প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার তুলে আফ্রিকার সবচেয়ে পরিচিত কৃষি-খাদ্য প্রযুক্তি স্টার্টআপ হয়ে ওঠা কেনিয়ার কৃষিপণ্যের বাজার-প্ল্যাটফর্ম টুইগা (Twiga) প্রশাসকের হাতে গেছে। গত ১৭ আগস্ট এর মূল পরিচালন কোম্পানি, তখন যার নাম জিটি ফ্লো লিমিটেড, প্রশাসনে যায়। এরপর মূল প্রতিষ্ঠান টুইগা ফুডস লিমিটেড, এখন টেম্পলার ফিল্ড লিমিটেড, একই পথে যায়। জানুয়ারিতেই এক পাওনাদার এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান বন্ধের আবেদন করেছিলেন হাইকোর্টে।
২০১৩ সালে টুইগা যাত্রা শুরু করে নাইরোবির ক্ষুদ্র কলাচাষিদের সঙ্গে রাস্তার বিক্রেতাদের একটি অ্যাপের মাধ্যমে যুক্ত করে, সঙ্গে ছিল নিজস্ব গুদাম ও ডেলিভারির গাড়ি। প্রতিশ্রুতি ছিল খুচরা বিক্রেতার জন্য সস্তা ও ভালো পণ্য, আর কৃষকের জন্য নিশ্চিত দাম। ২০১৯ সালে গোল্ডম্যান স্যাকস (Goldman Sachs) ৩ কোটি ডলারের সিরিজ বি এবং ২০২১ সালের শেষে ক্রিয়াডেভ (Creadev) ৫ কোটি ডলারের সিরিজ সি বিনিয়োগে নেতৃত্ব দেয়। কোম্পানিটি সবজি ও প্যাকেটজাত পণ্যেও ব্যবসা বাড়ায়।
২০২২ সাল থেকেই ব্যবসার চাপ দেখা দেয়। কয়েক দফা পুনর্গঠন, শত শত কর্মী ছাঁটাই এবং সরবরাহকারীদের পাওনা বকেয়া পড়ে। পরিকল্পিত সিরিজ ডি বিনিয়োগ আর আসেনি। ২০২৩ সালের শেষে ক্রিয়াডেভ ও জুভেনের (Juven) ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রূপান্তরযোগ্য বন্ডও পুরোনো দেনা মেটাতে পারেনি। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ডলারের বিপরীতে কেনিয়ার শিলিং প্রায় ৩০ শতাংশ দর হারায়। ডলারে পুঁজি তুলে শিলিংয়ে আয় করা কোম্পানির জন্য জ্বালানি ও আমদানি পণ্যের খরচ বেড়ে যায়।
নেদারল্যান্ডসের উন্নয়ন ব্যাংক এফএমও-র মরিস শেপেন্স (Maurice Scheepens) বলেন, খণ্ডিত সরবরাহ শৃঙ্খল, অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বিপুল চলতি মূলধনের প্রয়োজন আর কঠিন একক-অর্থনীতির কারণে এমন মডেলকে আর্থিকভাবে টেকসই উপায়ে বড় করা কঠিন। হাজার হাজার ছোট খামার থেকে হাজার হাজার দোকানে তাজা পণ্য পৌঁছাতে সংগ্রহ, গুদাম, পরিবহন, পচন আর বাকির খরচ দিতে হয়, অথচ পণ্যের দাম খুবই কম।
আফ্রিকাকেন্দ্রিক তহবিল ব্যবস্থাপক আসিমে পার্টনার্সের (Asime Partners) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেউ-স্টিভ তাওয়িয়া (Sewu-Steve Tawia) বলেন, এখনকার প্রবণতা হলো অনেক বেশি ধৈর্যশীল পুঁজি আর নগদ প্রবাহনির্ভর ব্যবসা। এজিফান্ডারের প্রাথমিক হিসাবে ২০২৬ সালে আফ্রিকার কৃষি-খাদ্য প্রযুক্তিতে ইকুইটি বিনিয়োগ ১৫ কোটি ডলারের নিচে।
কৃষকের জন্য টুইগার গল্প একটি শিক্ষা: অ্যাপ ক্রেতা খোঁজার খরচ কমাতে পারে, কিন্তু পচনশীল ফসল বাজারে পৌঁছানোর খরচ কমায় না। এজিফান্ডনিউজের সঙ্গে কথা বলা বিনিয়োগকারীরা এখন এমন ব্যবসা চান, যা বড় হওয়ার আগে নিজের আয়ে দাঁড়ায়।
ছবি: Nguthi Joseph kagechu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ



মন্তব্য
(০)