সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস ১২ কিমি/ঘ

খাঁচার পাখি লাভবার্ড পালনের খুঁটিনাটি

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

পরিবেশ

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

লাভবার্ড হলো ছোট বাহারি রঙের চঞ্চল পাখি। এদের মূল নিবাস আফ্রিকা ও মাদাগাস্কার। প্রজাতিগত নাম আগাপোরনিস। এদের ওজন সাধারণত ৬০-৭০ গ্রাম। লম্বা ৫-৭ ইঞ্চি বা ১৩-১৭ সেন্টিমিটার। লাভবার্ডের আয়ু প্রায় ২০ বছর। লেজের দৈর্ঘ ১-১.৫ ইঞ্চি।রোগবালাই খুব কম হয়। এরা খাঁচায় সুন্দরভাবে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা উৎপাদন করে। জীবন বৈচিত্র্যময় ও মনোজ্ঞ। যা মানুষকে আকৃষ্ট করে। এসব কারণে লাভবার্ড এখন সবার প্রিয় পাখির মধ্যে একটি।

জেনে নিন লাভবার্ড পালনের নানা খুঁটিনাটি এবং যত্ন-আত্তি। যা এই সুন্দর পাখিকে সুস্থ ও দীর্ঘায়ু রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

লাভবার্ডকে খাঁচার পাখি বলা হয়। কারণ এরা খাঁচায় থাকতে পছন্দ করে। খাঁচায় থাকা-খাওয়া, ডিম-বাচ্চা উৎপাদন করতে এরা পছন্দ করে। লাভবার্ডের খাঁচার আদর্শ মাপ: ৩৬×২৪×২৪; তবে ২৪×২৪×২৪ অথবা ১৮×১৮×২৪ ইঞ্চি হলেও অসুবিধা নেই। মরিচা পড়া খাঁচা ব্যবহার করা যাবে না। অনেক সময় লাভবার্ড তাদের দর্শনীয় ঠোঁট দিয়ে খাঁচা কামড়ে ধরে থাকে।

বারান্দা বা ছাদে, এমনকি আপনার রুমের এক কোনায়ও খাঁচায় লাভবার্ড পালন করতে পারবেন। বিদেশিরাও ঘরের মধ্যে লাভবার্ড পালন করে থাকেন। তবে এমন জায়গা বেছে নিন, যেখানে আলো-বাতাস ভালো আসে। ছায়াযুক্ত, স্যাঁতসেঁতে জায়গা পরিহার করুন।

লাভবার্ডের প্রধান খাবার হলো সিড মিক্স (পরিমাণমতো চিনা, কাউন, সূর্যমুখীর বীজ, কুসুম ফুলের বীজ, ধান, তিসি, গম, গুজি তিল ইত্যাদি মিশিয়ে বানানো হয়)। সিড মিক্স তৈরির বিভিন্ন অনুপাত আছে, যেমন: চিনা ৩ কেজি, কাউন ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, সূর্যমুখীর বীজ ২৫০ গ্রাম, পোলাউর চালের ধান ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, ক্যানারি ১ কেজি, গুজি তিল ২০০ গ্রাম, হেম্প সিড ২০০ গ্রাম, সিড মিক্সের পাশাপাশি কলমি শাক, পালং শাক, লাল শাক, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, কাচা মরিচ, সজনে পাতা, ধনে পাতা, বরবটি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ভাঙা ভুট্টা সিদ্ধ, বুটের ডাল সিদ্ধ (মাঝে মাঝে) দেওয়া ভালো। শীতকালে সিড মিক্সে সূর্যমুখীর বীজ একটু বেশি দেওয়া উত্তম। এ ছাড়া মধু ও আপেল সিডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে দিলে পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গোসলের পানিতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারি দিলে পোকার আক্রমণ কম হয়। ড্রাই এগ ফুড কিনে বা বাসায় বানিয়ে দিলে পাখি সুস্থ ও সবল থাকে।

১টি ডিম (দেশি মুরগির হলে ভালো) সিদ্ধ, শাক বা সবজি (কুমড়া, পটল, ঝিঙা, শিম, আমড়া ইত্যাদি) ধুয়ে ছোট করে কাটা। ডিম ও শাক মিশিয়ে দিলে সম্পূর্ণ এগ ফুড তৈরি। কাচা শাক ভালো, সেদ্ধ করলে পুষ্টিমান কমে যায়। তবে চকলেট, লবণ, মাশরুম, পেঁয়াজ, আপেলের বীজ লাভবার্ডকে দেওয়া যাবে না।

এক বছর বয়স হলে লাভবার্ডের ব্রিডিং বা ডিম-বাচ্চা উৎপাদন করা উত্তম। বছরে দুই থেকে তিনবার বাচ্চা উৎপাদন করা যায়। বাকি সময় পাখি বিশ্রামে থাকে। অনেক সময় পাখি ডিম দেয় কিন্তু বাচ্চা হয় না। কারণগুলো হতে পারে: ক্যালসিয়ামের অভাব, সঠিকভাবে পেয়ার না মেলা, বয়স কম, দুটি মেয়ে পাখি, আর্দ্রতার অভাব, ডিমে যথাযথ যত্ন না দেওয়া, পরিবেশ অনিরাপদ মনে করা, খাঁচা নড়বড়ে হওয়া, পাখি ভয় পেলে, ডিম পাড়ার সময় সঠিকভাবে মেটিং না হওয়া ইত্যাদি। ব্রিডিং খাঁচার মাপ: লম্বা ৮ ইঞ্চি, চওড়া ৬ ইঞ্চি, উচ্চতা ৬ ইঞ্চি।বাসা তৈরির জন্য: খেজুর পাতার ঝাড়ু দিতে হবে।

সপ্তাহে একবার খাঁচা পরিষ্কার করা উচিত। অপরিষ্কার খাঁচায় রোগবালাই বাড়ে। পানির পাত্র প্রতিদিন রাতে ধুয়ে রেখে দিতে হবে। সকালে নতুন পানি দেওয়া উচিত। ঘরে বানানো এগ ফুড নষ্ট হওয়ার আগে সরিয়ে ফেলুন। ড্রাই এগ ফুড দীর্ঘসময় খাঁচায় রাখা যায়। খাঁচায় বাটিতে পানি রাখুন, পাখি নিজে সময়মতো গোসল করবে।

লাভবার্ড সাধারণত শক্ত পাখি। তেমন রোগবালাই হয় না। মাঝে মাঝে বদহজম বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। মাইটসের আক্রমণও হতে পারে। ঠান্ডা লাগলে মধু, আদা, তুলসি পাতা, পুদিনা পাতা, অপরিশোধিত আপেল সিডার ভিনেগার দিতে পারেন। আঘাতপ্রাপ্ত হলে আঘাতের স্থানে অ্যালোভেরা জেল লাগান। এটি ব্যথা কমায় ও ক্ষত দ্রুত সারায়। যে কোনো সমস্যায় ছবি তুলে ফেসবুকের পাখি গ্রুপে পোস্ট করলে অভিজ্ঞরা বিনা মূল্যে পরামর্শ দেয়।

যে কোনো পাখির দোকান, হাট এবং কাঁটাবন ইত্যাদিতে জায়গায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া সরাসরি ব্রিডারের কাছে গিয়ে কিনতে পারেন। ব্রিডারদের ফেসবুকের পাখি গ্রুপে খুঁজে পাওয়া যায়। লক্ষ্য রাখবেন আমদানিকৃত নয়, দেশের উৎপাদিত লাভবার্ড কিনুন। আমদানিকৃত পাখি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কম দামে হলেও এসব কেনা উচিত নয়। পাখি কেনার আগে ব্রিডার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিন। ডিএনএ পেপারসহ কিনবেন।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()