শুষ্ক ও শীত মৌসুমে আবহাওয়া রুক্ষ থাকায় দেশজুড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সামান্য অসাবধানতায় বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সম্প্রতি সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পরিবার, সম্পদ ও আশপাশকে নিরাপদ রাখতে অগ্নিনিরাপত্তার কয়েকটি মৌলিক নিয়ম মেনে চলাই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
রান্নাঘর দিয়ে শুরু করা যাক। গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করতে হবে, কারণ গ্যাস জমে থাকা অবস্থায় চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে; চুলা ফুঁ দিয়ে না নিভিয়ে নব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, ঘর বা প্রতিষ্ঠানে ঢোকার পর দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত সময় বাতাস চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। গ্যাসের গন্ধ পেলে বা গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ, আগুন বা দিয়াশলাই জ্বালানো যাবে না; নিরাপদ জায়গা থেকে জরুরি সহায়তা চাইতে হবে।
বৈদ্যুতিক সংযোগ, তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং ত্রুটিপূর্ণ তার ও অতিরিক্ত লোড এড়িয়ে চলা জরুরি। বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ পুরোপুরি নিভিয়ে নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে হবে, শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না, আর দাহ্য বস্তুর গুদামে খোলা বাতি বা মশার কয়েল ব্যবহার করা যাবে না।
বাসাবাড়ি, কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা, তার ব্যবহার শেখা এবং নিয়মিত মহড়া করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছ থেকে অগ্নিপ্রতিরোধ, নির্বাপণ, উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়। হোটেল-রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা ও বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
ভবন নির্মাণের সময় ফায়ার সেফটি প্ল্যান নিয়ে তার সব শর্ত বাস্তবায়ন এবং ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’সহ সংশ্লিষ্ট বিধি মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে। কাছের ফায়ার স্টেশনের নম্বর সংগ্রহে রাখা ভালো; জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করতে হবে।
প্রতিবেদনটি জাগো নিউজের লাইফস্টাইল ডেস্কের প্রতিবেদন অবলম্বনে লেখা।
ছবি: Christine June / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের ব্যবহার, প্রতীকী ছবি
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)