সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘ

মরার পরও যেসব সাপ কামড়াতে পারে

সাপের কামড়ে বছরে গড়ে ৬-৭ হাজার মানুষ মারা যায়। সাপ আসলে তখনই মানুষকে কামড়ায় যখন যে মানুষকে নিজের জন্য বিপজ্জনক মনে করে। এমনকি মরার পরও কিছু প্রজাতির সাপ আছে যা কামড়াতে পারে। শুনে অবাক লাগলেও সম্প্রতি এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে।

পরিবেশ

সাপের কামড়ে বছরে গড়ে ৬-৭ হাজার মানুষ মারা যায়। সাপ আসলে তখনই মানুষকে কামড়ায় যখন যে মানুষকে নিজের জন্য বিপজ্জনক মনে করে। এমনকি মরার পরও কিছু প্রজাতির সাপ আছে যা কামড়াতে পারে। শুনে অবাক লাগলেও সম্প্রতি এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে।

ঘটনা সবগুলোই ভারতের। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ২০২২ ও ২০২৩ সালে তিনটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। তিনটি ক্ষেত্রেই মরা সাপ কয়েক ঘণ্টা পরে মানুষকে কামড় দিয়েছিল। মোনোকোল্ড কোবরা আর ব্ল্যাক ক্রেট প্রজাতির সাপও ছিল। এই দুই প্রজাতির সাপই ভারতে সবচেয়ে বেশি বিষাক্ত সাপ বলে বিবেচিত।

সাপ যে মরার পরও কামড়াতে পারে এবং সেই বিষে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে এটি কিন্তু মনগড়া কোনো গল্প নয়। একাধিক গবেষণায় এর প্রমাণ মিলেছে। সাপ মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পরও কামড়াতে পারে। তাই এতদিন সাপ মেরে ফেলে যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেন তা আর হয়তো সম্ভব নয়।

সাপ মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বিপদও শেষ হয়ে যায় না। আসামের জীববিজ্ঞানী এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দল তাদের গবেষণায় একাধিক প্রমাণ পেয়েছেন। বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মরার বেশ কয়েক ঘণ্টা পরে সাপের শরীরে যে বিষ প্রয়োগ করার প্রণালী থাকে, সেটি অক্ষত থাকে।

ভারতের ওই ঘটনাগুলোর পর 'ফ্রন্টিয়ার্স ইন ট্রপিকাল ডিজিসেস' নামক গবেষণা জার্নাল একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। সেখানে আলোচনা করা হয়েছে যে, মারা যাওয়ার পরে অথবা মাথা কেটে ফেলার পরেও সাপের কামড় দেওয়ার আশঙ্কা কেন থেকে যায়।

আসুন ঘটনাগুলো আগে জেনে নেওয়া যাক-প্রথম ঘটনাটি শিবসাগর জেলায়, যেখানে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার মুরগির খামারে একটি কোবরা দেখতে পান। যেটি তার মুরগিগুলোকে খেয়ে ফেলছিল। তিনি কিছু না ভেবেই কোবরাটির মাথায় কোপ বসান। মরা ভেবে দূরে ফেলতে যাচ্ছিলেন কিন্তু কোবরার কাটা মাথা তার হাতে কামড়ে দেয়। এরপর তার হাত থেকে পুরো শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ হোন তিনি।

দ্বিতীয় ঘটনাটিও ওই একই এলাকার, একজন কৃষকের ট্র্যাক্টরের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে একটি কোবরা মারা যায়। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ট্র্যাক্টর থেকে নেমে যখন দেখতে যান মৃত সাপটি তার পায়ে কামড় দেয়। পায়ের যেখানে ওই সাপটি কামড় দিয়েছিল, সেই অংশটি ফুলে যায় আর ওই কৃষকের বমি হতে শুরু করে। তাকে অ্যান্টি-ভেনম আর অ্যান্টিবডি দিতে হয়। ২৫ দিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

তৃতীয় ঘটনাটি বোকো (পশ্চিম আসাম) থেকে, যেখানে একটি কালো ক্রেট তার মৃত্যুর তিন ঘণ্টা পরেও তার কাছে আসা একজন ব্যক্তিকে কামড়াতে সক্ষম হয়েছিল। একদিন সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ছটার দিকে কয়েকজন একটা ব্ল্যাক ক্রেট সাপ মেরে বাড়ির পেছনে ফেলে দেন।

ঘণ্টা তিনেক পরে এদের একজন উৎসাহের বশে মারা যাওয়া সাপটিকে দেখতে গিয়েছিলেন। মৃত সাপটিকে তিনি হাত দিয়ে ধরেছিলেন। ওই মৃত সাপটি তার ডান হাতের আঙ্গুলে কামড় দেয়। প্রথমে তার পরিবার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়নি কারণ কামড় দেওয়ার জায়গায় কোনো ব্যথাও ছিল না, জায়গাটি ফুলেও ওঠে নি। এছাড়া ওই ব্যক্তি বলেছিলেন যে, সাপটিকে আগেই মেরে ফেলা হয়েছে।

কিন্তু রাত প্রায় দুটার দিকে ওই ব্যক্তির শরীরে নিউরো-টক্সিন প্রভাব ফেলতে থাকে। নিউরো-টক্সিন হল অর্থাৎ যে বিষ মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। ওই ব্যক্তির শরীরে যন্ত্রণা হতে থাকে, অসাড় হয়ে আসতে থাকে। তখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৬ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

এই ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করেন গবেষকদল। তাদের ওই গবেষণা অনুযায়ী, কিছু সাপের ক্ষেত্রে মারা যাওয়ার তিন ঘণ্টা পরেও তার কামড়ানোর ক্ষমতা থাকে। সাপের শরীরে যে বিষ-তন্ত্র থাকে, সেটা কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় থেকে যায় আর এর প্রভাব মানুষের ওপরে পড়তে পারে।

ইউনিভার্সাল স্নেকবাইট এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বৈজ্ঞানিক ডা. এনএস মনোজ বলছেন যে, বিষদাঁত আছে, এমন ফ্রন্ট-ফ্যাঙ্গড প্রজাতির সাপের মধ্যে এ ধরনের ক্ষমতা বেশি থাকে। সাপের বিষ আসলে মানুষের লালার মতো। বিষ-গ্রন্থির সঙ্গে সাপের বিষদাঁতের যোগসূত্র থাকে। এই প্রণালী অনেকটা সিরিঞ্জের মতো কাজ করে। যখন একটা সাপ একজন মানুষকে কামড় দেয়, তখন বিষ ওই গ্রন্থি থেকে বেরিয়ে বিষদাঁতের মাধ্যমে মানুষের শরীরে পৌঁছায়।

গবেষণা পত্রটিতে সাপের 'ফলস বাইট' -এর প্রসঙ্গেও লেখা হয়েছে। কখনো কখনো বিষাক্ত সাপ নিজের শত্রুকে কামড় তো দেয়, কিন্তু তার শরীরে বিষ হয়তো ঢালে না। এ ধরনের 'ফলস বাইট' দিয়ে সাপ নিজের শত্রুকে সাবধান করে দেয়।

তবে এইভাবে বিষ প্রয়োগ করা না করার ওপরে নিয়ন্ত্রণটা মৃত সাপের থাকে না। তাই মারা যাওয়ার পরেও সাপের শরীরে কোনো আঘাতের ফলে যদি তার বিষদাঁত কোথাও লেগে যায়, সেক্ষেত্রে বিষদাঁতের মাধ্যমে বিষ বেরিয়ে আসতে পারে। এর ওপরে সাপটির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এক্ষেত্রে বিষ-গ্রন্থিতে থেকে যাওয়া বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

ডা. মনোজ বলেন যে র‍্যাটল স্নেকের (যা একধরনের ভাইপার সাপ) ক্ষেত্রে এরকম উদাহরণ আছে। এ ধরনের সাপের প্রজাতি আমেরিকায় ব্যাপকভাবে পাওয়া যায় এবং এগুলো ভীষণ বিষাক্ত প্রজাতি।

কর্ণাটকে অবস্থিত কলিঙ্গ ফাউন্ডেশনে গবেষণা পরিচালক ডা. এসআর গণেশ বলছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় যে বাদামী সাপ দেখা যায় বা চীনে যে কোবরা পাওয়া যায়, সেগুলোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনার উদাহরণ আছে।

ভারতে যেসব প্রজাতির সাপ পাওয়া যায়, তার মধ্যে রাসেল ভাইপার, শ স্কেল্ড ভাইপার, ব্যাম্বু-পিট ভাইপার, মালাবার পিট ভাইপার, কোরাল স্নেক আর ব্যান্ডেড পিট ভাইপার প্রজাতিগুলোর থেকে এই বিপদ সবচেয়ে বেশি। এমনকি পানিতে থাকে যেসব সাপ, যেমন কন্ডা কন্ডাই আর নীরকোলি যেগুলোকে দেখে মনে হবে এরা ক্ষতি করবে না, তাদের ক্ষেত্রেও এই ঘটনা হতে পারে।

সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে সাবধান এবং সচেতন থাকা। ডা. মনোজ বলেন, অনেকে মরা সাপ উঠিয়ে নিয়ে ছুঁয়ে দেখতে চান। এটা বিপজ্জনক। মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা আছে, তবে সাপ বা অন্য সরীসৃপের ব্যাপারে সে ধরনের কোনো সংজ্ঞা নেই। আমরা মনে করি, যদি কোনো সাপ কাটা পড়ে বা সেটির মাথা কেটে ফেলা হয় অথবা দীর্ঘক্ষণ ধরে সেটি নড়াচড়া না করে পড়ে রয়েছে, তাহলে সেটি মৃত। আপনি সাপটিকে জীবিত অবস্থায় দেখুন বা মৃত, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যারা এ বিষয়ে জানেন, তাদেরকে খবর দেওয়া। তারাই যা ব্যবস্থা নেবেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

কেএসকে/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()