সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩২°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কারওয়ান বাজারে জামের রস যায় বিদেশে, বিচির গুঁড়ারও আছে বাজার

ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন আসা ৮ থেকে ১০ টন জামের মধ্যে প্রায় ২ টন থেকে রস বের করা হয়, যা ব্যবসায়ীদের ভাষ্যে জুস প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারকের কাছে যায়; ফেলে দেওয়া বিচিও এখন গুঁড়া করে বিক্রি হয়।

কারওয়ান বাজারে জামের রস যায় বিদেশে, বিচির গুঁড়ারও আছে বাজার
ফল

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি শহরের গায়ে মাখেনি, অথচ ঢাকার কারওয়ান বাজারে দিনের ব্যস্ততা শুরু হয়ে গিয়েছিল। বাঁশের ঝুড়িতে স্তূপ করে রাখা ছিল কালো-বেগুনি রঙের জাম। কোথাও মানুষ হাত দিয়ে পাকা ফল বেছে নিচ্ছিলেন, কোথাও ফল পিষে বের হচ্ছিল গাঢ় বেগুনি রস। কিছু দূরে ছিল এক ঝুড়ি ভরা গোলাপি রঙে রাঙা বিচির স্তূপ। এক পাশে সাজানো হচ্ছিল জামের রসের ব্যাগ, অন্য পাশে জমা হচ্ছিল বিচি; যেন একটি ফলের দুই ভিন্ন পরিণতি। ব্যবসায়ীদের কথায়, এই রস পাড়ি জমায় বিদেশে, আর বিচি থেকে যায় দেশে; তবে সেই বিচিও ফেলনা নয়, এর জন্যও গড়ে উঠেছে আলাদা বাজার। জামের ভরা মৌসুমে, ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই, খায়রুল বাশার আশিকের লেখা এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ।

কারওয়ান বাজারে দিনে ৮ থেকে ১০ টন জাম


প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ষা মৌসুম এলেই রাজশাহী, নাটোর, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর এবং পার্বত্য এলাকার বাগান থেকে ট্রাকভর্তি জাম আসে রাজধানীতে। অধিকাংশ মানুষের কাছে জাম মানে মৌসুমি ফল কিংবা রাস্তার পাশের দোকানের এক গ্লাস শরবত। কিন্তু কারওয়ান বাজারের একটি অংশে এই ফলের আরেক পরিচয় আছে: এটি কাঁচামাল, এটি ব্যবসা, এটি শ্রমের ধারাবাহিকতা।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা জাগো নিউজকে জানান, প্রতিদিন এখানে ৮ থেকে ১০ টন জাম আসে। এর একটি অংশ সরাসরি ফল হিসেবে বিক্রি হয়। বাজারে বিক্রির পরেও প্রতিদিন কমবেশি প্রায় ২ টন জাম থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। সেই রস পরে বিভিন্ন জুস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, পাইকারি ব্যবসায়ী কিংবা রপ্তানিকারকদের কাছে পৌঁছে যায়।

শহরের অধিকাংশ মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখনই কারওয়ান বাজারে শুরু হয় আরেক দিনের প্রস্তুতি। এখানে সময় চলে ভিন্ন নিয়মে; শহরের ঘড়ি নয়, পণ্যের চাহিদাই ঠিক করে দেয় কাজের সময়। ভোর চারটা থেকে শুরু হয় শ্রমের ব্যস্ত চিত্র। কারও কাজ ট্রাক থেকে ঝুড়ি নামানো, কারও কাজ জাম ধোয়া, কেউ ফল পিষে রস বের করেন, কেউ আবার তা প্যাকেটজাত করেন। দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা, কখনো রাত পর্যন্ত চলে এই কর্মযজ্ঞ।

ঢাকার কারওয়ান বাজারের একটি দৃশ্য; এই পাইকারি বাজারেই জাম বাছাই করে রস বের করা হয়। ছবি: mohigan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার কারওয়ান বাজারের একটি দৃশ্য; এই পাইকারি বাজারেই জাম বাছাই করে রস বের করা হয়। ছবি: mohigan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ফল থেকে রস: ধাপে ধাপে


জামগুলো প্রথমে বাছাই করা হয়। ভালো ও পুরোপুরি পাকা ফল আলাদা করা হয়, নষ্ট বা অতিরিক্ত নরম ফল সরিয়ে রাখা হয়। এরপর ধোয়া, পিষে রস বের করা এবং ছাঁকার কাজ শেষ হয়। রস আলাদা হওয়ার পর পড়ে থাকে বিচি আর কিছু শাঁস। বেগুনি রঙে রঞ্জিত বিশাল ঝুড়িভর্তি বিচি দেখে মনে হয় যেন কেউ রং ঢেলে দিয়েছে, অথচ এই রং এসেছে শত শত কেজি জাম পিষে। বিচির এই স্তূপই বলে দেয়, প্রতিটি ব্যাগ রসের পেছনে কত ফল লেগেছে। প্যাকেট করা গাঢ় বেগুনি রসের ব্যাগগুলো এরপর একের পর এক বাক্সে সাজানো হয়।

জামের রস খাদ্যবিজ্ঞানে নতুন কিছু নয়। মার্কিন উদ্ভিদবিজ্ঞানী জুলিয়া এফ. মর্টন ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত তাঁর আকরগ্রন্থ ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস-এ লিখেছেন, একেবারে নিম্নমানের ফল ছাড়া প্রায় সব জাম থেকেই রস তৈরি হয়ে আসছে, আর সেই রস অনেকটা আঙুরের রসের মতো। তাঁর ভাষ্যে, রান্না করা জাম থেকে রস নেওয়ার সময় চাপ না দিয়ে আপনা-আপনি ঝরতে দিলে রসের কষভাব কম থাকে। ভালো মানের রস শরবত, সিরাপ ও স্কোয়াশ তৈরির জন্য চমৎকার; ভারতে স্কোয়াশ হলো বোতলজাত পানীয়, যা থেঁতলানো ফল রান্না করে রস চেপে বের করে, তাতে চিনি ও পানি মিশিয়ে এবং সংরক্ষক হিসেবে সাইট্রিক অ্যাসিড ও সোডিয়াম বেনজোয়েট যোগ করে তৈরি হয়।

মর্টন জামের কষভাবের কথাও লিখেছেন। তাঁর বর্ণনায় জামের স্বাদ টক থেকে মোটামুটি মিষ্টি পর্যন্ত হয়, আর বেগুনি শাঁসের জাম সাদা শাঁসের জামের চেয়ে বেশি কষা। কষা ফল লবণপানিতে ভিজিয়ে রাখলে, কিংবা খোঁচা দিয়ে সামান্য লবণ মাখিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিলে খেতে ভালো লাগে। প্রচলিত বেগুনি শাঁসের জাম থেকে গাঢ় রঙের জেলি হয়, তবে এতে পেকটিন কম থাকায় জেলি জমাতে আলাদা উপাদান বা কাঁচা পেয়ারার মতো পেকটিনসমৃদ্ধ ফল মেশাতে হয়। গোয়া ও ফিলিপাইনে জাম থেকে ওয়াইন তৈরি হয় এবং ভারতজুড়ে জামের ভিনেগার তৈরি হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

রস যায় প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকের কাছে


ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্যাকেট করা রসের বড় অংশ যায় জুস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বা রপ্তানিকারকদের কাছে। জাগো নিউজ লিখেছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি ফলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজারও বিস্তৃত হচ্ছে। প্রতিবেদনের ভাষায়, দেশি ফলের প্রতি প্রবাসীদের টানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের মধ্যেও জামের রসের চাহিদা তৈরি হয়েছে; ফলে মৌসুমি এই ফল আর শুধু দেশের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই, প্রক্রিয়াজাত রূপে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে জামের রস রপ্তানির আলাদা কোনো পরিসংখ্যান ছিল না, আর এই লেখার জন্য দেখা সরকারি সূত্রগুলোতেও তা আলাদা করে পাওয়া যায়নি।

ফল রপ্তানির সার্বিক চিত্র ২০২৬ সালের শুরুতেই উঠে এসেছিল। ওই বছরের ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ফল রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় ছিল মাত্র ০.৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৬৭.৫১ মিলিয়ন ডলারে। একই বিশ্লেষণে ইপিবির তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানির মোট আয় ছিল ৯৮৮.৬২ মিলিয়ন ডলার; এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ছিল ৮২৭ মিলিয়ন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার। ওই বছর সবজি রপ্তানিতে আয় হয় ৮১.১২ মিলিয়ন ডলার, পানীয় রপ্তানিতে ৩৫.৪৭ মিলিয়ন এবং মসলায় ৫৬.৩১ মিলিয়ন ডলার।

বাসসের একই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কৃষিপণ্য ১৩০টির বেশি দেশে যায়; ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সবচেয়ে বড় গন্তব্য ভারতে রপ্তানি হয় ২১১.৪৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, এরপর সৌদি আরবে ১১৪.০৩ মিলিয়ন ডলারের। ওই বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি হয় ৭৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের একজন উপপরিচালক (রপ্তানি) বাসসকে বলেন, অনেক দেশ বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল ও আনারসের মতো ফল আমদানি করতে চায় এবং বিদেশে বাংলাদেশি ফলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

একই প্রতিবেদনে বাধাগুলোর কথাও আসে। ইপিবির নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগের একজন পরিচালক বাসসকে বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো কার্গো উড়োজাহাজ নেই; যাত্রীবাহী উড়োজাহাজেই কৃষিপণ্য বিদেশে যায়, আর বিমান পরিবহনে পচনশীল পণ্য রপ্তানির প্রয়োজনীয় সুবিধা নেই। তাঁর মতে, উন্নত দেশগুলো কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে যে স্বাস্থ্যবিধির মান বজায় রাখে, বাংলাদেশে তার উল্লেখযোগ্য ঘাটতি আছে; উত্তম কৃষিচর্চা বা গ্যাপ (গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস) অপরিহার্য, এবং কৃষকদের স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের মৌসুমি ফলের গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমানের নাম উল্লেখ করেছে।

একসময়ের ফেলনা বিচি


একসময় জামের বিচিকে অনেকেই বর্জ্য মনে করতেন। রস বের করার পর এগুলো ফেলে দেওয়া হতো বা পচে নষ্ট হতো। সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জাগো নিউজকে জানান, জামের বিচিও এখন বিক্রি হয়। বিচি শুকিয়ে গুঁড়া বা পাউডার তৈরি করা হয়; তাঁদের ভাষ্যে, দেশের বাজারে তা বেশ ভালো দামে বিক্রি হয় এবং বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভেষজ উপাদান হিসেবে এর চাহিদা আছে। ফলে একসময় অবহেলিত অংশটিও অর্থনৈতিক মূল্য পাচ্ছে।

জামের বিচির ব্যবসা অবশ্য পুরোনো। মর্টন ১৯৮৭ সালে লিখেছেন, প্রায় ৭ মিলিমিটার লম্বা টুকরো করে বাজারজাত করা জামের বিচি এবং গাছের বাকল ভারত, মালয় ও পলিনেশিয়া থেকে, আর অল্প পরিমাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে, ইউরোপ ও ইংল্যান্ডের ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হতো। তাঁর তালিকায় বিচির উপাদান হিসেবে আছে ৬.৩ থেকে ৮.৫ শতাংশ আমিষ, ১.১৮ শতাংশ চর্বি, ১৬.৯ শতাংশ অশোধিত আঁশ, ৪১ শতাংশ শ্বেতসার, ৬.১ শতাংশ ডেক্সট্রিন এবং ৬ থেকে ১৯ শতাংশ ট্যানিন, সঙ্গে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস।

জামের (Syzygium cumini) পরিপক্ব বিচি; রস বের করার পর ফলের এই অংশটিই পড়ে থাকে। ছবি: Salil Kumar Mukherjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
জামের (Syzygium cumini) পরিপক্ব বিচি; রস বের করার পর ফলের এই অংশটিই পড়ে থাকে। ছবি: Salil Kumar Mukherjee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জামের বিচি ও ডায়াবেটিস: গবেষণা যা বলে


ব্যবসায়ীরা যে ডায়াবেটিস-চাহিদার কথা বলেছেন, তার ভিত্তি দীর্ঘ প্রথা, প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। জার্মানির মারবুর্গে ফিলিপস বিশ্ববিদ্যালয়ের আক্সেল হেল্মস্টেডটার ২০০৮ সালে ফারমাৎসি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় লিখেছেন, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে সবচেয়ে বেশি সুপারিশ করা ঔষধি উদ্ভিদের মধ্যে Syzygium cumini একটি, এবং ইনসুলিন আবিষ্কারের আগেই প্রায় ১০০টি কেস রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। পর্যালোচনায় বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গবেষণা মূলত প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় সরে যায়, যার সবগুলো নয়, তবে অনেকগুলোতে উপসর্গ কমার কিছু সাফল্যের কথা এসেছে। পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত ছিল, আধুনিক মানের কোনো ক্লিনিক্যাল গবেষণা তখনো হয়নি; সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার কথাও সেখানে বলা হয়েছে।

মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় এই প্রভাব নিশ্চিত হয়নি। ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রেতে রিও গ্রান্দে দো সুল ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল ২০০০ সালে জার্নাল অব এথনোফার্মাকোলজিতে জানায়, ডায়াবেটিস নেই এমন ৩০ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর দৈবচয়িত, প্লাসিবো-নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় জামপাতার চা রক্তে শর্করার ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি; তাঁদের সিদ্ধান্ত ছিল, আপাতত রক্তে শর্করা কমানোর চিকিৎসা হিসেবে জাম সুপারিশ করা যায় না। একই দলের পরের একটি ডাবল-ব্লাইন্ড দৈবচয়িত পরীক্ষায়, যা ২০০৬ সালে জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড থেরাপিউটিকসে প্রকাশিত হয়, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ২৭ জন রোগীকে ২৮ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়: প্রচলিত ওষুধ গ্লাইবুরাইডে খালি পেটে রক্তের শর্করা কমেছে, কিন্তু জামপাতার চা বা প্লাসিবোতে তা বদলায়নি।

বিচি নিয়ে প্রমাণ আরও কম। ভারতের পাঞ্জাব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রাথমিক (পাইলট) গবেষণা ২০০৫ সালে জার্নাল অব মেডিসিনাল ফুডে প্রকাশিত হয়; সেখানে ইনসুলিন-নির্ভর নয় এমন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৬০ জন পুরুষকে তিন মাস করলা, জামের বিচি ও মেথির গুঁড়ার মিশ্রণ দেওয়া হয় এবং রক্তে শর্করা কমার কথা জানানো হয়। কিন্তু তিনটি উপাদান একসঙ্গে দেওয়ায় এই ফল শুধু জামের বিচির কৃতিত্ব বলা যায় না। জার্নাল অব দ্য সায়েন্স অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারে ২০১৩ সালের একটি পর্যালোচনা জামের ডায়াবেটিসরোধী ও অন্যান্য গুণের যে বিবরণ দিয়েছে, তা মূলত পরীক্ষাগারভিত্তিক প্রমাণের সারসংক্ষেপ। মর্টন উল্লেখ করেছেন, জামের বিচি ও বাকলে ট্যানিন বেশি থাকে, আর ট্যানিনসমৃদ্ধ উদ্ভিজ্জ পণ্য মুখে বেশি পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

তাই বাজারে জামের বিচির গুঁড়ার চাহিদা থাকা মানেই এটি ডায়াবেটিস সারায়, এমন নয়। এটি চিকিৎসকের দেওয়া চিকিৎসার বিকল্প নয়; ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কেউ এটি বা অন্য কোনো ভেষজ পণ্য খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জাম: গাছ, ফল ও মৌসুম


জাম হলো মিরটেসি (Myrtaceae) পরিবারের গাছ Syzygium cumini-এর ফল। মর্টন এর নানা নামের তালিকা দিয়েছেন, যেমন জাভা প্লাম, ব্ল্যাক প্লাম, মালাবার প্লাম ও ইন্ডিয়ান ব্ল্যাকবেরি; তাঁর মতে এর আদি নিবাস ভারত, বার্মা (মিয়ানমার), সিলন (শ্রীলঙ্কা) ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ। বাংলাপিডিয়া কালোজামকে বড় আকারের ফলগাছ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার ফল পাকলে প্রায় কালো, লম্বাটে ও মার্বেলের মতো আকারের, বিচি ফলের প্রায় অর্ধেক, আর ফল তোলা হয় জুলাই মাসে। বাংলাপিডিয়া একে দেশের সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া ফলগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করেছে এবং মে, জুন ও জুলাইকে দেশের ফল উৎসবের মাস বলেছে, যখন প্রায় সব প্রধান ও অপ্রধান ফল পাকে।

মর্টনের বর্ণনায় জাম দ্রুত বাড়ে, প্রায় ৪০ বছরে পূর্ণ আকার পায় এবং ভারতে ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে; সাধারণত মাটির কাছাকাছি থেকেই কয়েকটি কাণ্ডে ভাগ হয়ে যায়। এর সুগন্ধি ফুল থোকায় ফোটে, আর ফল ঝোলে কয়েকটি থেকে ৪০টি পর্যন্ত গুচ্ছে; পাকার সময় সবুজ থেকে হালকা ম্যাজেন্টা, তারপর গাঢ় বেগুনি বা প্রায় কালো হয়। শাঁস খুব রসালো, ভেতরে সাধারণত ৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা একটি লম্বাটে বিচি থাকে। ভারতে তিনি দুটি প্রচলিত ধরনের কথা লিখেছেন: রা জামন, যার ফল বড়, লম্বাটে ও গাঢ় বেগুনি, শাঁস গোলাপি ও মিষ্টি, বিচি ছোট; আর কাঠা, যার ফল ছোট ও টক। বাংলাদেশে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ২০২১ সালের জুলাইয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাত বা হাইব্রিড জামের চাষ হয় না, তাই সেখানকার বাজারের সব জামই দেশি জাতের।

মর্টন লিখেছেন, বেশি বৃষ্টির এলাকায় জাম গাছ সবচেয়ে ভালো বাড়ে, নদীর পাড়ে ভালো জন্মায় এবং দীর্ঘ জলাবদ্ধতাও সইতে পারে; আবার একটু বড় হওয়ার পর খরাও সহ্য করে। ফুল ও ফল আসার সময় শুকনো আবহাওয়া ভালো। বিচির অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা দ্রুত নষ্ট হয়; ভারতে বর্ষাকালে বিচি বোনা হয় এবং প্রায় দুই সপ্তাহে চারা গজায়। বিচির চারায় ফল আসতে ৮ থেকে ১০ বছর লাগে, আর কলমের গাছে ৪ থেকে ৭ বছর। ফল পাকার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক দফায় হাতে পাড়া হয়। ফলে মাছি পোকার আক্রমণ হয়, আর পাখি ও অন্যান্য প্রাণী আগ্রহ নিয়ে জাম খায়।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) একটি জাম গাছ (Syzygium cumini)। ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) একটি জাম গাছ (Syzygium cumini)। ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ফলের বাইরেও গাছটির নানা ব্যবহার আছে। মর্টন উল্লেখ করেছেন, জামের ফুলে প্রচুর মকরন্দ (নেকটার) থাকে এবং মৌমাছি আসে; পাতা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; বাকল থেকে বাদামি রং এবং ৮ থেকে ১৯ শতাংশ ট্যানিন মেলে, যা চামড়া পাকা করতে ও মাছ ধরার জাল টেকসই করতে কাজে লাগে; আর পানিতে টেকসই কাঠ ভারতে কড়িকাঠ, খুঁটি, নৌকা ও কৃষি যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়। বাংলাপিডিয়াও দেশের কাঠ উৎপাদনকারী গাছের তালিকায় জামের নাম রেখেছে।

১০০ গ্রাম জামে কী থাকে


যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফুডডেটা সেন্ট্রাল তথ্যভান্ডারে (এসআর লিগ্যাসি, ২০১৯) কাঁচা জামের (জাভা প্লাম) পুষ্টিমান দেওয়া আছে। এর ১০০ গ্রামে থাকে:

  • ৬০ কিলোক্যালরি শক্তি এবং ৮৩.১ গ্রাম পানি
  • ১৫.৬ গ্রাম শর্করা, ০.৭২ গ্রাম আমিষ ও ০.২৩ গ্রাম চর্বি
  • ১৪.৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি
  • ৭৯ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৭ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ১৪ মিলিগ্রাম সোডিয়াম ও ০.১৯ মিলিগ্রাম আয়রন
  • অল্প পরিমাণে বি ভিটামিন: ০.২৬ মিলিগ্রাম নায়াসিন, ০.০৩৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬, ০.০১২ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাভিন ও ০.০০৬ মিলিগ্রাম থায়ামিন

এশিয়া ও ক্রান্তীয় আমেরিকার বিশ্লেষণ থেকে মর্টনের সারণিতেও কাছাকাছি মান পাওয়া যায়; তিনি উল্লেখ করেছেন, ফলে গ্যালিক অ্যাসিড ও ট্যানিনও থাকে, যা জামকে কষা স্বাদ দেয়।

দেশের ফল পরিসংখ্যানে জাম


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), যারা জামকে "ব্ল্যাক বেরি" নামে তালিকাভুক্ত করে, ২০২৬ সালের জুনে ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫ প্রকাশ করে। এর ফল ফসলের জাতীয় সারণি অনুযায়ী ২০২৪-২৫ সালে দেশে জামের আবাদ ছিল ১৩,২৬১.৫৭ একর জমিতে এবং উৎপাদন ৪৮,০৪৯.৫৭ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ সালে আবাদ ছিল ১২,৮২৪.৮৫ একর ও উৎপাদন ৫৩,১৯৩.৮৫ টন, আর ২০২২-২৩ সালে ১২,৬২৬.১৫ একর ও ৫৩,৩৪৩.৯৩ টন। একই বর্ষগ্রন্থে অস্থায়ী ও স্থায়ী মিলিয়ে দেশের মোট ফল উৎপাদন ২০২৪-২৫ সালে ৭,৫১৯ হাজার টন।

বর্ষগ্রন্থে মৌসুমে কৃষক কত দাম পেয়েছেন, তারও হিসাব আছে। ২০২৪-২৫ সালে জামের জাতীয় গড় খামারপর্যায়ের দাম ছিল প্রতি ১০০ কেজিতে মে মাসে ৮,৭০৭ টাকা, জুনে ৯,৮১৩ টাকা, জুলাইয়ে ১০,১২৫ টাকা এবং আগস্টে ৭,৬২৫ টাকা; বছরের গড় দাম ছিল প্রতি ১০০ কেজিতে ৯,০৬৭ টাকা।

আগের প্রতিবেদনেও দেখা যায়, একজন চাষির কাছে জামের মৌসুম কেমন হয়। ২০২১ সালের জুলাইয়ে দ্য ডেইলি স্টার বরগুনা সদর উপজেলার কড়ইতলা গ্রামের এক কৃষকের কথা জানায়, যিনি ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর ৫০টি জামের চারা লাগিয়েছিলেন; সে বছর তাঁর ৪৩টি গাছে জাম ধরে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে তিনি প্রতিদিন গড়ে আট মণ জাম সংগ্রহ করেন। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ জাম বিক্রি হয় ৮,০০০ টাকায়, কিন্তু সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে দাম কমে এবং শেষ দিকে তিনি প্রতি মণ বিক্রি করেন ২,০০০ টাকায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মৌসুমেই তিনি প্রায় ১৫ লাখ টাকার জাম বিক্রি করেন; বেশির ভাগ বিক্রি হয় অনলাইনে, বরিশাল, ঢাকা ও রাজশাহীর অর্ডার পৌঁছানো হয় বাস ও লঞ্চে; আর জাম চাষে তাঁর খরচ ছিল সামান্যই।

কারওয়ান বাজার: যেখানে তৈরি হয় রস


কারওয়ান বাজার ঢাকার ফার্মগেট এলাকার কাছের একটি পাইকারি বাজার। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, আঠারো শতকের শেষ দিকে কাওরান সিং নামে এক মাড়োয়ারি বণিক বাজারটি প্রতিষ্ঠা করেন; উনিশ শতকের শেষ দিকে জায়গাটি মাটির পাত্র, তৈজসপত্র ও গৃহস্থালি পণ্য বিক্রির বাজার হয়ে ওঠে, পরে বড় হয়ে পাশের একটি বড় খোলা জায়গায় সরে গিয়ে বর্তমান নাম পায়। এর পশ্চিম পাশ দিয়ে গেছে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ।

বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় বাজারের ভেতরে ও চারপাশে শত শত ছোট অস্থায়ী দোকান আছে, আর মাছ, সবজি ও চালের পাইকারি ব্যবসার জন্য আছে আলাদা ব্লক। সারা দেশ থেকে পণ্য আসে; প্রতি রাতে শত শত ট্রাক বাজারের দোকানগুলোতে পণ্য নিয়ে আসে, আর ভ্যান ও ঠেলাগাড়িতে তা ক্রেতার কাছে পৌঁছায়। এখানকার ব্যবসায়ীরা ঢাকা শহর ও আশপাশের বাজারে পণ্য সরবরাহ করেন, পাশাপাশি সবজি, মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি করেন। জ্ঞানকোষটির হিসাবে বাজারে দৈনিক লেনদেন প্রায় ৫ কোটি টাকা।

রসের পেছনের শ্রমিকেরা


জাগো নিউজ লিখেছে, পুরো কর্মযজ্ঞের সবচেয়ে নীরব অংশীদার শ্রমিকেরা। তাঁদের হাতেই ভোরের বাজার জেগে ওঠে, আবার তাঁদের হাতেই শেষ হয় দিনের কাজ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জামের কষে তাঁদের হাত-পা কালো হয়ে যায়; দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করতে করতে অনেকের শরীরে ক্লান্তি জমে। তবু মৌসুমি এই কাজ অনেক শ্রমিকের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি করে।

প্রতিবেদনের ভাষায়, একটি ঝুড়িভর্তি বিচির দিকে তাকালে মনে হয় বাজারের ভেতর আরেকটি অদেখা গল্প পড়ে আছে: শ্রমিকের রঙে রাঙা হাত, ভেজা মেঝে, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা মানুষ আর একটি ফলের রূপান্তর। দোকান থেকে বোতলভর্তি জামের শরবত কেনার সময় কিংবা বিদেশে পাঠানো ফলের সাফল্যের গল্প শোনার সময় এসব বিচির কথা, কিংবা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কারওয়ান বাজারের গলিতে চলা সেই শ্রমের কথা খুব কমই মনে পড়ে। জামের রস বিদেশে পৌঁছে যায়, কিন্তু এর পেছনের মানুষেরা খুব কমই আলোচনায় আসেন; বিচির মতো তাঁরাও অনেক সময় থেকে যান দৃশ্যের বাইরে, অথচ শহরের এই অদেখা কর্মযজ্ঞ টিকে আছে তাঁদের হাতেই।

ছবি: Rajesh Dangi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)

সূত্র: জাগো নিউজ, বাসস (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫), বাংলাপিডিয়া, জুলিয়া এফ. মর্টন: ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস (পারডু বিশ্ববিদ্যালয়), ইউএসডিএ ফুডডেটা সেন্ট্রাল, দ্য ডেইলি স্টার, ফারমাৎসি, জার্নাল অব এথনোফার্মাকোলজি, জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড থেরাপিউটিকস, জার্নাল অব মেডিসিনাল ফুড, জার্নাল অব দ্য সায়েন্স অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ইসলাম

স্পেনের জলপাই খামারে আন্দালুসের ইসলামি ঐতিহ্য তুলে ধরছেন এক মুসলিম দম্পতি

মালাগার কাছে ৩৫ একরের খামারবাড়ি কিনে ‘হাউস অব আন্দালুস’ গড়ছেন হেনরিয়েটা সোভাতি ও ইমাম আজমল মাসরুর; সেখানে ৪০০ জলপাইগাছ, পরিকল্পনা কোরআনিক বাগান ও গ্রন্থাগারের।

বার্তা২৪১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বিনায় চালু হলো গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সুযোগ

গাজীপুরে বিনার আঞ্চলিক কেন্দ্রে ৮৯ কোটি টাকার গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার চালু হয়েছে; এতে আম-কাঁঠালের মতো কৃষিপণ্য জীবাণুমুক্ত করে বেশি দিন রাখা যাবে।

এগ্রিকেয়ার২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

ফুলবাড়িয়ার ছয় গ্রামে লেবুর বাগান, এক মৌসুমে ৯৫ কোটি টাকা বিক্রির আশা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় এবার ৭৫৪ হেক্টরের বেশি জমিতে লেবুর আবাদ; কৃষি বিভাগের হিসাবে এ মৌসুমে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার লেবু বিক্রি হতে পারে।

এগ্রিকেয়ার২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)