সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস ১১ কিমি/ঘ

খরা-লবণাক্ততা সহনশীল ৫ জাতের গম উদ্ভাবন, মিলেছে অভাবনীয় সাফল্য

দেশের বাজারে আটা-ময়দার চাহিদা আকাশচুম্বী। বছরে গমের চাহিদা প্রায় ৮০-৮২ লাখ মেট্রিক টন, যার সিংহভাগই আমদানি নির্ভর। প্রতি বছর গম আমদানিতে দেশ থেকে বেরিয়ে যায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। আমদানির এ বিশাল বোঝা কমাতে এবং দেশি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতে 'ম্যাজিক' দেখিয়েছেন দিনাজপুরের বাংলাদেশ গম ও

পরিবেশ

দেশের বাজারে আটা-ময়দার চাহিদা আকাশচুম্বী। বছরে গমের চাহিদা প্রায় ৮০-৮২ লাখ মেট্রিক টন, যার সিংহভাগই আমদানি নির্ভর। প্রতি বছর গম আমদানিতে দেশ থেকে বেরিয়ে যায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। আমদানির এ বিশাল বোঝা কমাতে এবং দেশি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতে 'ম্যাজিক' দেখিয়েছেন দিনাজপুরের বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিডব্লিউএমআরআই) বিজ্ঞানীরা। তারা উদ্ভাবন করেছেন গমের এমন পাঁচটি জাত, যা সাধারণ জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ফলন দিতে সক্ষম।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরেই এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা পাঁচটি নতুন জাত উদ্ভাবন ছাড়াও ৩৮টি উচ্চ ফলনশীল গমের জাত উদ্ভাবন করেছেন। নতুন উদ্ভাবিত গমের জাতগুলো নাম দেওয়া হয়েছে বিডব্লিউএমআরআই-১, ২, ৩, ৪ ও ৫।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ জাতগুলো সম্প্রসারিত করা গেলে কমবে আমদানি নির্ভরতা। একই সঙ্গে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে উৎপাদন।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, সাধারণ জাতের গমের ফলন হেক্টরপ্রতি গড়ে ৩.৮৬ টন, সেখানে নতুন জাতগুলো ৫.৫ থেকে ছয় টন পর্যন্ত ফলন দিচ্ছে। এ জাতের গমগুলোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরেছে বিডব্লিউএমআরআই।

'নতুন জাতগুলোর উৎপাদন যেমন বেশি, আবাদ করাও তেমনি ঝামেলামুক্ত। পোকামাকড় ও রোগ-বালাই নেই বললেই চলে, তাই বাড়তি স্প্রে বা সার লাগে না। সব কৃষক যদি এই বীজ পায়, তবে আমরা সবাই অনেক লাভবান হবো।'

যার মধ্যে রয়েছে- দ্রুত তোলা যায় বলে একই জমিতে বছরে ৩ থেকে ৪টি ফসল ফলানো সম্ভব। এগুলো তাপ, খরা ও লবণ সহনশীল, বিশেষ করে উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলেও এটি চাষযোগ্য। এছাড়া এসব জাতের গম 'ব্লাস্ট' রোগসহ অন্যান্য পোকামাকড় ও মরিচা রোগ প্রতিরোধী। একই সঙ্গে প্রতিটি জাতই প্রচুর পরিমাণে জিংক সমৃদ্ধ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

চলতি মৌসুমে দেশের প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কৃষকের মাঝে নতুন জাতের বীজ প্রদর্শনী ও প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তারা ভালো ফলনও পেয়েছেন। এছাড়া নতুন জাতের গমের উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন বেশি। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ একেবারেই কম। ভালো ফলন ও লাভের কারণে আগ্রহী হচ্ছেন অন্য কৃষকরাও। এজন্য নতুন জাতগুলো ছড়িয়ে দেওয়ারও দাবি তাদের।

দিনাজপুর সদর রামডুবি এলাকার কৃষক দবিরুল ইসলাম অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আগে যখন বোরো বা ভুট্টার আবাদ ছিল না, তখন গম চাষ করতাম। কিন্তু ফলন খুব কম হওয়ায় ৫ বিঘা থেকে কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশে নিয়ে এসেছিলাম। তবে নতুন জাতগুলো চাষ করে ফলন অনেক বেশি পেয়েছি। স্বল্প সময়ে এবং খুব কম খরচে গম আবাদ করে লাভবান হচ্ছি।

'এই জাতগুলোতে সেচ লাগে খুবই কম, পুরো মৌসুমে মাত্র ৩ বার পানি দিতে হয়েছে। এছাড়া সার ও কীটনাশক যেমন কম লাগে, তেমনি রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও একদম নেই। আগামীতে আমি আরও ২ বিঘা জমিতে এই গম আবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'

একই উপজেলার নশিপুর এলাকা সঞ্চয় কুমার জানান, শুরুতে নিজের খাওয়ার জন্য একবিঘা জমিতে এ গম চাষ করেছিলাম। এখন দেখছি, চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করতে পারবো। এসব জাতে পুরো মৌসুমে মাত্র ৩ বার পানি দিতে হয়েছে। এছাড়া সার ও কীটনাশক যেমন কম লাগে, তেমনি রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও একদম নেই। আগামীতে আরও দুই বিঘা জমিতে এ গম লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দশমাইল এলাকার কৃষক মনসুর আলী। তিনি বলেন, নতুন জাতের গম চাষ ঝামেলামুক্ত এবং উৎপাদনও বেশি। পোকামাকড় ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ কম হওয়ায় বাড়তি স্প্রে বা সার লাগে না।

কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার কৃষক শহীদুল ইসলাম জানান, ফলন কম হওয়ায় মানুষ আগে গম চাষে আগ্রহ হারিয়েছিল। তবে কৃষি প্রদর্শনীর বীজ লাগিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তার ভাষায়, এবার প্রদর্শনী হিসেবে পাওয়া বীজে অনেক ভালো ফলন পেয়েছি, দামও ভালো। ফলন দেখে অন্য কৃষকরাও এখন বীজ নিতে চাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জাত উদ্ভাবনই শেষ কথা নয়; উন্নত বীজগুলো সাধারণ কৃষকের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিএডিসি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ পাঁচটি নতুন জাতের বীজ দ্রুত উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশ গমে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মাহফুজ বাজ্জাজ বলেন, গত বছর দেশে গমের গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি ৩.৮৬ মেট্রিক টন, যেখানে নতুন এ জাতগুলো ৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে। এতে দেশের মোট উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। পরিবেশবান্ধব এ ফসলে সেচ ও কীটনাশক কম লাগায় চর, পাহাড় ও বরেন্দ্র অঞ্চলেও চাষ করা যাবে।

কেএইচকে/এএইচ/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()