তানজানিয়ার প্রতি তিনজন ক্ষুদ্র কৃষকের একজনেরও কম উন্নত বীজ বোনেন। এই একটি সংখ্যাই অনেকটা ব্যাখ্যা করে দেয়, বৃষ্টি বিগড়ালে কেন দেশটির ফলন এত জোরে ধাক্কা খায়। নতুন তানজানিয়া সিড সেক্টর ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি দাঁড় করানো হয়েছে এই সংখ্যাটিকে ঘিরেই।
কৌশলটি তৈরি করেছে তানজানিয়া সরকার, সিজিআইএআর-এর উকামা উস্তাউই উদ্যোগ এবং ইউএসএআইডির অ্যাসপায়ার্স কর্মসূচি। এটি প্রকল্প নয়, সমন্বয়ের দলিল — উদ্দেশ্য এমন একটি বীজব্যবস্থায় কার কী দায়িত্ব তা ঠিক করে দেওয়া, যা এত দিন সংস্থায় সংস্থায় বিভক্ত ছিল, বেসরকারি বিনিয়োগে দুর্বল ছিল এবং গবেষণাকেন্দ্র থেকে গ্রামের দোকানে একটি জাত পৌঁছাতে সময় নিত অনেক।
নকশার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়, সঙ্গে ছিল সিজিআইএআর-এর কেন্দ্রগুলো। ব্যবস্থার কোথায় জট তা খুঁজতে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মানচিত্রায়ণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্লেষণ ও বাজারব্যবস্থার মানচিত্রায়ণ। অংশ নিয়েছে সরকারি সংস্থা, বেসরকারি বীজ কোম্পানি ও কৃষক সংগঠনের ১৫০-র বেশি অংশীজন। কৌশলে কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তানজানিয়া অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, অ্যাগ্রিকালচারাল সিড এজেন্সি ও তানজানিয়া অফিশিয়াল সিড সার্টিফিকেশন ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে জাত অবমুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদায়ন দ্রুত হয়।
বিনিয়োগের দিকে যুক্ত হয়েছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের কাঠামো, লক্ষ্য বীজ উৎপাদন, বিতরণ অবকাঠামো ও প্রান্তিক সরবরাহে অর্থ টানা। ২০৩০ সালের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট: উন্নত বীজের আবাদি জমি ৩০ লাখ থেকে ৬০ লাখ হেক্টরে নেওয়া এবং কৃষি উপকরণ বিক্রেতার সংখ্যা ৩ হাজার থেকে ১২ হাজারে তোলা। নকশা পর্যায়ের অর্থ দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আর কৌশলটি ঘিরে সম্ভাব্য বিনিয়োগের অঙ্ক প্রায় ৩০ কোটি ডলার।
বিক্রেতার সংখ্যা চার গুণ করার অংশটিই ঠিক করে দেবে বাকিটা কাজ করবে কি না। যে সনদপ্রাপ্ত বীজ কৃষক বাড়ির কাছে কিনতে পারেন না, সেই বীজ গুদামেই থেকে যায় — সে কারণেই দোকানের সংখ্যাটি হেক্টরের লক্ষ্যের নিচে নয়, পাশে বসানো হয়েছে।
তানজানিয়া এখন কৌশল তৈরির পর্ব থেকে যাচ্ছে বাস্তবায়নে: নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্ত করা, ভিত্তি বীজের সরবরাহ বাড়ানো এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর নীতির সঙ্গে সমন্বয়।
বাংলাদেশের বীজব্যবস্থাও একই প্রশ্নের চেনা সংস্করণের মুখোমুখি। বিএডিসি, ব্রি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো বাজারের এক-এক অংশ জোগায়; ফলন বাড়ে কি না তা ঠিক করে দেয় গত মৌসুমের রাখা ধানের বদলে কত শতাংশ কৃষক সনদপ্রাপ্ত বীজ বুনছেন সেই সংখ্যাটি।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)