হাতে ছিটিয়ে বীজ বোনা ছেড়ে যন্ত্রে সরাসরি বীজ বপনে যাওয়া কম্বোডিয়ার কৃষকেরা হেক্টরপ্রতি গড়ে ০.৯ টন বেশি ধান পেয়েছেন এবং হেক্টরে ২০০ মার্কিন ডলারের বেশি বাড়তি মুনাফা করেছেন। ২০০ জন পরীক্ষামূলক কৃষকের ওপর চালানো মূল্যায়নে এ তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)।
কম্বোডিয়ার বড় অংশজুড়ে এখনও হাতে ছিটিয়ে বীজ বোনাই চল। এতে শ্রম লাগে প্রচুর, বীজ নষ্ট হয় এবং সার পড়ে অসমানভাবে। বিকল্প যন্ত্রপাতি দুষ্প্রাপ্য — আমদানি করা সিডার দামি, দেশে তৈরি নমুনা যন্ত্র এখনও উন্নয়নের পর্যায়ে, আর গোটা একটি প্রদেশে সেবা দেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠান হাতেগোনা। ফলে বপনের সংক্ষিপ্ত সময়টুকুতে সবার জমিতে যন্ত্র পৌঁছায় না।
ইরি সমস্যাটিতে হাত দিয়েছে তিন দিক থেকে — সিজিআইএআর-এর এক্সিলেন্স ইন অ্যাগ্রোনমি উদ্যোগ এবং পরে সাসটেইনেবল ফার্মিং কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ফার্মার ফিল্ড স্কুল ও মাঠ প্রদর্শনীতে সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও অগ্রণী কৃষকদের দক্ষতা গড়ে তোলা হয়েছে। আধুনিক কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সেবাকেন্দ্র ও ভাড়াভিত্তিক যন্ত্রসেবার ব্যবসা দাঁড় করানো হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের সূত্র বেঁধে দেওয়া হয়েছে যন্ত্র নির্মাতাদের সঙ্গে। চারটি প্রদেশে ভিত্তি জরিপ করে মাপকাঠি ঠিক করা হয়েছে আগে থেকেই।
সিডার প্রতিটি বীজ নির্দিষ্ট গভীরতা ও দূরত্বে বসিয়ে দেয়, ছিটিয়ে দেয় না। পরীক্ষামূলক জমিতে এতে বীজের হার অর্ধেকে নেমেছে, নাইট্রোজেনের ব্যবহার আরও কার্যকর হয়েছে, শ্রমব্যয় কমেছে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ধানখেত থেকে মিথেন নিঃসরণ কমেছে।
একটি পর্যবেক্ষণ সেবার নিয়মই বদলে দিয়েছে। যন্ত্র কম ও বপনের সময় কম হওয়ায় পুরুষ কৃষকেরাই আগে যন্ত্র পেয়ে যাচ্ছিলেন। সেবার নিয়ম বদলে নারী কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পর টাকেও প্রদেশে নারী উৎপাদকদের ফলন আগের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি হয়েছে।
পদ্ধতিটি এখন জাতীয় নীতিরও অংশ। প্যারিস চুক্তির আওতায় কম্বোডিয়ার ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস ৩.০-তে যন্ত্রে সরাসরি বীজ বপন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ১ লাখ হেক্টর। ২৪ কোটি ডলারের ক্লাইমেট অ্যাডাপটিভ ইরিগেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচার ফর রেজিলিয়েন্স প্রকল্পেও এটি যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সেবাদাতারা দেখিয়েছেন, ভাড়াভিত্তিক যন্ত্রসেবা লাভজনক হতে পারে, আর জলবায়ু তহবিল লক্ষ্য প্রদেশগুলোতে যন্ত্র কিনতে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশের কৃষকের কাছে হিসাবটি পরিচিত — শ্রমের দাম বাড়ছে, বীজ দামি, আর যে যন্ত্র সারিতে বীজ বসায় তা দুটোই কম খরচ করে। কম্বোডিয়ার অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, যন্ত্রটিই সমাধান নয়; কাজ হয়েছে কারণ কেউ ভাড়ার ব্যবস্থাটি সাজিয়েছে, চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং সারিতে নারীদের জায়গা করে দিয়েছে।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)