সকাল সাড়ে ১০টা। বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) বীর উত্তম হাবিবুর রহমান গেটের অদূরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সীমানা প্রাচীরের সামনে শিশু-কিশোরদের কোলাহল। এখান থেকে সামান্য দূরেই প্রাচীর ও প্রাচীর সংলগ্ন গাছের ওপর বসে আছে ছোটবড় বেশ কয়েকটি বানর।
উপস্থিত শিশু-কিশোররা ফুটপাতের দোকান থেকে কলা ও রুটি কিনে বানরগুলোকে খেতে দিচ্ছিল। তাদের কোলাহল দেখে পথচারীরাও থমকে দাঁড়িয়ে বানরের কলা ও রুটি খাওয়া দেখছিলেন।
বানরগুলোর মাঝে ভয়ের এতটুকু লেশ নেই। কোনো হইচই দৌড়-ঝাঁপও নেই। যারাই ওদের খেতে দিচ্ছিল ওরা দৌড়ে তাদের সামনে যাচ্ছিল। ছোট বানরগুলো মায়ের বুকের ভেতর ঝুলে থেকে দুগ্ধপান করতে করতে অন্য বানরদের খাওয়ার দৃশ্য দেখছিল। উপস্থিত কেউ কেউ আবার এমন দৃশ্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করছিলেন।
উপস্থিত সবার মুখে প্রশ্ন- দলবেঁধে এতগুলো বানর এলো কোথা থেকে? স্থানীয় চায়ের দোকানদার কামাল হোসেন জানান, গত কয়েকদিন ধরে সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসের গাছে ছোটবড় মিলিয়ে এক ডজনেরও বেশি বানর দেখা যায়।
তিনি জানান, সম্ভবত এগুলো অদূরেই বিজিবির ক্যাম্পাস থেকে এসেছে। কারণ এ এলাকায় শুধু বিজিবির অভ্যন্তরেই গাছে বানর দেখা যায়। প্রথমদিন যেদিন বানরগুলো দেখা গেছে সেদিন সব বানরকে ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত দেখা গেছে।
কয়েকদিন ধরে পথচারীসহ অন্যরা কলা ও রুটি কিনে খাওয়ানোর ফলে একটু ছুটোছুটি করছে। তবে এ বানরগুলো খাবার ছিনিয়ে নেয়া কিংবা এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফালাফি করে না বলে তিনি জানান।
স্থানীয় নতুন পল্টন লাইন এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান জানান, তার বাসা বিজিবির প্রাচীরঘেঁষা। তিনি বিজিবির সীমানাপ্রাচীর সংলগ্ন গাছে দলবেঁধে বানর দেখতে পেয়েছেন। তবে এ রকম প্রকাশ্যে রাস্তায় বানরকে কখনই ঘোরাফেরা করতে দেখেননি।
এমইউ/বিএ/জেআইএম





মন্তব্য
(০)