যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা ২০২৬ সালে ৯ কোটি ৫৩ লাখ একর জমিতে ভুট্টা আবাদ করতে চান, যা গত বছরের চেয়ে ৩% কম; আর সয়াবিনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ৮ কোটি ৪৭ লাখ একর, ৪% বেশি। ৩১ মার্চ দেশটির কৃষি বিভাগের ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (এনএএসএস) প্রকাশিত প্রসপেক্টিভ প্ল্যান্টিংস প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে।
মার্কিন কৃষকদের আবাদ পরিকল্পনা নিয়ে এটিই বছরের প্রথম সরকারি, জরিপভিত্তিক হিসাব। মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে প্রায় ৭৪ হাজার খামারির কাছ থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটি তৈরি।
ভুট্টা থেকে সরে আসাটা কোনো একটি অঞ্চলের ঘটনা নয়। হিসাবভুক্ত ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের ৩৭টিতেই ভুট্টার আবাদ পরিকল্পনা কম; ইলিনয়, আইওয়া, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও উইসকনসিনে ৩ লাখ একর বা তার বেশি কমতে পারে। উল্টো দিকে, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নেভাদা ও ওয়াশিংটনে ভুট্টার জমি হবে সর্বকালের সর্বোচ্চ, আর কানেটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, পেনসিলভেনিয়া ও রোড আইল্যান্ডে সর্বনিম্ন।
সয়াবিনে ৩ লাখ একর বা তার বেশি বাড়ার সম্ভাবনা আরকানসাস, আইওয়া, কানসাস, মিসিসিপি, নেব্রাস্কা, সাউথ ডাকোটা ও উইসকনসিনে; উইসকনসিনে তা রেকর্ড ছোঁবে বলে ধারণা। গমের জমি কমার কথা: সব ধরনের গম মিলিয়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ একর, ৩% কম — এর মধ্যে শীতকালীন গম ৩ কোটি ২৪ লাখ, অন্যান্য বসন্তকালীন গম ৯৪ লাখ ২০ হাজার ও ডুরাম ১৯ লাখ ৫০ হাজার একর। সব ধরনের তুলা মিলিয়ে ৯৬ লাখ ৪০ হাজার একর, ৪% বেশি।
একই দিনে ত্রৈমাসিক গ্রেইন স্টকস প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে এনএএসএস। ১ মার্চ গুদামে ভুট্টা ছিল ৯০২ কোটি বুশেল, এক বছর আগের চেয়ে ১১% বেশি; খামারের ভেতরের মজুত ২১% বেড়েছে, বাইরের মজুত ২% কমেছে। সয়াবিনের মজুত ২১০ কোটি বুশেল, ১০% বেশি; সব ধরনের গম মিলিয়ে ১৩০ কোটি বুশেল, ৫% বেশি।
পরিকল্পনা আর ফসল এক জিনিস নয় — মার্চ থেকে বপনের মধ্যে কৃষক মত বদলান বলেই জুনের অ্যাক্রিএজ প্রতিবেদনের দরকার হয়। তবু বিশ্বের শস্য ও তেলবীজ বাজার প্রতি বছর যে প্রথম নিশ্চিত সংখ্যাটি হাতে পায়, সেটি এই মার্চের জরিপই।
বাংলাদেশে প্রতিবেদনটি এখানেই এসে ঠেকে। মার্কিন সয়াবিনের বড় আবাদ মানে বেশি ক্রাশিং এবং অন্য সব ঠিক থাকলে সয়াবিন তেল ও খইলের সহজ জোগান; ভুট্টার কম আবাদ পশুখাদ্যের ক্ষেত্রে উল্টো দিকে কাজ করে।
সূত্র: ইউএসডিএ ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস





মন্তব্য
(০)