সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৯৬%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৩ মিমি

মৃতপ্রায় খালে বিপন্ন জনপদ, বোরো ধান চাষে অনিশ্চয়তা

সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল

পরিবেশ

সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল

বরিশাল জেলার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রবাহমান ঐতিহ্যবাহী একসময়ের খরস্রোতা টরকী-বাসাইল খালটি নাব্য সংকট, দখল ও দূষণে আজ মৃতপ্রায়। বিপন্ন হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষি, জীবন ও প্রকৃতি। দীর্ঘদিন খাল খনন না করায় খাল ও নদীর নাব্য সংকটে নদী থেকে খালে পানি প্রবেশ করছে না। এ ছাড়া কোনো কোনো জায়গায় বাঁধ, অপরিকল্পিত ব্রিজ নির্মাণ, খালের জায়গা দখল করে কাঁচা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ, নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটির আজ বেহাল দশা।

টরকী-বাসাইল খালটি একসময় এ অঞ্চলের প্রধান চলাচলের নৌপথ ছিল। রাস্তা পাকা হওয়ায় সড়কপথে যোগাযোগের জনপ্রিয়তা বাড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি ধীরে ধীরে নাব্য হারিয়ে ফেলে। যার প্রভাব পড়ে বোরো ধান আবাদের মৌসুমে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে খালে মোটেও পানি থাকে না। খালটির পানি সেচের ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান আবাদ।

টরকী-বাসাইল খালে মূলত আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পলরদী নদী থেকে পানি প্রবেশ করে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে গেলে খালে পানি প্রবেশ করে না। যার স্থায়ী সমাধান খাল খননের মাধ্যমে নদী ও খালের নাব্য সমন্বয় করা। কিন্তু সেটি না করে নদী ও খালের পানি প্রবেশমুখে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে নদী থেকে খালে পানি ওঠানো হয়। ইজারার মাধ্যমে স্থানীয় ঠিকাদার সেচ প্রকল্প পরিচালনা করেন।

সেচ প্রকল্পের এই পানি কয়েক হাত বদল হয়ে কৃষকদের কিনতে হয় উচ্চমূল্যে। যার ফলস্বরূপ কৃষকেরা ধান চাষে বিকল্প হিসেবে পান চাষ করছেন এবং মাছের ঘের করছেন। যে কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে ধান চাষের জমির পরিমাণ। অন্যদিকে খালের নাব্য সংকটের কারণে বর্ষা মৌসুমে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে খালগুলো পানিতে টইটুম্বুর হয়ে পানিতে তলিয়ে যায় পানের বরজ এবং মাছের ঘের।

আরও পড়ুনহুমকির মুখে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও সুনীল অর্থনীতিবাংলাদেশের মাটিতে ল্যাভেন্ডার চাষ করা সম্ভব

একদিকে পানির অভাবেও চাষিরা জমি চাষ করতে পারছেন না। অপরদিকে প্রতি ২০ শতাংশ জমি চাষ করতে পানি-সেচ বাবদ ৩ শতাংশের ধান দিতে হয়। ধানের দাম কম, সে তুলনায় খরচ বেশি হওয়ায় বর্গাচাষিদের জমি আবাদে অনীহা দেখা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জমির মালিকসহ সাধারণ বর্গাচাষিরা। স্থানীয় জমির মালিক, কৃষক, বর্গাচাষি সবাই ভুক্তভোগী।

এ খালের ওপর নির্ভর করে একসময় বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। পাওয়া যেত শতেক প্রজাতির দেশীয় মাছ। খালটি মরে যাওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। খালটি স্রোতহীন হয়ে পড়ায় বদ্ধ পানিতে জন্ম নিচ্ছে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ-জীবাণু। যা এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

খালটি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। গণমাধ্যমে এ নিয়ে গুরুত্ব সহকারে হাজারও সংবাদ প্রকাশিত হলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। গত বোরো আবাদের মৌসুমে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বরাবর খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহণের আবেদন করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের দাবি, খালটিকে দখল ও দূষণমুক্ত করে খননের মাধ্যমে নাব্য সংকট দূর করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা।

লেখক: পরিবেশকর্মী, ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()