nieves) জানান, নিষেধাজ্ঞা শুধু তাজা উবে ও রোপণ উপকরণে, উবে পাউডারের মতো প্রক্রিয়াজাত পণ্যে নয়; অন্তত ১০ জন ক্রেতা তাঁর কাছে জানতে চেয়েছেন তাঁরা বাদ পড়বেন কি না। তাঁর মতে, ঘাটতির একটি কারণ রোপণের কন্দের আলাদা বাজার: হঠাৎ অনেকে উবে চাষ শুরু করায় নতুন চাষিরা খাদ্য ক্রেতা ও প্রক্রিয়াকারীদের সঙ্গে একই কন্দের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উবের দাম বাড়তে ও পাওয়া কঠিন হতে পারে।
নিয়েভেসের যুক্তি, সরবরাহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চাহিদা একসঙ্গে বাড়াতে হবে, কারণ বাড়তি ফসল কে প্রক্রিয়াজাত করবে আর কে কিনবে, তা নিশ্চিত না হলে কৃষক চাষ বাড়াবেন না। তিনি আরও বলেন, বিদেশে 'উবে' নামে বিক্রি হওয়া অনেক পণ্যই আসলে বেগুনি মিষ্টি আলু বা রং, যা প্রকৃত চাষিদের চাহিদা কেড়ে নেয়; ক্রেতাদের উচিত প্রজাতি, পূর্ণ উপাদান, কোথায় উৎপন্ন এবং চালানভিত্তিক উৎস শনাক্তের তথ্য চাওয়া। খাতের অংশীজনেরা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ইউনাইটেড উবে পিএইচ অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেছেন, আর প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ২০২৭ সালে উবে খাতের জন্য ৩০ কোটি পেসোর বাজেট অনুমোদন করেছেন।
ছবি: Badagnani / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: FoodNavigator



মন্তব্য
(০)