ভিয়েতনামের মেকং বদ্বীপে একই জমিতে পালা করে ধান ও চিংড়ি চাষ করা কৃষকদের খরচ কমাতে এবং মিঠা ও লোনা পানির ওঠানামা সামলাতে যন্ত্র ও ডিজিটাল প্রযুক্তি দেখানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) কা মাউ প্রদেশের কৃষি ও পরিবেশ বিভাগ এবং ভিয়েতনাম ধান খাত সমিতির (ভিয়েত্রিসা) সঙ্গে মিলে ২৯ সেপ্টেম্বর দেশটির সবচেয়ে বড় চিংড়ি উৎপাদনকারী প্রদেশ কা মাউয়ের হং দান কমিউনে মাঠ প্রদর্শনী ও কর্মশালার আয়োজন করে।
হোয়া ফাত কৃষিসেবা সমবায়ে অংশগ্রহণকারীরা দেখেন যন্ত্রে সারি করে বীজ বপনের সঙ্গে মাটির গভীরে সার প্রয়োগ এবং কৃষি ড্রোনের কাজ। ইরির মতে, এই পদ্ধতিতে ধান-চিংড়ি খেতে শ্রম কমে, চারা ভালোভাবে দাঁড়ায় এবং উপকরণের দক্ষ ব্যবহার হয়; তবে তা ধান-চিংড়ি জমির অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং উপযুক্ত ফসল ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে চালাতে হবে।
ইরির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ম্যাডোনা ক্যাসিমেরো (Madonna Casimero) বলেন, জলবায়ুঝুঁকি ও উৎপাদন খরচ বাড়ার মধ্যে ধান-চিংড়ি পদ্ধতি উপকূলের কৃষকদের আয় বৈচিত্র্যময় করার ও বদলে যাওয়া পানির অবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সুযোগ দেয়। ধান ও চিংড়ি একে অপরের পানির মান ও মাটির স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল, তাই পুরো পদ্ধতিকে একসঙ্গে উন্নত করতে হবে। এ কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ হেক্টরে উচ্চমানের, কম নিঃসরণের ধান চাষে ভিয়েতনামের লক্ষ্যকেও সহায়তা করছে।
ইরি ও সহযোগীরা তথ্যভিত্তিক সরঞ্জামও তৈরি করছে: ধান-চিংড়ির উপযোগিতা মানচিত্র, দূর অনুধাবন তথ্য, পানির পূর্বাভাস, লবণপানি প্রবেশের সতর্কবার্তা ও ওয়েবজিআইএস মানচিত্র। মেশিন লার্নিং মাটি, ভূমি ব্যবহার, ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ুর তথ্য মিলিয়ে মাটি ও পুষ্টির মানচিত্র বানায়, আর রাইস ক্রপ ম্যানেজার, তাৎক্ষণিক পানি সেন্সর, এআই সহকারী ও ডিজিটাল সম্প্রসারণ প্রতিটি খেতের জন্য পরামর্শ দেয়। ইরির প্রকল্পপ্রধান নুয়েন ভান হুং (Nguyen Van Hung) জানান, ফলনের ঘাটতির পেছনের কারিগরি কারণগুলোর গুরুত্বের প্রায় ৬৬ শতাংশই পুষ্টি ও বপনের সময়ের, যথাক্রমে ৩৭ ও ২৯ শতাংশ।
ইজিফার্ম নামের একটি প্ল্যাটফর্ম কৃষককে যন্ত্রসেবা, উপকরণ এবং ধান, খড় ও অন্যান্য পণ্যের ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করে। ভিয়েত্রিসার সভাপতি লে থান তুং (Le Thanh Tung) বলেন, ধান আর চিংড়ি আলাদা পণ্য হিসেবে নয়, কা মাউয়ের 'সুগন্ধি ধান, পরিচ্ছন্ন চিংড়ি' ব্র্যান্ডের অধীনে পুরো ধান-চিংড়ি বাস্তুতন্ত্রের সুবিধাকে বাজারমূল্যে রূপ দিতে হবে; এর জন্য দরকার ধারাবাহিক মান, উৎস শনাক্তযোগ্যতা ও মানদণ্ড।
কৃষকদের চিন্তা ব্যবহারিক, বলেন হোয়া ফাত সমবায়ের পরিচালক ভো ডুক তোয়ান (Vo Duc Toan): নতুন পদ্ধতিতে বীজ ও সারের ব্যবহার, শ্রমের খরচ ও ঝুঁকি কমে কি না। এগুলো টিকিয়ে রাখতে দরকার যন্ত্রসেবা, নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য ক্রেতা।
ছবি: Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: IRRI





মন্তব্য
(০)