নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে গড়ে ২২ শতাংশ সাশ্রয়ের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গবেষকরা। ‘N-FertiSmart’ নামের রিমোট সেন্সিংভিত্তিক এ প্রযুক্তি জমির প্রয়োজন অনুযায়ী কোথায় কতটুকু নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করতে হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে।
জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত প্রকল্পটির প্রোটোটাইপ বর্তমানে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ প্রদর্শিত হচ্ছে।
গবেষকরা জানান, প্রযুক্তিটি স্যাটেলাইট ও রিমোট সেন্সিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষিজমির বিভিন্ন অংশে নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করবে, এরপর স্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগের সুপারিশ দেবে।
প্রকল্পের গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, ‘ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন গাইড-২০২৪’-এ হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। ‘N-FertiSmart’ ব্যবহার করলে তা কমিয়ে প্রায় ১৩৫ দশমিক ৭০ কেজিতে আনা সম্ভব— অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ সাশ্রয়।
গবেষক দলের সদস্য ও জবি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম এম গোলাম আদম বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে কৃষকের বাড়তি খরচ হচ্ছে; একই সঙ্গে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন পরিবেশে গিয়ে পানির জীববৈচিত্র্য ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি করতে পারে।
তিনি বলেন, প্রচলিত সার সুপারিশ নির্দিষ্ট সময় পরপর হালনাগাদ করা হলেও স্যাটেলাইটভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রতিবছর মাটির অবস্থা ও ডিনাইট্রিফিকেশন রেট বিবেচনায় নিয়ে সারের পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে। এতে কৃষকরা অতিরিক্ত সার প্রয়োগ এড়াতে পারবেন এবং দেশের মৌসুমি সার সংকটও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
প্রকল্পে কাজ করেছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. আতাউল গনি ও ড. এ এম এম গোলাম আদম, সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং তরুণ গবেষক হিসেবে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী বিপ্লব বিশ্বাস ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাজিম শরিফ।
সূত্র: সমকাল (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি)





মন্তব্য
(০)