ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক অঞ্চলের টমেটোচাষিরা একসঙ্গে দুই ধাক্কায় পড়েছেন: মাঠে খরা, আর বাজারে দামের ধস। দেশের অন্যতম বড় পাইকারি টমেটোর বাজার পিম্পলগাঁও কৃষিপণ্য বাজার কমিটিতে (এপিএমসি) এক সপ্তাহে গড় পাইকারি দাম প্রায় ৬৫ শতাংশ কমেছে। ১২ অক্টোবর ২০ কেজির এক ক্রেটের দাম ছিল ৩২১ রুপি (কেজিপ্রতি প্রায় ১৬ রুপি), সোমবার ১৯ অক্টোবর তা নেমেছে ১১১ রুপিতে (কেজি ৫.৫৫ রুপি)।
বাজারে টমেটোর ঢল নেমেছে। এপিএমসির এক কর্মকর্তা জানান, গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন ৩ লাখ থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ক্রেট টমেটো এসেছে, যা চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। সোমবার মানভেদে ক্রেট বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ৩৩১ রুপিতে; নিম্নমানের টমেটো কেজি ১ রুপিতেও বিক্রি হয়েছে, ভালোটা সর্বোচ্চ ১৬.৫৫ রুপি।
ব্যবসায়ীরা দায় দিচ্ছেন গরমকে। বাজারের টমেটো শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, উচ্চ তাপমাত্রায় টমেটো স্বাভাবিকের আগেই পেকে যাচ্ছে, ফলে কৃষকদের একসঙ্গে বেশি টমেটো তুলে বাজারে পাঠাতে হচ্ছে।
চাহিদার দিক থেকেও স্বস্তি নেই। নবরাত্রির সময় কয়েকটি পাইকারি বাজার বন্ধ ছিল, রপ্তানির চাহিদাও কম। উত্তর প্রদেশ, বিহার ও মধ্য প্রদেশের মতো বড় ভোক্তা রাজ্যগুলো এখন স্থানীয় ফলন দিয়েই চাহিদা মেটাচ্ছে, নাসিক থেকে কম কিনছে।
খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। সোমবার নাসিকে খুচরা টমেটো বিক্রি হয়েছে কেজি ২০ রুপিতে, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল প্রায় ৪০ রুপি। এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, পাইকারি দামের ওঠানামা খুচরায় পৌঁছাতে এক-দুই দিন লাগে, ধারা চললে আরও কমতে পারে। চাষের খরচ বাড়তে থাকা কৃষকদের জন্য ব্যবসায়ীরা পাইকারি দাম আরও পড়ার আশঙ্কা করছেন।
প্রতিবেদনটি ইটি অনলাইনের, টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যসহ।
ছবি: Tom1cruz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস





মন্তব্য
(০)