শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চারা গাছের পরিবর্তে ডাল পুঁতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের অভিযোগে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষক হলেন জেলার কাউখালী উপজেলার ১৪ নং মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদার।
এ সংক্রান্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বক্তিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ চলতি মাসের ৬ আগস্ট প্রকাশ করে। বিষয়টি মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে নিশ্চিত করেছেন কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহেদুল ইসলাম।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বৃক্ষরোপণ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গাছের চারা রোপণের পরিবর্তে গাছের ডাল রোপণ করা হয়েছে। এ অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কাউখা০লী উপজেলার সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদারকে গত ১৯ জুলাই চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন সময়ে শুধু মাত্র বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন বলেও এ আদেশে উল্লেখ করা হয়ে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচি অনুযায়ী গত ১৫ জুলাই প্রতিটি বিদ্যালয়ের আঙিনায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে গাছের চারার পরিবর্তে গাছের ডাল রোপণ করান এবং সেই ছবি শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে আপলোড করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ জুলাই কাউখালী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা পান। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে 'সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদার ও বরখাস্তের চিঠি/ ছবি: জাগো নিউজ
এদিকে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পালের বিরুদ্ধে চরিত্র হনন ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়েছেন একই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষিকা।
ওই নারী শিক্ষিকা জানান, এ বিষয়ে আজকে ডিপিও স্যার তদন্ত করেছে। দেখি কী হয়, পরে বিস্তারিত জানাবো।
কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহেদুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গত ১৯ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত কতদিনের জন্য এর কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হয়নি। এছাড়া নারী শিক্ষকের দেওয়া অভিযোগটি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. তরিকুল ইসলাম/এসজেডএইচ/জেআইএম





মন্তব্য
(০)