কোকোশিল্পে অস্থিরতা আরও কিছুদিন থাকবে, তবে সংকটের সবচেয়ে খারাপ সময় সম্ভবত কেটে গেছে। সিঙ্গাপুরে কোকো অ্যাসোসিয়েশন অব এশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর এ কথা বলেন চকলেট প্রতিষ্ঠান বেরি ক্যালেবোর (Barry Callebaut) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের কোকো বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলা গুবসার (Angela Gubser)। তাঁর ভাষায়, সাধারণত বড় সমস্যা একটা একটা করে আসে, কিন্তু গত দুই বছরে সব একসঙ্গে এসেছে।
গুবসার বলেন, পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়, এল নিনো চলছে, আর গত কয়েক বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো দেখা বাকি। উৎপাদক ও ভোক্তা দেশে অস্থিরতার প্রভাব একেবারে আলাদা, আর এই অঞ্চলে বড় ধাক্কা উৎপাদকদের ওপর। দাম বাড়ায় উৎপাদনশীলতা নিয়ে কাজ বেড়েছে, কিন্তু বাজারে দাম বাড়া মানেই কৃষকের আয় বাড়া নয়।
অঞ্চলের সবচেয়ে বড় উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া এর উদাহরণ। একসময় দেশটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কোকো উৎপাদক ছিল, কিন্তু গাছে রোগ আর পাম তেলের মতো লাভজনক ফসল আসায় উৎপাদন কমে যায়। পশ্চিম আফ্রিকার মতো নয়, ইন্দোনেশিয়ায় কোকোকে ডুরিয়ান, ধান ও পামের সঙ্গে লড়তে হয়; গুবসার বলেন, এশিয়ার কৃষকেরা হিসাব কষেন, শ্রমের তুলনায় লাভ না হলে ফসল বদলে ফেলেন।
তবু ঘুরে দাঁড়ানোর আশা আছে। নতুন জাতে রোগের ঝুঁকি কম, ফলন বেশি, ফলে কোকো আবার লাভজনক হতে পারে; ভালো চাষাবাদ চর্চার কর্মসূচিতে শিল্পের সমর্থন দরকার। তাঁর মতে, সরবরাহ নিশ্চিত হলেই দামের অস্থিরতা কমবে, তাই এখন সবচেয়ে জরুরি উৎপাদনশীলতায় বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা।
তিনি তরুণ কৃষকের ঘাটতির কথাও বলেন: কোকোচাষ মানুষ করতে না চাইলে নতুন প্রজন্ম আসবে না। প্রতিবেদনটি ফুডনেভিগেটরের জন্য লিখেছেন পার্লি নিও।
ছবি: ইন্দোনেশিয়ার কোকোচাষি (Indonesia Tanah Airku) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)