সকালে পুকুর পাড়ে গিয়ে যদি দেখেন কয়েকটা মাছ পানির ওপর ভেসে মুখ হাঁ করে আছে, বুঝে নিন বিপদ ঘটেছে আগের রাতেই। কারণটা প্রায় সব সময় একই—পানির নিচে অক্সিজেন কমে যাওয়া, শ্যাওলার আধিক্য কিংবা তলায় জমা বিষাক্ত গ্যাস। পোনা আর খাবারে যত টাকাই ঢালা হোক, চোখে না দেখা এই পানির পরিবর্তনই বেশিরভাগ ক্ষতির মূল কারণ। কয়েকটা লক্ষণ চিনে রাখলে এবং নিয়মিত একটু খেয়াল রাখলে এ ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যায়।
পুকুরের অক্সিজেনের প্রধান উৎস দুটি—বাতাসের সংস্পর্শ আর শ্যাওলার সালোকসংশ্লেষণ। দিনে সূর্যের আলোয় শ্যাওলা অক্সিজেন তৈরি করে, কিন্তু রাত নামলেই উল্টো ঘটনা ঘটে। শ্যাওলা নিজেই মাছের মতো অক্সিজেন গ্রহণ করা শুরু করে। শ্যাওলা বেশি থাকলে রাতের শেষভাগে আর ভোরের দিকে অক্সিজেন সবচেয়ে কমে যায়। তাই মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাও এ সময়েই বেশি ঘটে। টানা দুই-তিন দিন আকাশ মেঘলা বা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলে দিনের বেলাও একই সংকট তৈরি হতে পারে। কারণ তখন শ্যাওলা আলোর অভাবে অক্সিজেন তৈরি না করে উল্টো তা গ্রহণ করতে থাকে।
দুপুরে পুকুরে কনুই পর্যন্ত (প্রায় দেড় ফুট) হাত ডুবিয়ে দেখুন। হাতের তালু স্পষ্ট দেখা গেলে পানি স্বচ্ছ, সমস্যা কম। মাত্র আধহাত (১০-১২ ইঞ্চি) ডোবাতেই তালু আর না দেখা গেলে বুঝবেন শ্যাওলা বা ঘোলাত্ব বেশি, রাতে অক্সিজেন সংকট হতে পারে।
এখন এমন ছোট সেন্সর ডিভাইসের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে; যা পুকুরের তাপমাত্রা, পিএইচ আর অক্সিজেনের মাত্রা নিয়মিত মাপে এবং সমস্যা দেখা দিলে মোবাইলে বার্তা পাঠায়। ফলে রাত জেগে পাহারা না দিয়েও চাষি ঘরে বসে পুকুরের অবস্থা বুঝতে পারেন, আর বিপদ এলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
মাছ মরার পর কারণ খোঁজার চেয়ে আগেভাগে পানির আচরণ বুঝে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পুকুর একটি জীবন্ত পরিবেশ—পানি যত স্বাস্থ্যকর থাকবে, মাছও তত নিরাপদ থাকবে। মাছ চাষির পরিশ্রমও তত সার্থক হবে।
লেখক: কৃষি ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।





মন্তব্য
(০)