জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষা এ অঞ্চলের উত্তর ও পশ্চিমে "অস্বাভাবিক রকম কম" হওয়ায় পূর্ব আফ্রিকার বড় অংশে খারাপ ফসলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ৩ অক্টোবর প্রকাশিত জিওগ্ল্যাম ক্রপ মনিটরের (GEOGLAM Crop Monitor) মূল্যায়নে এ কথা বলা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতি ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার, আর রেকর্ড উচ্চ তাপমাত্রা শুষ্কতাকে আরও তীব্র করেছে।
মূল্যায়ন অনুযায়ী কেনিয়া, ইথিওপিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও সোমালিয়ায় ফলন গড়ের চেয়ে কম হবে এবং গবাদিপশুর চারণভূমিও কমবে।
কেনিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরিচালিত কেনিয়া অ্যাডাপ্ট (Kenya ADAPT) প্রকল্পের পূর্বাভাস বলছে, জিওসিআইএফ (GEOCIF) ফলন-পূর্বাভাস মডেলের ভিত্তিতে এ মৌসুমে পশ্চিমের জেলাগুলোতে ভুট্টার ফলন গড়ের চেয়ে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। পশ্চিম কেনিয়া দেশটির প্রধান ভুট্টা উৎপাদন এলাকাগুলোর একটি; লাখো পরিবারের প্রধান খাদ্যে এত বড় ঘাটতি গুরুতর।
মৌসুমের মাঝপথে তৈরি হওয়া খরার মতো নয়, এবারের ঘাটতি শুরু হয়েছে জুন থেকেই বৃষ্টি না হওয়ায়। বৃষ্টির ঘাটতির সঙ্গে গরম মিলে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমেছে, ফসলের ওপর চাপ শুধু বৃষ্টির হিসাবে যা বোঝা যায় তার চেয়েও বেশি পড়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোর অনেকটিই গত দশকে বারবার খরা দেখেছে, যার মধ্যে ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের টানা খরা আফ্রিকার শিং অঞ্চলের কিছু অংশকে তীব্র খাদ্যসংকটে ফেলেছিল।
পশুপালকদের সমস্যাও কাছাকাছি। চারণভূমির ঘাস কম হলে পশু দুর্বল হয়, দুধ কমে, আর পশুর দামও পড়ে যায়, অথচ অভাবের মাসে পরিবারগুলো প্রায়ই এই পশু বিক্রি করেই চলে।
এই মৌসুম পর্যবেক্ষণের যন্ত্রগুলো পূর্ব আফ্রিকার আগের খাদ্যসংকটগুলোর পর গড়ে তোলা হয়েছিল, যাতে ঘাটতি আসার আগেই সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। ফসল তোলার কয়েক সপ্তাহ আগে খারাপ মৌসুম ধরা পড়লে সরকার আমদানির পরিকল্পনা, খাদ্যসহায়তা ও খরাসহিষ্ণু বীজ বিতরণের সময় পায়। তবে আগাম সতর্কতা আগাম পদক্ষেপে রূপ নেবে কি না, সেটাই প্রশ্ন, কারণ এ অঞ্চলে খাদ্যসহায়তার অর্থ ও ব্যবস্থাপনা প্রায়ই স্পষ্ট পূর্বাভাসের পরেও পিছিয়ে থেকেছে।
ছবি: CIAT / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)