সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৮%বাতাস ১৪ কিমি/ঘ

পরিবেশ বাঁচান, সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ুন

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নটি দিন দিন আরও গভীর ও জরুরি হয়ে উঠছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং অতিরিক্ত ভোগবাদী জীবনযাপনের ফলে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে যেমন বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে; অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ঘনত্ব বেড়ে চলেছে। নদী-নালা, খাল-বি

পরিবেশ

বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নটি দিন দিন আরও গভীর ও জরুরি হয়ে উঠছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং অতিরিক্ত ভোগবাদী জীবনযাপনের ফলে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে যেমন বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে; অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ঘনত্ব বেড়ে চলেছে। নদী-নালা, খাল-বিল দখল ও দূষণের শিকার; বনভূমি উজাড় হয়ে যাচ্ছে অবাধে; বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে শুধু প্রকৃতি নয়, মানবজীবনও হুমকির মুখে পড়ছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এই সংকট আরও ভয়াবহ। সামান্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত কিংবা খরার প্রভাব এখানে সরাসরি মানুষের জীবন-জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তায় আঘাত হানে। ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ এখন আর বিলাসিতা নয় বরং টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য একটি শর্ত। এই প্রেক্ষাপটে 'পরিবেশ বাঁচান, সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ুন' ধারণাটি আমাদের চিন্তা, নীতি এবং দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল আমরা এই সংকট মোকাবিলা করে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।

গাছ হলো প্রকৃতির ফুসফুস। গাছ কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা মানবজীবনের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে প্রতিনিয়ত বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাছ লাগানো শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গেও জড়িত। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে আমরা যেমন খাদ্য ও আয় নিশ্চিত করতে পারি, তেমনই ভূমিক্ষয় রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারি। প্রতিটি পরিবার যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগায় এবং তা সঠিকভাবে পরিচর্যা করে, তাহলে দেশব্যাপী এক বিশাল সবুজ বিপ্লব সম্ভব।

প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সহজতা এনেছে কিন্তু এর ক্ষতিকর প্রভাব আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এটি মাটিতে শত শত বছর পর্যন্ত অবিকৃত থাকে এবং নদী-নালা, সাগর ও কৃষিজমি দূষিত করে। প্লাস্টিক বর্জনের জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে এবং বিকল্প ব্যবহার করতে হবে। যেমন- কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের প্যাকেট, জৈবভাবে পচনশীল পণ্য ইত্যাদি। বাজারে গেলে নিজস্ব ব্যাগ ব্যবহার করা, প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে কাচ বা স্টিলের বোতল ব্যবহার করা, এসব ছোট ছোট অভ্যাস বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সরকারি নীতিমালার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা প্লাস্টিক দূষণ রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি নিজেরাই দায়িত্ব নিই, তাহলে ধীরে ধীরে একটি প্লাস্টিকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদী শুধু আমাদের ভূপ্রকৃতির অংশ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু বর্তমানে নদীগুলো দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে। শিল্পকারখানার বর্জ্য, পলিথিন, ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা পানির গুণগত মান নষ্ট করছে এবং জলজ প্রাণীর জীবনকে বিপন্ন করছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে বন্যা, খরা এবং নৌ-যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়। নদী রক্ষার জন্য প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। নদীর তীর দখলমুক্ত রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন, এসব উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকেও নদীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

বর্তমান বিশ্বে শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। তাই শক্তি সঞ্চয় এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। দৈনন্দিন জীবনে আমরা কিছু সহজ পদক্ষেপ গ্রহণ করে শক্তি সঞ্চয় করতে পারি। যেমন- অপ্রয়োজনে বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা, এলইডি বাতি ব্যবহার করা, সৌরশক্তি ব্যবহার বাড়ানো ইত্যাদি। এসব উদ্যোগ শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই নয়, পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি এবং বায়োগ্যাসের মতো উৎসগুলো ব্যবহার করে আমরা একটি টেকসই শক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি।

পরিবেশ রক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। সরকার, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পরিবেশ শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সচেতন করে তুলতে হবে। মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইতিবাচক উদ্যোগ এবং সফল উদাহরণগুলো তুলে ধরলে মানুষ আরও অনুপ্রাণিত হবে। পরিবেশ রক্ষা মানে নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা। আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, তার প্রভাব পড়বে আগামী প্রজন্মের ওপর। তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার, দায়িত্ব নেওয়ার এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।

পরিশেষে বলা যায়, পরিবেশ রক্ষা আজ আর বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অপরিহার্য শর্ত। গাছ লাগানো, প্লাস্টিক বর্জন, নদী রক্ষা এবং শক্তি সঞ্চয়ের মতো সহজ উদ্যোগগুলোই পারে বৃহৎ পরিবর্তনের সূচনা করতে। ব্যক্তিগত সচেতনতা থেকেই সামাজিক পরিবর্তনের জন্ম হয়, আর সেই পরিবর্তনই একসময় জাতীয় ও বৈশ্বিক রূপ নেয়। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে সামান্য দায়িত্বশীল হই, তবে দূষণ কমানো, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব। বর্তমান প্রজন্মের অসচেতনতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ভয়াবহ সংকট তৈরি করতে পারে। তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার, অভ্যাস বদলানোর এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার। পরিবেশের প্রতি আমাদের যত্নই আমাদের আগামীকে নিরাপদ করবে। একটি সবুজ, নির্মল ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন তখনই বাস্তবে রূপ নেবে; যখন আমরা কথার চেয়ে কাজে বেশি গুরুত্ব দেব। 'পরিবেশ বাঁচান, সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ুন' আহ্বানটি যেন আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। তাহলেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারবো একটি সুন্দর, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()